ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে সরকার কাজ শুরু করেছে: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম | প্রকাশিত: ০৮:৪৫ এএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে নতুন সরকার কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম চট্টগ্রামে এসে কাট্টলীর নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে সরকার টু সরকার এবং এগুলোর কিছু প্রফেশনাল কোম্পানি আছে। যাদের সঙ্গে এরই মধ্যে কথা বলেছি। সবাই একসাথে কাজ করে চেষ্টা করবো যত বেশি ফিরিয়ে আনা যায়।

আগামী অর্থবছরের বাজেট সম্পর্কে তিনি বলেন, পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি আর চলবে না। এতদিন যারা সুযোগ নিয়ে বাকি জনগণকে বঞ্চিত করেছে সেটা আমরা করতে চাই না। আমরা চাই এমন বাজেট হবে যেখানে জনগণের আগামী দিনের বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। অর্থনীতির সুফল, উন্নয়নের সুফল বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। বাজেট প্রণয়নে সেটা নিশ্চিত করা হবে আমাদের প্রথম দায়িত্ব।

মেগা প্রকল্প ও দুর্নীতি বিষয়ে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অবস্থা যে জায়গায় আছে খুবই খারাপ অবস্থা। যেখানে দারিদ্র্য বাড়ছে। ইনডিকেটর, মানদণ্ড যেখানে দেখাচ্ছে দারিদ্র্য বাড়ছে। বিনিয়োগ কমছে। কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে। প্রাইভেট সেক্টর মূলধনীর আমদানি কমিয়ে দিয়েছে, ঋণ কম নিচ্ছে।

সব মিলে অর্থনীতি খুব একটা খারাপ অবস্থায় আছে। এখান থেকে উত্তরণের জন্য যে বিষয়গুলো তা আমাদের প্রোগ্রামে আগে দিয়েছি। সেগুলো আমি নতুন করে বলতে চাই না। আমরা অর্থনীতিকে মুক্ত করতে চাই। অর্থনীতিকে জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে চাই।

এই যে ওভার রেগুলেটেড করে কিছু লোক পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে সুযোগ নিয়েছে সেটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সেটাই হবে মূল উদ্দেশ্য।

ঋণের চাপ তো অনেক বড়। সবচেয়ে বড় হচ্ছে, ঋণ নিয়েছে ভালো প্রজেক্টে বিনিয়োগ না করে লুটপাটের প্রজেক্ট করেছে। এ টাকাগুলো বাইরে চলে গেছে। সুতরাং যে জিনিসটা নেই সেটার দায় এখন পরিশোধ করতে হবে এ সরকারকে। যে জিনিসটা উপস্থিত নেই, যে জিনিসটা ধ্বংস করে ফেলেছে তার দায় বহন করতে হবে বর্তমান সরকারকে। এটা কঠিন একটা ব্যাপার।

পুঁজিবাজার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, শেয়ারবাজার যে একটু বেড়েছে এটা সুখবর নিশ্চয়ই। তবে এ বাড়াতে শেয়ারবাজার চাঙা হবে না। এটা হয়ত কনফিডেন্স বেড়েছে, একটা গণতান্ত্রিক সরকার এসেছে বিশেষ করে বিএনপি অর্থনৈতিক ম্যানেজমেন্টে সবসময় ভালো করেছে বোধহয় জনগণের আস্থার কারণে হয়েছে। শেয়ারবাজারে পূর্ণাঙ্গ একটা পরিবর্তন আনতে হবে।

শেয়ারবাজারকে নিয়ে, সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন নিয়ে অনেক আইন-কানুন পরিবর্তন করে শেয়ারবাজারের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। যেন ভালো শেয়ার বাজারে আসে। ভালো কোম্পানিগুলো আসে। জনগণ সেখানে বিনিয়োগ করার একটা সুযোগ পাবে। সেটি হচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, দেশি ফান্ড বিদেশি ফান্ড সবাইকে আকৃষ্ট করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা শেয়ারবাজারের ওপর আস্থা সৃষ্টি করতে হবে। যে বিশ্বাস আস্থা জনগণ হারিয়েছে, আস্থার সৃষ্টি করতে হবে এবং এটা পরিচালিত হতে হবে একেবারে স্বচ্ছতার সাথে। এখানে স্বচ্ছতার ব্যাপারে কোনো ধরনের কম্প্রোমাইজ নেই। সব কিছু মিলিয়ে আমরা আশা করছি, আগামী দিনের বাংলাদেশের শেয়ারবাজার অর্থাৎ ক্যাপিটাল মার্কেট অ্যাজ এ হোল একটা বড় ধরনের পরিবর্তনের আমাদের পরিকল্পনা আছে। সেটা বাস্তবায়ন হলে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের একটা বিপ্লব ঘটবে আমরা আশা করি। শুধু শেয়ারবাজার না, তার সঙ্গে বাংলাদেশের সার্বিক ব্যবসা বাণিজ্য শিল্পের বিনিয়োগ একটা বড় আকারে বৃদ্ধি পাবে। যার ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। রপ্তানি বাড়বে। প্রডাকশন বাড়বে এবং দ্রব্যমূল্যের একটা স্থিতিশীলতা আসবে।

নতুন অর্থমন্ত্রী পরে তার মেহেদিবাগের বাসায় চট্টগ্রাম বন্দর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এমডিআইএইচ/এমআরএম