কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের আশা সাধারণ মানুষের
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় মানুষের ভিড়, ছবি: জাগো নিউজ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শপথগ্রহণ ঘিরে রাজধানীর সংসদ ভবন, মনিপুরী পাড়া, ফার্মগেট এলাকায় ভিড় জমিয়েছেন নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।
নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চিত, বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের প্রত্যাশা প্রকাশ করছেন উপস্থিত সাধারণ মানুষ।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের মনিপুরীপাড়া সংলগ্ন ৬ নম্বর গেটের বাইরে উপস্থিত সাধারণ মানুষ শপথ নিতে আশা জনপ্রতিনিধিদের প্রতি এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে এসেছেন বিএনপিকর্মী আবির শেখ। তিনি বলেন, ‘আমাদের সবার প্রচেষ্টায় আমাদের আসন ঢাকা-১৩ থেকে ববি হাজ্জাজ জিতেছেন। বিএনপি নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছেন। অনেক জেল ও নির্যাতন সহ্য করে আমরা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পেয়েছি। এখন নতুন সরকারের প্রথম কাজ হওয়া উচিত দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করা আর মোহাম্মদপুর থেকে মাদক ও সন্ত্রাস দমন করা।’
মনিপুরীপাড়ার বাসিন্দা মমিনুল আহমেদ বলেন, ‘এই সরকারের কাছে প্রত্যাশা অনেক। শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারে তাদের মনোযোগী হতে হবে। পাশাপাশি নাগরিক চাহিদা পূরণে সরকারকে দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে।’
মিরপুরের বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এই সরকারের সর্বপ্রথম কাজ হওয়া উচিত দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। নির্ভয়ে সাধারণ মানুষ যাতে চলাচল করতে পারে সেই বিষয়টা সরকারের নজর রাখতে হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম দেশের মানুষের হাতের নাগালে রাখতে হবে।’
ধানমণ্ডি থেকে আসা নিরব বলেন, ‘আমাদের মতো বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান জরুরি। দেশে প্রচুর বেকার। এই সরকারকে দেশের মানুষের কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।’
মনিপুরীপাড়ার বাসিন্দা মোবারক বলেন, ‘দেশটা যাতে সুন্দরভাবে চলে, দেশে যাতে চাঁদাবাজি না থাকে আমরা সাধারণ মানুষ হিসেবে সরকারের কাছে এতটুকুই প্রত্যাশা করি।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়ী হয়েছে।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অপরদিকে, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকে ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল ও ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
ইসি সচিব জানান, ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রামের দুটি আসনের (চট্টগ্রাম ২ ও ৪) ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। বাকি ২৯৭টি আসনের প্রাপ্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।
কেআর/এমএমএআর