ভোটের আগেই ৪ জনের প্রাণহানি, সারাদেশে ১৪৪ সহিংসতা
জাতীয় নির্বাচন ঘিরে সারাদেশে বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে/এআই দিয়ে তৈরি ছবি
শেরপুরে প্রার্থীদের নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হন। শুধু শেরপুরের ঘটনাই নয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন গত ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে আরও তিনটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
তফসিল ঘোষণার পর সারাদেশে অন্তত ২৫টি জেলা এবং তিনটি মহানগরের বিভিন্ন থানা এলাকায় ১৪৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কুমিল্লা ও লক্ষ্মীপুর জেলায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে চার দফা করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যা অন্য জেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি।
সংঘাতপ্রবণ জেলাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে না পারলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে মনে করেন অপরাধ বিশ্লেষকরা।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ৪৫ দিনে সারাদেশে ১৪৪টি নির্বাচনি সহিংসতার মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ৫৫টি। এছাড়া ভীতি প্রদর্শন এবং আক্রমণাত্মক আচরণের ঘটনা ঘটেছে ১১টি, প্রার্থীর ওপর আক্রমণের ঘটনা ছয়টি, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার দুটি। এর বাইরে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ছয়টি, প্রচারকাজে বাধা প্রদানের ঘটনা ১৭টি, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অফিস ও প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা আটটি, অবরোধ-বিক্ষোভের মতো ঘটনা ১০টি, সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের ঘটনা একটি এবং অন্যান্য ঘটনা ঘটেছে ২৪টি।
গত ১২ ডিসেম্বর থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ৪৫ দিনে সারাদেশে ১৪৪টি নির্বাচনি সহিংসতার মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ৫৫টি। এছাড়া ভীতি প্রদর্শন এবং আক্রমণাত্মক আচরণের ঘটনা ঘটেছে ১১টি, প্রার্থীর ওপর আক্রমণের ঘটনা ছয়টি, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার দুটি।—পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য
শেরপুরের ঘটনা ছাড়াও অন্য তিনটি রাজনৈতিক হত্যার হিসাব দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। এর মধ্যে রয়েছে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনা। তফসিল ঘোষণার পরদিনই গত ১২ ডিসেম্বর তাকে রাজধানীর পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। পরে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এছাড়া গত ২৪ ডিসেম্বর গাজীপুরের শ্রীপুরে জাসাস নেতা ফরিদ সরকার হত্যা ও ১৬ জানুয়ারি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের সমর্থক নজরুল ইসলাম হত্যার তথ্যও দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
আরও পড়ুন
আতঙ্ক বাড়াচ্ছে রাজনৈতিক ‘টার্গেট কিলিং’
শেরপুরে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত
যশোরে বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা
শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথে ‘বড় হুমকি’ অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি
সংঘর্ষ বেশি কুমিল্লায়
পুলিশের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে কুমিল্লা জেলায়। গত ১৯ জানুয়ারি জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সমেশপুর ও তেলিপুকুর এলাকায় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর অফিস ও সমর্থকদের বাড়িতে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুভপুর ও মুন্সীরহাট বাজারে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এরপর গত ২০ জানুয়ারি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার উজিরপুরে ইউনিয়ন জামায়াতের উঠান বৈঠকে নেতাকর্মীরা বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। এরই জেরে বিএনপি নেতাকর্মীরা জামায়াত নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত হয়। এসময় কিছু চেয়ার ও একটি গাড়ির সামনের গ্লাস ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। এসময় আহত হন তিন থেকে চারজন।
দেশে এ ধরনের সংঘাতের অন্যতম কারণ হলো প্রার্থীদের মধ্যে গণতান্ত্রিক দূরত্ব। অনেক ক্ষেত্রে একজন প্রার্থী তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে গণতান্ত্রিক প্রতিযোগী হিসেবে না দেখে তাকে নাজেহাল না করলে বিজয় নিশ্চিত হবে না—এমন মানসিকতা পোষণ করেন। এমন মানসিকতা থেকেই নির্বাচনি সংঘাত ও সহিংসতার সূত্রপাত হয়।—অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক
