প্রধানমন্ত্রী
পাঁচ বছরে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য
ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, রাজধানীর কড়াইল, ভাসানটেক ও সাততলা এলাকায় প্রাথমিকভাবে ১৫ হাজার নারীকে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বেলা পৌনে ১১টার দিকে ১৪ থেকে ১৫ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ১৭টি পরিবারের হাতে প্রতীকী ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। পরে মঞ্চে স্থাপিত ল্যাপটপের মাধ্যমে সবুজ বাটন চেপে উপকারভোগীদের মোবাইল ফোনে প্রথম মাসের ভাতার টাকা পাঠিয়ে দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি দায়িত্বশীল সরকারের ভূমিকা পালন করতে চাই—যে সরকার জনগণ ও দেশের জন্য কাজ করবে। আমরা জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে চাই। নির্বাচনের আগে আমরা জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সরকার গঠন করতে পারলে ফ্যামিলি কার্ড চালু করব। জনগণের সমর্থনে সরকার গঠনের এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে আমরা সেই প্রতিশ্রুতির কাজ শুরু করেছি।
আরও পড়ুন
কথা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, দিলেন ‘ফ্যামিলি কার্ড’
শুরুতে ফ্যামিলি কার্ড পাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবার
ফ্যামিলি কার্ড নির্বাচন প্রক্রিয়ায় দলীয়করণ হয়নি: অর্থমন্ত্রী
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মতো আগামী মাসেই কৃষকদের কাছে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। আমরা যেকোনো মূল্যে আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবো। আমাদের জন্য আজকের দিনটি অত্যন্ত খুশি ও আবেগের দিন।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গত সপ্তাহে কৃষকদের সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই সরকার জনগণ নির্বাচিত করেছে, কাজেই স্বাভাবিকভাবেই সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীনসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিস্টিয়াগা ওচোয়া দে চিনচেত্রু, যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি রাষ্ট্রদূত মেগান বোল্ডিন, পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনিন রশিদ, ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা, অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি সৈয়দ হায়দার, চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, সিঙ্গাপুরের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার মিচেল লি, আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আব্দেলওয়াহাব সাইদানি এবং ইউএন উইমেনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ গীতাঞ্জলি সিং উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচি শেষে দুপুর ১২টার পর প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, শুরুতে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এজন্য প্রতিটি উপজেলার তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও তালিকা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কেএইচ/ইএ
সর্বশেষ - জাতীয়
- ১ নারীর সম্পত্তির পূর্ণ অংশ নিশ্চিতে বিকল্প আইনি পথ খোঁজার আহ্বান
- ২ যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ৭ মন্ত্রীকে নিয়ে কমিটি
- ৩ অনলাইনে মানুষের কঙ্কাল বিক্রি, জড়িত ডেন্টালের দুই ছাত্র: ডিএমপি
- ৪ জ্বালানি তেল নিয়ে উদ্বেগ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমে যাবে: প্রতিমন্ত্রী
- ৫ শপিং করতে গিয়ে মিরপুরে আগুনে বিমানবাহিনীর দুইজনের মৃত্যু