ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

‘ফুটওভার ব্রিজগুলোর মালিক আসলে হকাররা, আমরাই জোর করে ব্যবহার করি’

অভিজিত রায় (কৌশিক) | প্রকাশিত: ০৪:২২ পিএম, ১০ মার্চ ২০২৬

নিরাপদে সড়ক পারাপারে নগরবাসীর একমাত্র ভরসাস্থল ফুটওভার ব্রিজ। পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের জন্য নির্মিত এসব ব্রিজে প্রতিদিনই বসছে অস্থায়ী দোকান, পাশাপাশি অবস্থান নিচ্ছেন ভিক্ষুকরা। ব্রিজগুলো এখন হকার ও ভিক্ষুকদের দখলে। নিত্যদিনের এই বাধা অতিক্রম করে ভোগান্তি নিয়েই ফুটওভার ব্রিজ পার হতে হয় রাজধানীবাসীকে।

নগরবাসীর অভিযোগ, ভোগান্তি নিরসনে যাদের ভূমিকা রাখার কথা খোদ সিটি করপোরেশন রাখছে না নগরের খোঁজ। এ যেনো দেখভালকারীদের নাকের ডগায় বসেই ‘রামরাজত্ব’ চালিয়ে যাচ্ছেন ফুটওভার ব্রিজের ব্যবসায়ী ও ভিক্ষুকরা। দেখেও দেখছে না কর্তৃপক্ষ।

তবে কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, অভিযান চালিয়ে নিয়মিত উচ্ছেদ করা হলেও অভিযান শেষ হতেই আবার আগের অবস্থানে ফিরতে খুব একটা দেরি করেন না এসব ব্যবসায়ী।

হকার-ভিক্ষুকদের দখলে ফুটওভার ব্রিজ

সোমবার (২ মার্চ) রাজধানীর নিউমার্কেট, ফার্মগেট, শ্যামলী, কল্যাণপুরসহ বেশ কয়েকটি ফুটওভার ব্রিজ ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্যস্ততম এসব ফুটওভার ব্রিজে রীতিমতো দোকান সাজিয়ে বসেছেন হকাররা। কেউ কেউ টেবিল রেখেই তার ওপর সাজিয়েছেন বিক্রির জন্য পণ্য। কেউবা ফুটওভার ব্রিজের ওপরই কাপড় বিছিয়ে দোকান সাজিয়ে বসেছেন। চলার পথে প্রয়োজনীয় পণ্য দেখে দাঁড়িয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। ক্রেতাদের ভিড়ে সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে চলাচলের পথ। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষের চলাচল।

এছাড়া অধিকাংশ ফুটওভার ব্রিজে ওঠার সিঁড়ি বা ব্রিজের ওপরে চলার পথের মাঝখানে বসেই ভিক্ষাবৃত্তি করছেন ভিক্ষুকেরা। এসব ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারের সময় পথচারীদের পা জড়িয়ে ধরতেও দেখা গেছে তাদের। ফলে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করে চলাচল সাধারণ মানুষের জন্য হয়ে গেছে দুর্বিষহ।

হকার-ভিক্ষুকদের দখলে ফুটওভার ব্রিজ

শামীম হোসেন নামের এক ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারকারী বলেন, ‘ফুটওভার ব্রিজ হচ্ছে সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচলের জন্য। কিন্তু এখন সেখানে হাঁটার জায়গাই থাকে না। ব্রিজের দুইপাশে হকার বসে দখল করে নেয়। ব্রিজে ওঠার সময় তো সিঁড়িতে বসে থাকা ফকিরকে পার করে আসা অনেক কষ্টসাধ্য। হেঁটে আসার সময় পা জড়িয়ে ধরে। যার কারণে বাধ্য হয়েই অনেক সময় নিচ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে হয়।’

রবিউল ইসলাম নামের আরেক পথচারী বলেন, ‘এদের এখানে বসানো হয়েছে, তাই বসছে। সাধারণ মানুষের সমস্যা কি দেখার কেউ আছে? এদের যদি এখানে না বসতে দেওয়া হতো, কেউ যদি পেছন থেকে এদের শেল্টার না দিতো তাহলে কি এদের উচ্ছেদ করা হলে আর বসতে পারতো? এদের নিয়মিত চাঁদা দিতে হয়। আর এসব চাঁদার ভাগ অনেক দূর পর্যন্ত যায়। তাই এরা এখানে বসতে পারে।’

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ফুটওভার ব্রিজগুলোর মালিক আসলে হকাররা, আমরাই জোর করে ব্যবহার করি।’

ফুটপাত দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। উচ্ছেদ করা হচ্ছে। সব সময়তো আর আমরা অভিযান করে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না। অন্য জায়গায় অভিযানে যাই, আবার দখল হয়ে যায়।’

হকার-ভিক্ষুকদের দখলে ফুটওভার ব্রিজ

এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মানুষের মন-মানসিকতার পরিবর্তন না হলে, আমরা নিজেরা সচেতন না হলে এই সমস্যার স্থায়ী কোনো সমাধান নেই।’

‘আমি এত পরিমাণ উচ্ছেদ অভিযান করছি, এক একটা জায়গায় তিনবার-চারবারও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছি। তারপরও যদি ঠিক না হয় তাহলে আমি কী করবো বলেন? আমি নিজেই বিরক্ত।’

রাজনৈতিক দলগুলোর স্থানীয় নেতারা চাঁদা নিয়ে এসব দোকান বসাচ্ছে কি না জানতে চাইলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘আমরাও জানি। অনেকের কাছ থেকে শুনি। কিন্তু কারা সেই স্থানীয় নেতা, কারা চাঁদা নিচ্ছে সেটা আর সামনে আসে না। ওদের নামটা কেউ বলতে পারে না। তবে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। আমরা অভিযান করছি।’

হকার-ভিক্ষুকদের দখলে ফুটওভার ব্রিজ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘উচ্ছেদ অভিযানটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। আমরা জোনভিত্তিক এলাকা ভাগ করেছি। এই জোনগুলো ভাগ করে আমরা হকারমুক্ত করার কাজ করছি।’

‘এটা একক কোনো কাজ না যে শুধু ম্যাজিস্ট্রেট যাচ্ছে তাতেই কাজ হচ্ছে। এখানে বিভিন্ন বিভাগকে যুক্ত করে সমন্বিত অভিযান চালাচ্ছি। কয়েকটা জায়গায় আমাদের সফলতা আছে। সেগুলো আমরা সামনে রেখে সবগুলো ফুটওভার ব্রিজ হকারমুক্ত করবো ইনশাল্লাহ।’ বলছিলেন মোবাশ্বের হাসান।

কেআর/এমএমএআর/এমএফএ