এ ঘটনার ঠিক দুদিন পর ২২ জানুয়ারি কুমিল্লার হোমনা থানা এলাকার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড ওভারব্রিজের নিচে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এমএ মতিনের বহরে হামলা ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে সেনাবাহিনী সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সেখান থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। সবশেষ ২৫ জানুয়ারি কুমিল্লা সদরে নির্বাচনি প্রচারণা ঘিরে সংঘাত দেখা যায়।
কুমিল্লার পর প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে লক্ষ্মীপুরে। গত ১৫ জানুয়ারি জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার চরশাহী ইউনিয়নের সৈয়দপুর বটতলা এলাকায় জামায়াতের কয়েকজন নারীকর্মী বাড়ি বাড়ি গিয়ে লিফলেট বিতরণ এবং নারীদের এনআইডি কার্ডের ছবি ও বিকাশ বা নগদ নম্বর সংগ্রহ করছেন—এমন সংবাদ পেয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা গিয়ে তাদের বাধা দেন। পরে স্থানীয় জামায়াতপন্থি নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এলে দুপক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপির চার-পাঁচজন এবং জামায়াতের একজন সমর্থক আহত হন।
পরদিন ১৬ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুরের ওই ইউনিয়নেই জামায়াত-বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে আবার সংঘর্ষ হয়। এরপর গত ২২ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুরের সদর থানার রিফিউজি মার্কেট এলাকায় জামায়াত এবং ছাত্রশিবির কর্মীদের লিফলেট বিতরণকে কেন্দ্র করে বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের একজন করে আহত হন।
গত ২৫ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে জামায়াত সমর্থকদের নির্বাচনি প্রচারণায় বিএনপি সমর্থকরা বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারি বাঁধে। এতে জামায়াত সমর্থক তারেক ইসলাম আহত হয়ে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
নির্বাচনে কাউকে আইন ভঙ্গ করতে দেওয়া যাবে না। বেআইনি কাজ করলে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। কথায়, কাজে, আচরণে, ঘোষণায় ও বাস্তবায়নে নিরপেক্ষতা প্রদর্শন করতে হবে।—স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর ও শেরপুরসহ ঘটেছে অন্তত ২৫টি জেলা ও তিনটি মহানগরে। এর মধ্যে পাবনার সাঁথিয়া ও চাটমোহর, বগুড়ার নন্দীগ্রাম, ধুনট ও শিবগঞ্জ; টাঙ্গাইলের সদর, বাসাইল ও গোপালপুর; কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া, অষ্টগ্রাম ও সদর; ফরিদপুরের কোতোয়ালি ও ভাঙ্গা; লালমনিরহাটের পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার মিরপুর মডেল ও খিলক্ষেত থানা এলাকায় এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পাশাপাশি মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী, পদ্মা সেতু (উত্তর) থানা; সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া; পটুয়াখালীর বাউফল ও গলাচিপা; ময়মনসিংহের গফরগাঁও ও ভালুকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটনের পতেঙ্গা ও বন্দর থানা এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এর বাইরে নওগাঁর নিয়ামতপুর ও রানীনগর, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা ও সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ ও সদর, নেত্রকোনার কেন্দুয়া, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ; রাজশাহী মেট্রোপলিটনের শাহমখদুম, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, বরিশালের মুলাদী, গাইবান্ধার সাঘাটা, মেহেরপুরের সদর, ফেনীর ছাগলনাইয়া, শরীয়তপুরের পালং এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানা এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ভীতি প্রদর্শন বা আক্রমণাত্মক আচরণ
গত ১৬ ডিসেম্বর দুপুরের দিকে নেত্রকোনার আটপাড়া থানার পিয়াজকান্দি এলাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে রাস্তায় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতকারীরা খড় দিয়ে অগ্নিসংযোগ করে। পরে পুলিশ সেখান থেকে স্কচটেপ প্যাঁচানো ৬টি ককটেল সাদৃশ্য বস্তু এবং একটি চিরকুট উদ্ধার করে। চিরকুটে লেখা ছিল—‘ইলেকশন নির্মূল কমিটি’।
