ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি

মাসুদ রানা | প্রকাশিত: ০৬:০৪ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আর মাত্র কয়েকদিন পর শেষ হচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ। আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) শেষ অফিস করেছেন সরকারের উপদেষ্টারা। এছাড়া এরই মধ্যে নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।  

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও বঙ্গভবন নতুন মন্ত্রিসভার শপথ এবং মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে আনুষঙ্গিক কাজ শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।  

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এ নির্বাচনে বিজয়ীরা সরকার গঠন করবেন। তবে, নবনির্বাচিত সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যরা কবে শপথ নেবেন সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি।

নতুন মন্ত্রিসভা কত সদস্যবিশিষ্ট হবে সেটা নির্ধারণ করবে নির্বাচনে বিজয়ী দল। তবে বিগত সরকারগুলোর মতো মন্ত্রিসভার আকার ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচনের পরই সংসদ সদস্যদের শপথ। এরপর শপথ নেবেন মন্ত্রিসভার সদস্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা।

রীতি অনুযায়ী মন্ত্রিসভার শপথ হয় বঙ্গভবনে। এরই মধ্যে শপথের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে বঙ্গভবন কর্তৃপক্ষ। শপথ অনুষ্ঠানের জন্য ফোল্ডার তৈরি, সম্ভাব্য আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকার বিষয়েও কাজ হচ্ছে। এ বিষয়ে বঙ্গভবন ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একত্রে কাজ শুরু করেছেন।   

নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের গাড়ি প্রস্তুতের কাজ করছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর (পরিবহন পুল)।  

১৯৯১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মন্ত্রিসভাগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সবচেয়ে ছোট মন্ত্রিসভা ছিল ৩৭ সদস্যের, সবচেয়ে বড় মন্ত্রিসভা ছিল ৬২ সদস্যের। ফলে মোটামুটি ৪০ থেকে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা ধরে প্রস্তুতির কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।  

নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণের আগে পর্যন্ত বহাল থাকবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন সরকার গঠন করা হবে।   

আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট জারি হতে পারে বলে জানিয়ে একজন উপদেষ্টা বলেন, এরপরই মূলত সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। 

আরও পড়ুন
প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ 
হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশ কি তারেক রহমানকেই চাইছে? 

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও পরিবহন সূত্রে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য গাড়ি প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সর্বোচ্চ সংখ্যা ৫০ জন ধরে নিয়ে গাড়ি প্রস্তুত করা হচ্ছে।  

নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে শপথ নেন নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। এরপর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করা হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথের মাধ্যমে গঠিত হয় নতুন সরকার।  

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ। এবার শপথ অনুষ্ঠানে কোনো বিতর্কিত ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানো হবে না বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।  

পরিবহন পুলের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, আমাদের কাছে যে গাড়ি আছে সেগুলো এবং বর্তমান উপদেষ্টাদের কাছে থাকা গাড়িগুলো নিয়ে নতুন মন্ত্রিসভার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। কতটি গাড়ি লাগবে সে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নির্বাচনের পরে এ বিষয়ে আমাদের জানাবে। আমাদের কাছে থাকা গাড়ি এবং উপদেষ্টাদের গাড়ি মিলিয়ে অর্ধশত গাড়ির প্রস্তুতি আমরা রাখছি।  

যারা নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার আমন্ত্রণ পাবেন, তাদের বাসা থেকে বঙ্গভবনে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাঠানো হবে এসব গাড়ি।  

এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, নতুন মন্ত্রিসভার জন্য কতটি গাড়ি লাগবে সেটি চূড়ান্ত করবে নির্বাচনে বিজয়ী দল, যারা সরকার গঠন করবে। তবে আমরা প্রস্তুতিমূলক হিসেবে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক গাড়ি প্রস্তুত রাখছি।  

সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের পরিবহন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. খায়রুল কবীর মেনন জাগো নিউজকে বলেন, প্রস্তুতি হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা প্রয়োজনীয় সংখ্যক গাড়ি প্রস্তুত রাখছি। তবে ঠিক কতগুলো গাড়ি লাগবে সেটা শপথের দিন আমাদের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বলা হবে। সে অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেবো।  

সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি গঠিত হয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভা। ওই মন্ত্রিসভায় সদস্য ছিল প্রধানমন্ত্রীসহ ৩৭ জন। পরে ১ মার্চ আরও সাতজন প্রতিমন্ত্রীকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা হয় প্রধানমন্ত্রীসহ ৪৪ জন। এরমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ জন মন্ত্রী ও ১৮ জন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। পাঁচ বছরের জন্য মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। তবে এ মন্ত্রিসভা প্রায় সাত মাসের মাথায় ওই বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে বিলুপ্ত হয়।

এরপর ৮ আগস্ট গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সর্বশেষ এ সরকারে প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও ২০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন। 

আরএমএম/কেএসআর