সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পারবেন, আশাবাদী ইসি মাছউদ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই সঙ্গে অনুষ্ঠেয় গণভোট সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ভোট উপহার দিতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর পূর্ণ সহযোগিতা পাওয়ায় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে কমিশন এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়া সঠিকভাবে পরিচালনায় প্রস্তুত রয়েছে তারা।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।
আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘আমরা মনে করি রাজনৈতিক দলগুলো সব দিক থেকেই আমাদের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছে এবং আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে একটি ভালো ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে।’
কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে কমিশনের ওপর কোনো ধরনের চাপ বা অসহযোগিতার মুখে পড়তে হয়েছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার বলেন, কমিশন এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের চাপের সম্মুখীন হয়নি।
‘আমরা কোনো মহল থেকেই কোনো চাপ পাইনি। সংবিধান অনুযায়ী যে দায়িত্ব আমাদের ওপর অর্পিত হয়েছে, তা আমরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে পালন করছি। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে,’ যোগ করেন তিনি।
নির্বাচনি পরিবেশ প্রসঙ্গে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি সন্তোষজনক রয়েছে।
‘আমরা খুব আশাবাদী। এই পর্যন্ত যত পরিবেশ দেখেছি, তাতে মনে হচ্ছে পরিস্থিতি বেশ ভালো রয়েছে, বলেন তিনি।
ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তারা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে এসে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট প্রদান করেন। তারা যেন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন এবং নাগরিক দায়িত্ব পালন করেন।’
এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার জানান, কোনো অযোগ্য প্রার্থী যদি কোনোভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ীও হন, তবুও পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা কমিশনের রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি যদি অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও কোনোভাবে নির্বাচিত হয়ে যান, তবুও পরবর্তী পর্যায়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আমাদের রয়েছে।’
এ সময় তিনি জানান, অনেক সময় প্রার্থীরা হলফনামা কিংবা আয়-ব্যয়ের বিবরণীতে ভুল বা মিথ্যা তথ্য প্রদান করেন। এই সমস্যার সমাধানে ২০২৫ সালে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) নতুন একটি ধারা ৯১ এফ সংযোজন করা হয়েছে।
নতুন এই ধারার আওতায়, নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও যদি কোনো প্রার্থীর হলফনামা বা আয়-ব্যয়ের বিবরণীতে মিথ্যা তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে নির্বাচন কমিশন তার প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে বলে জানান তিনি।
এসএম/এমএএইচ/