ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির গেজেট প্রকাশ, যেভাবে চলবে কার্যক্রম
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির গেজেট প্রকাশ, যেভাবে চলবে কার্যক্রম/ফাইল ছবি
রাজধানীর সরকারি সাত কলেজকে সংযুক্ত করে নবগঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির চূড়ান্ত অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ কর্তৃক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে গেজেট প্রকাশ করা হয়।
এর আগে গত ২২ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ অধ্যাদেশের চূড়ান্ত খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৬’ অনুমোদিত হয়েছে। ঢাকার সাতটি সরকারি কলেজকে একই অ্যাকাডেমিক কাঠামোর আওতায় এনে উচ্চশিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জট নিরসনই এ অধ্যাদেশের মূল লক্ষ্য।
এতে আরও বলা হয়, নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ সংযুক্ত কলেজ হিসেবে পরিচালিত হবে। কলেজগুলোর নিজস্ব পরিচয়, অবকাঠামো ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ওপর তাদের অধিকার অক্ষুণ্ন থাকবে।
বিজ্ঞপ্তিতে অনুযায়ী, অধ্যাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আচার্য, উপাচার্য, সিনেট, সিন্ডিকেট ও অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলসহ পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো রাখা হয়েছে। আচার্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করবেন ও সিনেট মনোনীত প্যানেল থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেবেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) শিক্ষা, পরীক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিদর্শন, মূল্যায়ন ও নির্দেশনার ক্ষমতা পাবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে কলা, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, আইন ও চারুকলাসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের পৃথক পৃথক স্কুল থাকবে। প্রতিটি স্কুলের নেতৃত্বে থাকবেন একজন ‘হেড অব স্কুল’। সংযুক্ত কলেজগুলোতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঠদান, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিন্ন সময়সূচি ও মূল্যায়ন কাঠামো অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল এবং কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা মূল ক্যাম্পাস বা সংযুক্ত কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি কলেজগুলোতে কেন্দ্রীয়ভাবে এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হবে এবং শিক্ষক উন্নয়ন ও উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অধ্যাদেশে আবাসিক হল সুবিধা, ছাত্রসংসদ নির্বাচন ও শিক্ষার্থীদের জন্য সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম চালুর বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কথাও বলা হয়েছে। নিজস্ব ক্যাম্পাস নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এএএইচ/এমআরএম