১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশ
জনরায় অমান্য করলে ফ্যাসিবাদের পরিণতি বরণ করতে হবে
জনরায় অমান্য করা হলে বিএনপিকেও ফ্যাসিবাদের পরিণতি বরণ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ১১ দলীয় ঐকের নেতারা। তারা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পরবর্তী সময়ে সারাদেশে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যা, ধর্ষণ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুটপাট চলছে। ১৭ বছরের মজলুম দলটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পেয়ে জালিম হতে শুরু করেছে। বিতর্কিত একটি নির্বাচন দেখেছে বাংলাদেশ। নির্বাচনি ফলাফল টেম্পারিং করার মাধ্যমে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে সরাসরি সহযোগিতা করেছে ইসি।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে জাতীয় মসজিদ বাইতুল মাকাররমের উত্তর গেটে নির্বাচনোত্তর ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, খুন, ধর্ষণের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল পল্টন থেকে শাহবাগ গিয়ে শেষ হয়। এতে ১১ দলীয় ঐকের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।
বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ যে স্বপ্ন দেখেছিল তা নির্বাচনের ম্যানিপুলেশন, অনিয়ম ও পরবর্তী সহিংসতা শেষ করে দিয়েছে। ফলাফল ঘোষণায় যে অনিয়ম হয়েছে, নির্বাচন কমিশনকে সেখানে কোনো টালবাহানা ছাড়াই তদন্ত করতে হবে। অনিয়মের নির্বাচনে জিতে হামলা-ধর্ষণ আমাদের আবার ফ্যাসিবাদের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদে ‘না’ ভোট ও ধানের শীষের ভোট সমান হয়েছে অনেক কেন্দ্রে। তারা ‘না’ ভোটের ক্যাম্পেইন করেছে। নির্বাচনের পর পেইড বুদ্ধিজীবীরা বলছে সরকার মানতে বাধ্য নয়। ফ্যাসিবাদের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে যদি জনরায় অমান্য করা হয়, তাহলে ওদেরকে ফ্যাসিবাদের পরিণতি বরণ করতে হবে। শহীদ ওসমান হাদীর বিচার শেষ করতে হবে। জুলাই আন্দোলনের হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে। নতুন রাষ্ট্র গঠনের সনদ মেনে নিতে হবে। একচুল পরিবর্তন জনগণ মেনে নেবে না।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘বিতর্কিত নির্বাচনের পর এ প্রতিবাদ সমাবেশ। আমরা আশা করেছিলাম জনগণ ব্যালটের অধিকার ফিরে পাবে। কিন্তু জনগণের সঙ্গে নির্মম তামাশা করা হয়েছে। সারাদিন শান্তিপূর্ণ ভোটের পর টার্গেটকৃত প্রার্থীদের সংসদে যাওয়া ঠেকাতে ডিপস্টেট ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে।’
তিনি বলেন, ‘এ নির্বাচনের পর সারাদেশে পৈশাচিকতা হয়েছে। নারীদের ধর্ষণ, নিপীড়ন, বাড়িঘর জ্বালানোর মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ ফেরানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু জনগণ ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ করবে। যারা ফ্যাসিবাদের পথ তৈরি করবে, তারাই সে পথে দিল্লিতে পালাবে।’
বাংলাদেশ নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘ওরা শুধু ভোট চুরি করেনি, বরং ডাকাতি করেছে। পার্লামেন্টে যে ভোট ডাকাতরা গেছে, তাদের ১১ দল রাজপথে জবাব বুঝে নেবে।’
তিনি বলেন, ‘ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে মাঠে গেছি। সরকার ও প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানাব দ্রুত বিচার করার। আমাদের এতদিন বলা হয়েছে নির্বাচন ও বিচার মুখোমুখি না করার। আমরা মরিয়া প্রমাণ করেছি আমরা নির্বাচনবিরোধী নই। আমরা বাংলাদেশে গণতন্ত্র চাই, সংস্কারে জনগণ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ম্যান্ডেট দিয়েছে। চাঁদাবাজি, দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে ‘
জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, ‘২০২৪ সালের ডামি ভোটের পর ২০২৬ সালে হয়েছে ম্যানেজ ভোট। পুলিশকে, প্রশাসনকে, কমিশনকে ম্যানেজ করে ভোট ম্যানিপুলেশন করা হয়েছে। ভোটের পর তারা হামলে পড়েছে বিরোধীদের ওপর। কিন্তু আমরা বলে দিতে চাই, মজলুমরা থামতে জানে না।’
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘টিআইবি রিপোর্টে আজ স্পষ্ট কীভাবে সর্বস্তরে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের মধ্যে কলঙ্ক লেগেছে। অতিদ্রুত তদন্ত করে এ কলঙ্ক মোচন করুন।’
এসইউজে/আরএইচ