ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

শপথ ছাড়া সংসদ সদস্যের আসনে বসলে গুনতে হয় জরিমানা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৫:৩২ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য (এমপি) ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। শপথগ্রহণের মধ্য দিয়েই তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। শপথ না নিয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে আসন গ্রহণ করলে অর্থদণ্ড বা জরিমানা দিতে হয়। 

এ বিষয়ে সংবিধানের ৬৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে ‘কোন ব্যক্তি এই সংবিধানের বিধান অনুযায়ী শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা করিবার এবং শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করিবার পূর্বে কিংবা তিনি সংসদ সদস্য হইবার যোগ্য নহেন বা অযোগ্য হইয়াছেন জানিয়া সংসদ সদস্যরূপে আসনগ্রহণ বা ভোটদান করিলে তিনি প্রতিদিনের অনুরূপ কার্যের জন্য প্রজাতন্ত্রের নিকট দেনা হিসাবে উসুলযোগ্য এক হাজার টাকা করিয়া অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।’

অর্থাৎ শপথ ছাড়া সংসদে বসা বা ভোট দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। 

শপথ কেন গুরুত্বপূর্ণ

শপথ কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিক ও আইনি ভিত্তি সুদৃঢ় করার অপরিহার্য ধাপ। সংবিধান অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য শপথগ্রহণ না করলে তিনি সংসদ অধিবেশনে অংশ নিতে বা ভোট দিতে পারেন না। একইভাবে মন্ত্রীরাও শপথ ছাড়া দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন না। 

শপথের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিরা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন রক্ষা ও মান্য করার অঙ্গীকার করেন। তারা ঘোষণা করেন যে, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে দেশের সংবিধান ও আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন। মন্ত্রীরা শপথে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা রক্ষা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতিও দেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শপথ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি)। ২৯৭টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ২৯৭ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে নির্বাচিত এমপিদের গেজেট প্রকাশ করা হয়।

আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে এসব এমপিকে শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এরপর নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ হবে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শপথ পড়াবেন। 

সরকার গঠনের প্রক্রিয়া

৩০০ আসনের সংসদে এককভাবে সরকার গঠন করতে কমপক্ষে ১৫১টি আসন প্রয়োজন। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল সরকার গঠনের সুযোগ পায়। নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের শপথের পর পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভায় দলনেতা নির্বাচিত হন। এরপর দলনেতা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের দাবি জানান। রাষ্ট্রপতি তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। পরে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সদস্যদের নির্বাচন করেন এবং রাষ্ট্রপতি তাদের শপথ করান। 

সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মন্ত্রিসভায় একজন প্রধানমন্ত্রী থাকবেন এবং তার পরামর্শ অনুযায়ী অন্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী নিয়োগ পাবেন। তবে মন্ত্রিসভার অন্তত ৯০ শতাংশ সদস্য সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে হতে হবে, সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে (টেকনোক্র্যাট) নেওয়া যাবে। 

সংসদ সদস্যদের সুযোগ–সুবিধা 

সংসদ সদস্যদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট (রিমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস), ১৯৭৩’ অনুযায়ী, যা সর্বশেষ ২০১৬ সালে সংশোধিত হয়।

আইন অনুযায়ী একজন এমপি পান- মাসিক ৫৫ হাজার টাকা মূল বেতন, ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্বাচনি এলাকা ভাতা, ৫ হাজার টাকা আপ্যায়ন ভাতা, ৭০ হাজার টাকা পরিবহন ভাতা (জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতনসহ), ১৫ হাজার টাকা অফিস ব্যয় ভাতা, ১ হাজার ৫০০ টাকা লন্ড্রি ভাতা, ৬ হাজার টাকা বিবিধ ব্যয় ভাতা এবং ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা।

এছাড়া রয়েছে শুল্ক ও করমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ, বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা বা সমমূল্যের ট্রাভেল পাস, অধিবেশন বা কমিটিতে উপস্থিতির ভিত্তিতে দৈনিক ভাতা, সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা সুবিধা, ১০ লাখ টাকার বিমা সুবিধা, বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহারের সুযোগ এবং বাসভবনে সরকারি টেলিফোন সংযোগ ও মাসিক ৭ হাজার ৮০০ টাকা টেলিযোগাযোগ ভাতা।

এমএএস/এসএইচএস