ঈদের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড
আব্দুল আউয়াল মিন্টু
আগামী ঈদুল ফিতরের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড চালু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে এ সংক্রান্ত বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মন্ত্রী। এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে বৈঠক শেষে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন; কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ; সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

প্রাথমিকভাবে হতদরিদ্রদের দিয়ে ফ্যামিলি কার্ড শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে দেশের সব পরিবার বা ৫ কোটি পরিবারকে এ কার্ড দেওয়া হবে বল জানিয়েছেন মন্ত্রীরা।
এসময় পরিবেশমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ডের ইস্যু বিস্তারিত উল্লেখ আছে। এটা কার্যকর কীভাবে করবে, সেটা নিয়ে আজ আলোচনা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে আজ।
কত পরিবারকে দেওয়া হবে-জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা কিন্তু সার্বজনীন। এটাতে কোনো রেস্ট্রিকশন থাকবে না। তবে এটা একটা কমিটি করা হয়েছে— হয়তো শুরু করবে হতদরিদ্র থেকে আরম্ভ করে, তারপর দরিদ্র, তারপর মধ্যবিত্ত, এভাবে যাবে।
এই রমজানেই কি এটি শুরু হচ্ছে-এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ঈদের আগেই পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে চালু হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী চান পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে অন্তত, পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে ঈদের আগেই শুরু করতে। এটুকু আমি জানি।
সিপিডি বলেছে যে, আগামী অর্থবছরে ফ্যামিলি কার্ড চালু যদি না হয়, তাহলে এর নেতিবাচক প্রভাব নির্বাচনের ওপর পড়বে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা তো চালু হবে, এটা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। এটা আমাদের খালি মেকানিজমটা বের করছে, মানে কার্যক্রমটা কীভাবে চালু করবে সেটা নিয়েই কথা হয়েছে।
এরপর তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা মন্ত্রিপরিষদের সব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাসহ একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে চূড়ান্তভাবে নির্দেশ পেয়েছি।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন যে আমাদের বহুল প্রচারিত যে প্রতিশ্রুতি, ফ্যামিলি কার্ড; আমরা ইনশা আল্লাহ এই মাস থেকেই, ঈদের আগেই আমরা আমাদের এই ফ্যামিলি কার্ড বণ্টনের কাজ বাস্তবায়ন শুরু করবো ইনশা আল্লাহ।
তিনি বলেন, কারণ এটি আমাদের নির্বাচনি ওয়াদার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ওয়াদা এবং দেশের প্রতিটি পরিবারের নারী সদস্য পর্যায়ক্রমে এই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন।
কার্ডের সংখ্যাটা কি রকম হতে পারে, কাদের দেওয়া হবে, কোন কোন এলাকায় অগ্রাধিকার দিয়ে এই কার্ডগুলো দেওয়া হবে- জানতে চাইলে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিষয়গুলোকে চূড়ান্ত করার জন্য একটা ছোট্ট কমিটি গঠন করা হবে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে এবং তারা আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এ বিষয়ে একটা চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা এবং দিক-নির্দেশনা দেবেন বাস্তবায়নের।
প্রাথমিকভাবে টাকার পরিমাণও এই মুহূর্তে নির্ধারণ করা হয়নি। তবে আমরা যেহেতু পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় ৫ কোটি ফ্যামিলিতে আমরা ফ্যামিলি কার্ড দেব, আমরা সেটাকে মাথায় রেখেই বাস্তবায়নযোগ্যভাবে শুরু করব।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, মূলত টাকার পরিমাণের চেয়েও সমস্ত নারীকে ফ্যামিলি কার্ডের নেটওয়ার্কের মধ্যে আনাটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। পর্যায়ক্রমে এটাকে আমরা আরও উন্নত করতে পারি।
তিনি বলেন, আমরা অগ্রাধিকারের দিক থেকে এই মুহূর্তে যারা হতদরিদ্র, যারা প্রতিবন্ধী, বিধবা— এই ধরনের পশ্চাৎপদ যারা, আমরা তাদের গুরুত্ব দিয়ে দিয়ে এগোবো। তবে পর্যায়ক্রমে সবাই আসবে।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, গতকাল এবং আজ মিলিয়ে এরই মধ্যেই আমাদের প্রতিশ্রুতির বেশ কিছু কাজে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা হাত দিতে পেরেছি। আমরা এই কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে দোয়া চাই এবং আপনাদেরও সহযোগিতা চাই।

কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা কত দ্রুত সময়ের মধ্যে এই ফ্যামিলি কার্ড আমরা স্টার্ট করতে পারি, এটা নিয়ে আজকের মিটিং ছিল। আমরা চেষ্টা করছি আগামী এই ঈদের আগেই পাইলট বেসিসে ফ্যামিলি কার্ড বোধহয় ওপেন করা যায় এবং কতটুকু করা যায়, কত দ্রুত করা যায়, সংখ্যায় কি হবে—এ নিয়ে আমরা বোধহয় দুই এক দিনের মধ্যে আমরা ফাইনাল করবো।
আমরা কি আশা করতে পারি যে ঈদের আগে কিছু মানুষ ফ্যামিলি কার্ড হাতে পাবে? জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এ জন্যই আজকের মিটিং।
প্রথমে হতদরিদ্রদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে জানিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সুনির্দিষ্টভাবে কোন জেলায় কতজনকে দেওয়া হবে সেটা আমরা এখনো ঠিক করিনি। তবে কিছু আগেই বোধহয় এরিয়া আমাদের ফিক্সড করা আছে, আগে একটা সার্ভে করা আছে। ওই রিপোর্টটা আমার কাছে নেই, যে বেশ কয়েকটা জেলাতেই কিছু উপজেলাকে আগেই নির্দিষ্ট করা আছে।
ফ্যামিলি কার্ডের ভেতরে কি কি সুবিধা থাকবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর ভেতরে সম্ভবত আমরা চেষ্টা করছি, আমরা ক্যাশ টাকা দেব। স্পেশালি নারীদের ক্যাশ টাকা।

শেষে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন জানান, রাজনৈতিক বিবেচনায় এই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে না। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীও থাকবে না।
ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হলে চলমান ভাতাগুলো অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন জাহিদ হোসেন।
আরএমএম/এমআইএইচএস
সর্বশেষ - জাতীয়
- ১ জনতুষ্টির পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই, সংযম দেখাতে হবে: দেবপ্রিয়
- ২ চট্টগ্রামে ৫১ কেজি গাঁজা ও ২৩ বোতল ফেনসিডিলসহ নারী আটক
- ৩ পুলিশসহ সব বাহিনীকে দ্রুত জনপ্রত্যাশা পূরণ করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ৪ আর্থিক সক্ষমতা অনুযায়ী নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পরামর্শ
- ৫ ‘মেরুদণ্ড সোজা রেখে’ সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় সরকার