ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

১৮ মাসে একদিনও গণমাধ্যমের মুখোমুখি হননি প্রধান উপদেষ্টা

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল | প্রকাশিত: ০৩:০০ পিএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১৮ মাসে একবারও সরাসরি গণমাধ্যম কর্মীদের মুখোমুখি হননি। এ তথ্য জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

প্রধান উপদেষ্টার গণমাধ্যমের সামনে না আসার কারণ ব্যাখ্যা করে প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, উন্নত বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানরা সাধারণত সরাসরি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন না। এটাই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড। প্রেস উইংয়ের মাধ্যমেই বিভিন্ন বিষয়ে গণমাধ্যমকে অবহিত করা হয় এবং প্রশ্নের জবাব দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ ও আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। পরে ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ১৩ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ পান আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির ঢাকা ব্যুরো প্রধান শফিকুল আলম। প্রেস উইংয়ে উপ-প্রেস সচিব হিসেবে আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ও অপূর্ব জাহাঙ্গীর, জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রেস সচিব হিসেবে ফয়েজ আহম্মদ এবং সহকারী প্রেস সচিব হিসেবে সুচিস্মিতা তিথি ও নাঈম আলীকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

যেভাবে কাজ করেছে প্রেস উইং

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সপ্তাহে তিন থেকে চারদিন নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার বাইরে থেকেও মাঝে মাঝে ব্রিফিং ডাকা হয়েছে। প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা এসব সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন।

ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত, নীতিগত ঘোষণা ও চলমান কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। বেশিরভাগ সময় ব্রিফ করেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। তাদের সঙ্গে উপস্থিত থাকেন প্রেস উইংয়ের অন্য কর্মকর্তারাও।

প্রেস ব্রিফিংয়ের বাইরে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সচিত্র সংবাদ, প্রেস রিলিজ ও ভিডিও সরবরাহ করা হয়েছে।

সীমিত কভারেজ, নেই সরাসরি প্রশ্নের সুযোগ

প্রধান উপদেষ্টার বিভিন্ন অনুষ্ঠান কভার করতে পুলিশের বিশেষ শাখার যাচাই-বাছাই শেষে নির্দিষ্ট সংখ্যক সাংবাদিককে বিশেষ পাস দেওয়া হয়। শতাধিক সাংবাদিক এসব অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সরাসরি কথা বলা বা প্রশ্ন করার সুযোগ পাননি।

বিভিন্ন সময় সংবাদ সম্মেলনের আগে ও পরে সাংবাদিকরা প্রেস সচিবের কাছে জানতে চান- দায়িত্ব ছাড়ার আগে প্রধান উপদেষ্টা কি গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন? জবাবে প্রেস সচিব উন্নত বিশ্বের উদাহরণ টেনে বলেন, আন্তর্জাতিক প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপ্রধানরা সাধারণত প্রেস উইংয়ের মাধ্যমেই যোগাযোগ রক্ষা করেন; বিশেষ পরিস্থিতি বা বিদেশি ভিভিআইপি সফরের সময় সরাসরি ব্রিফিং হয়।

গণমাধ্যমে হতাশা

দীর্ঘ দেড় বছর ধরে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন কভার করা একাধিক সাংবাদিক হতাশা প্রকাশ করে বলেন, প্রধান উপদেষ্টা অন্তত একদিনের জন্যও গণমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন না- এই আক্ষেপ থেকে যাবে।

এমইউ/এএমএ