৪ জানুয়ারি সকাল ৯টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়া থানার মধ্য রাজাপালং এলাকায় কক্সবাজার-৪ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীর বাসায় ডাক বিভাগের মাধ্যমে অজ্ঞানপরিচয় দুষ্কৃতকারীরা একটি চিঠিসহ কাফনের কাপড় পাঠান। চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে—‘তিনি যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন, তাহলে তাকে শরিফ ওসমান হাদির মতো ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।’
প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ
গত ১৪ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার কারিগরি স্কুলে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন নির্বাচনি বৈঠক শেষে স্কুলের পরিচালক শফিকুল ইসলাম মাস্টারের বাড়িতে দুপুরের খাবার খেয়ে চলে যান। পরে পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুস সাত্তারের ছেলে ছানি ও সামীর নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে শফিকুল মাস্টারের ওপর হামলা করে মারধর করেন।
১৯ জানুয়ারি টাঙ্গাইল সদর থানার শান্তিকুঞ্জ মোড় এলাকায় টাঙ্গাইল-৫ আসনের বিএনপির প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সমর্থকদের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবালের অনুসারীদের বাগবিতণ্ডা ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ দুজন আহত হন।
আরও পড়ুন
নির্বাচন ঘিরে মাদকের বাজার রমরমা, ৩২ জেলায় ‘রেড অ্যালার্ট’
২০২৫ সালে বেড়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন-চুরি-খুন-অপহরণ
‘ঝুঁকিপূর্ণ’ কেন্দ্রে সুষ্ঠু ভোট করাই পুলিশের ‘মাথাব্যথা’
পরদিন ২০ জানুয়ারি রাজধানীর মিরপুর মডেল থানার মধ্য পীরেরবাগ বোম্বাই গলিতে জামায়াতের নারী কর্মীদের ভোটারদের এনআইডি নম্বর, নাম, জন্মতারিখ ও মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এসময় মিরপুর থানা ছাত্রশিবিরের সভাপতিসহ জামায়াতের ৬০-৭০ জন নেতাকর্মীর সঙ্গে বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জামায়াত নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিলে তাদের মধ্যে ১০-১২ জন আল মোবারক জামে মসজিদে আশ্রয় নেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, নির্বাচনে কাউকে আইন ভঙ্গ করতে দেওয়া যাবে না। বেআইনি কাজ করলে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, আইন প্রয়োগ ও নির্বাচনি আচরণবিধি প্রতিপালনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অধ্যাদেশ এবং সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত পরিপত্র, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আত্মস্থ ও অনুসরণ করতে হবে। কথায়, কাজে, আচরণে, ঘোষণায় ও বাস্তবায়নে নিরপেক্ষতা প্রদর্শন করতে হবে।
নির্বাচনি প্রচারে সব প্রার্থীর সমান অধিকার নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, ‘নির্বাচন ঘিরে সংঘাত-সংঘর্ষের বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
‘পাশাপাশি নির্বাচনি প্রচারণায় সব প্রার্থীর সমান অধিকার নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। কেউ প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে তাকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাকি সময়টুকু পুলিশ আরও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করবে’- বলেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘যেসব জেলায় নির্বাচনি সংঘর্ষ বেশি হচ্ছে, সেগুলো চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। দলীয়ভাবে কর্মীদের সংযত করতে যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়, তা একটি দুর্বল উদ্যোগ। এ ধরনের পদক্ষেপ দিয়ে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনি সহিংসতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে এবং আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে। শুধু বিবৃতি বা শোকজের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।’ সংঘাতপ্রবণ এলাকাগুলোতে নির্বাচন কমিশন যদি এক বা একাধিক আসনে কঠোর পদক্ষেপ নেয়, তাহলে অনেকেই সহিংস কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবে বলে তিনি মনে করেন।
নির্বাচনি সহিংসতার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘দেশে এ ধরনের সংঘাতের অন্যতম কারণ হলো প্রার্থীদের মধ্যে গণতান্ত্রিক দূরত্ব। অনেক ক্ষেত্রে একজন প্রার্থী তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে গণতান্ত্রিক প্রতিযোগী হিসেবে না দেখে তাকে নাজেহাল না করলে বিজয় নিশ্চিত হবে না—এমন মানসিকতা পোষণ করেন। এমন মানসিকতা থেকেই নির্বাচনি সংঘাত ও সহিংসতার সূত্রপাত হয়।’
টিটি/এমকেআর/জেআইএম