ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

নতুন মন্ত্রিসভা গঠন পর্যন্ত যেভাবে কাজ করবেন উপদেষ্টারা 

মাসুদ রানা | প্রকাশিত: ০৩:৩৩ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি)। ভোটের ছুটির আগে গতকাল মঙ্গলবার অনেকটা শেষ কর্মদিবসের মতো করে অফিস করেছেন উপদেষ্টারা।

তবে বিধি-বিধান অনুযায়ী, নতুন মন্ত্রিসভা গঠন পর্যন্ত বহাল থাকবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যদিও ভোটের পর নতুন সরকার গঠন পর্যন্ত নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগের বিষয়ে উপদেষ্টাদের মধ্যে মতভিন্নতা রয়েছে।  

কোনো কোনো উপদেষ্টা মনে করেন, ভোটের পর নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হওয়ার আগে পর্যন্ত নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ নৈতিকভাবে ঠিক নয়। তাই তারা আর অফিস আসবেন না কিংবা কোনো ফাইলেও সই করবেন না।  

আবার কোনো কোনো উপদেষ্টা বলছেন, নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ নেওয়ার আগ পর্যন্ত বর্তমান সরকারের স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যেতে কোনো আইনগত বাধা নেই। তারা আগামী রোববারও (১৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অফিস করবেন।

তবে, কোনো কোনো উপদেষ্টা গতকাল মঙ্গলবারই সচিবালয় থেকে একেবারে বিদায় নিয়ে গেছেন। নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হওয়া পর্যন্ত তারা সরকারি বাসায় বসেই দাপ্তরিক কাজকর্ম সারবেন। 

ভোটের জন্য বুধ ও বৃহস্পতিবার (১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি) নির্বাহী আদেশে ছুটি। এরপর শুক্র ও শনিবার (১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি) দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি।  

মঙ্গলবার অফিস শেষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, আজ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শেষ কার্যদিবস অতিবাহিত করেছি। যদিও আইন অনুযায়ী নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ পর্যন্ত আমি উপদেষ্টা পদে বহাল থাকবো, নির্বাচনের পর নৈতিক বিবেচনায় আমি আর কোনো নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার থেকে বিরত থাকবো।   

নৌ-পরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, নতুন মন্ত্রিসভা গঠন হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের দায়িত্ব চালিয়ে যেতে কোনো বাধা নেই। প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয় থেকেও কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। আমরা শেষ সময় পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাবো।  

আরও পড়ুন
নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি 
দ্রুততম সময়ে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর: প্রধান উপদেষ্টা 

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম (বীর প্রতীক) জাগো নিউজকে বলেন, ভোটের পরেও নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত আইনগতভাবে আমরা কাজ চালিয়ে যেতে পারবো। আগামী রোববারও আমি সচিবালায় অফিস করবো।

বাণিজ্য, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের দপ্তরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান, উপদেষ্টা আগামী রোববার সচিবালয়ে অফিস করবেন। তবে জমে থাকা কোনো কাজ নেই, ফাইলপত্র সই করার মতো তেমন বিষয় নেই।  

ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, আমি মঙ্গলবারই সচিবালয় থেকে একেবারে বিদায় নিয়ে চলে এসেছি। সরকারি বাসায়ও আমার একটি অফিস আছে, নতুন সরকার না আসা পর্যন্ত আমি সেখানেই অফিস করবো। কর্মকর্তারা এখানেই ফাইলপত্র নিয়ে আসবেন।  

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদে প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও ২০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন।  

প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের মেয়াদ শেষ এবং নতুন প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীদের দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে সংবিধানের ৫৭ (৩) ও ৫৮ (৪) অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে। সংবিধানের ৫৭ (৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে স্বীয় পদে বহাল থাকতে এই অনুচ্ছেদের কোনো কিছুই অযোগ্য করবে না। 

৫৮ (৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের উত্তরাধিকারীরা কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তারা নিজ নিজ পদে বহাল থাকবেন।

ভোট শেষে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হতে পারে। এরপর প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথ ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারি হতে পারে বলে সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।   

১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন সরকার গঠন হবে বলে এরই মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে। 

আরএমএম/কেএসআর