‘শিশুটিকে গরম খুন্তির সেঁকা দেওয়া হতো’, স্ত্রীসহ বিমানের এমডি কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৪৩ পিএম, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ চার আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে/ছবি: জাগো নিউজ

শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই রোমের মিয়া আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

এরপর আদালতে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম শুনানি শেষে জামিন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গতকাল রোববার দিনগত গভীর রাতে উত্তরার বাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ। সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বীথি ছাড়াও গ্রেফতার অন্য দুই আসামি হলেন- বাসার দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগম।

এদিন আসামিদের পক্ষে জামিন চেয়ে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই তাহমিনা আক্তার জামিনের বিরোধিতা করেন।

আরও পড়ুন
শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতন, স্ত্রীসহ বিমানের এমডি গ্রেফতার

শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনায় তার হোটেল কর্মচারী বাবা গোলাম মোস্তফা গতকাল রোববার বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে সাফিকুর রহমানের বাসা। বাসার নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর বাচ্চা দেখাশোনার জন্য অল্প বয়সী মেয়ে খুঁজছিলেন। পরে গোলাম মোস্তফার সঙ্গে তার দেখা হয়।

মেয়ের বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহন করার প্রতিশ্রুতি পেয়ে গোলাম মোস্তফা গত বছরের জুনে তার মেয়েকে সাফিকুর রহমানের বাসায় কাজে পাঠান। সর্বশেষ তিনি গত ২ নভেম্বর ওই বাসায় গিয়ে মেয়েকে দেখে আসেন। এরপর মেয়েটিকে তার পরিবারের সঙ্গে আর ‘দেখা করতে দেওয়া হয়নি’ বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৩১ জানুয়ারি আসামি বীথি ফোন করে গোলাম মোস্তফাকে তার মেয়ের অসুস্থতার কথা জানান। তাকে নিয়ে যেতে বলেন। মেয়েকে আনতে গেলে ওইদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে মোস্তফার কাছে মেয়েটিকে বুঝিয়ে দেন বীথি।

মামলার বাদী মোস্তফা অভিযোগে জানান, ওই বাসা থেকে মেয়েকে নিয়ে আসার সময়ই মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম দেখতে পান তিনি। মেয়েটি তখন ভালোভাবে কথাও বলতে পারছিল না। এ অবস্থার কারণ জানতে চাইলে বীথি সদুত্তর দিতে পারেননি।

এরপর মেয়েকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। মেয়েটি তখন তার বাবাকে জানায়, ওই বাসায় বিভিন্ন সময়ে তাকে নির্যাতন করা হতো। মারধরের পাশাপাশি খুন্তি গরম করে শরীরে সেঁকাও দেওয়া হতো।

এদিকে, উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক আহমেদ জানিয়েছেন, ১১ বছর বয়সী শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়েরের পর রোববার দিনগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ তাদের বাসায় থাকা আরও দুই গৃহকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়।

এমডিএএ/এমকেআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।