ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

প্রধানমন্ত্রী

পরিকল্পিত জাকাত ব্যবস্থাপনায় দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখা সম্ভব

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৮:৩৫ পিএম, ০৭ মার্চ ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশে প্রায় চার কোটি দরিদ্র পরিবার রয়েছে। লক্ষ্যভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে জাকাত বিতরণ করা গেলে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে জাকাত ব্যবস্থাপনাই দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। আলেম-ওলামা, মাশায়েখ ও এতিম শিশুদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে জাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক করার নতুন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী অতীতে প্রায় প্রতি রমজানেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মানে ইফতার আয়োজন করা হতো। সাধারণত রমজানের প্রথম দিনই আলেম-ওলামা, মাশায়েখ ও এতিমদের সম্মানে ইফতার অনুষ্ঠিত হলেও দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এবার কিছুটা দেরিতে এ আয়োজন করা হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে এবারের রমজানে মাত্র দুটি ইফতার মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এটিই চলতি রমজানের শেষ ইফতার হতে পারে।

তিনি বলেন, আজকের ইফতারে অংশ নেওয়া এতিম শিশুরাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অতিথি। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এতিমের হক আদায়ের ব্যাপারে মুমিন মুসলমানদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। 

প্রতিটি বিত্তবান যদি ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী এতিমদের দায়িত্ব নেন, তবে পিতৃহারা শিশুরা সমাজে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারবে।

রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রমজান সংযম ও আত্মশুদ্ধির মাস। কিন্তু দুঃখজনকভাবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এ সময় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। তিনি তাদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন কেউ মানুষের কষ্টের কারণ না হন।

জাকাত ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি জাকাত দেওয়া হয়। তবে পরিকল্পিত ও সুসংগঠিতভাবে বণ্টন না হওয়ায় এর পূর্ণ সুফল দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।

তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী দরিদ্র পরিবারগুলো চিহ্নিত করে প্রতি বছর পর্যায়ক্রমে পাঁচ লাখ পরিবারকে এক লাখ টাকা করে জাকাত দেওয়া হলে অনেক পরিবার পরের বছর আর জাকাত নেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রায় চার কোটি দরিদ্র পরিবার রয়েছে। লক্ষ্যভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে জাকাত বিতরণ করা গেলে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে জাকাত ব্যবস্থাপনাই দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

জাকাত ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিদ্যমান জাকাত বোর্ড পুনর্গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে দেশের শীর্ষ আলেম-ওলামা, ইসলামিক স্কলার এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

তিনি বলেন, জাকাতকে দারিদ্র্য বিমোচনের কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে ইসলামী বিশ্বে বাংলাদেশকে একটি মডেল হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ রয়েছে।

বক্তব্যের শেষে তিনি দেশ ও জনগণের কল্যাণে গৃহীত কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া কামনা করেন।

কেএইচ/এমএএইচ/