সেই শিশুর খোঁজ নিলেন প্রধান উপদেষ্টা, হাসপাতালে গেলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা
গাজীপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সেই শিশুর খোঁজ নিতে বিমান উপদেষ্টাকে পাঠিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা/ছবি সংগৃহীত
গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সেই শিশু গৃহকর্মীর চিকিৎসার খোঁজ নিয়েছেন বাণিজ্য এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপদেষ্টা হাসপাতালে যান। এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বিমানের এমডি ড. হুমায়রা সুলতানা, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেন এবং হাসপাতালের পরিচালক ডা. আমিনুল ইসলাম সঙ্গে ছিলেন।
উপদেষ্টা ওই শিশুর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকদের কাছ থেকে বিস্তারিত খোঁজ নেন। উপস্থিত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
তিনি শিশুটির চিকিৎসার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
ওই শিশুকে উপদেষ্টা বলেন, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বর্তমান সরকারের প্রধান, তোমার খোঁজ নিতে আমাকে তোমার কাছে পাঠিয়েছেন। তোমার আর ভয়ের কোনো কারণ নেই, আমরা তোমার পাশে আছি।
আরও পড়ুন
বিমানের এমডির বাসায় ৭ মাস ‘নরক যন্ত্রণায়’ ছিল সেই গৃহকর্মী শিশুটি
‘শিশুটিকে গরম খুন্তির সেঁকা দেওয়া হতো’, স্ত্রীসহ বিমানের এমডি কারাগারে
হাসপাতালে থাকা অবস্থায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাণিজ্য উপদেষ্টাকে ফোনও করেন। সে সময় প্রধান উপদেষ্টা শিশুর শারীরিক কুশলাদি সম্পর্কে জানতে চান।
প্রধান উপদেষ্টার উদ্ধৃতি দিয়ে বিমান উপদেষ্টা বশিরউদ্দীন বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন- এই শিশুর সঙ্গে যে আচরণ হয়েছে তা জাতির জন্য লজ্জাজনক। এসময় তিনি চিকিৎসাব্যয়সহ তার সব দায়িত্ব সরকার বহন করবে বলে জানান।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, একটি শিশুর প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। দুনিয়া ও আখিরাতে নিষ্ঠুরতাকারীরা শাস্তি পাবে।
এসময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন শিশুটির বাবাকে একটি চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস দেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমানের বাসায় নির্যাতনের শিকার হয় ওই গৃহকর্মী। পরে তাকে ৩১ জানুয়ারি গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ২ ফেব্রুয়ারি সাফিকুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। পরে বরখাস্ত করা হয়।
এনএইচ/বিএ