চট্টগ্রামের সাবেক এমপি মিতার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
সাবেক সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা/ছবি সংগৃহীত
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে-২ মামলাটি করেন একই কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুসাব্বির আহমেদ।
মামলাটিতে মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় ৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করা হয়।
মিতা আগে রূপালী লাইফ ইনসুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন।
দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর উপ-পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মাহফুজুর রহমান ২০০২-০৩ করবর্ষ থেকে ২০২৪-২৫ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। দুদক অনুসন্ধানে জানতে পারে, সংসদ সদস্য হিসেবে ভাতা ও সম্মানী, গৃহভাড়া, লভ্যাংশ, ঋণ, গাড়ি বিক্রি এবং অন্যান্য উৎস মিলিয়ে তিনি মোট ১০ কোটি ৬৬ লাখ ৮৩ হাজার ৭৪৯ টাকা আয় দেখিয়েছেন। তবে আয়কর নথিতে প্রদর্শিত ব্যবসা ও মৎস্য খাতের উল্লেখযোগ্য অঙ্কের আয়ের পক্ষে অনুসন্ধানকালে গ্রহণযোগ্য কোনো কাগজপত্র পাওয়া যায়নি।
একইভাবে ২০১১-১২ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষ পর্যন্ত স্ত্রীর কাছ থেকে ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার দাবি করা হলেও এর বৈধ উৎস বা প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছে দুদক।
রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট সময়ে তার পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ছিল ৯ কোটি ৯১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৩২ টাকা। এতে তার সঞ্চয় দাঁড়ায় ৭৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩১৭ টাকা।
অন্যদিকে অনুসন্ধানে তার নামে ২ কোটি ২৩ লাখ ৯৮ হাজার ৮২২ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ৩৯ লাখ ৬৮ হাজার ৬৪২ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।
সব মিলিয়ে মোট সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ৬৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৬৪ টাকা। ব্যয় বাদে বৈধ সঞ্চয়ের তুলনায় ৯ কোটি ৮৮ লাখ ৩০ হাজার ১৪৭ টাকার সম্পদের উৎস পাওয়া যায়নি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগের সময়কাল ধরা হয়েছে ২০০২ সাল থেকে ৩০ জুন ২০২৪ পর্যন্ত।
এমডিআইএইচ/বিএ