ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

১৩ মার্চ

ইয়াহিয়ার সামরিক ফরমানের বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে বাংলার জনগণ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৮:০২ এএম, ১৩ মার্চ ২০২৬

১৯৭১ সালের ১৩ মার্চ ইয়াহিয়া খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান সরকার সামরিক ফরমান জারি করে ১৫ মার্চ সকাল ১০টার মধ্যে প্রতিরক্ষা বিভাগের বেসামরিক কর্মচারীদের কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। 

ফরমানে বলা হয়, সময়মতো কাজে যোগ না দিলে সংশ্লিষ্টদের চাকরিচ্যুত ও পলাতক ঘোষণা করা হবে এবং সামরিক আদালতে বিচার হবে। এর পাশাপাশি নির্দেশ অমান্যকারীদের সর্বোচ্চ ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের শাস্তি হতে পারে।

ফরমানের পরপরই শেখ মুজিবুর রহমান বিবৃতি দিয়ে এ ধরনের উসকানিমূলক কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘যখন আমরা সামরিক শাসন প্রত্যাহারের জন্য বাংলার জনগণের প্রচণ্ড দাবির কথা ঘোষণা করছি, ঠিক তখন নতুন করে এ ধরনের সামরিক নির্দেশ জারি জনসাধারণকে উসকানি দেয়ার শামিল।’

শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় এদিনও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বেঁধে দেওয়া সময়মতো কাজ চলে। সরকারি-বেসরকারি অফিস, বাসভবন, যানবাহনে কালো পতাকা ও ঢাকাসহ বড় শহরগুলো বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের মিছিল-সমাবেশে মুখর ছিল। ঢাকায় ছাত্র ইউনিয়ন সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণ থেকে বিশাল মশাল মিছিল বের করে।

এদিন ২৬৫ জন বিদেশি নাগরিক ও বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মীরা ঢাকা ত্যাগ করেন। পশ্চিম পাকিস্তানের পিপিপি ও কাইয়ুমপন্থি মুসলিম লীগ ছাড়া সব বিরোধীদলের নেতারা জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে তারা শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে অবিলম্বে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানান। বৈঠকে কাউন্সিল মুসলিম লীগ, কনভেনশন লীগ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এবং জমিয়তে উলামায়ে পাকিস্তানের নেতারা অংশ নেন।

চিত্রশিল্পী জয়নুল আবেদীন ও সাবেক জাতীয় পরিষদ সদস্য আবদুল হাকিম পাকিস্তান সরকারের দেওয়া খেতাব ও পদক বর্জন করেন। স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতারা ইকবাল হল প্রাঙ্গণে সব আঞ্চলিক শাখার আহ্বায়ক, সম্পাদক ও সদস্যদের সভা আহ্বান করেন। বিকেলে সংগ্রাম পরিষদ চট্টগ্রামের লালদীঘিতে জনসভা করে সরকারি কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের পাকিস্তানের সঙ্গে অসহযোগ করতে আহ্বান জানায়।

চট্টগ্রামে বেগম উমরতুল ফজলের সভাপতিত্বে নারীদের সমাবেশ থেকে বাংলাদেশের জনগণের পরিপূর্ণ মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বিলাসদ্রব্য বর্জন ও কালো ব্যাজ ধারণের আহ্বান জানানো হয়।

সাবেক জাতীয় পরিষদ সদস্য আফাজউদ্দিন ফকির এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার প্রতি ক্ষমতা ‘লেটার অব অথরিটি’র মাধ্যমে হস্তান্তরের আহ্বান জানান। তিনি পূর্বাঞ্চলের প্রতিরক্ষা বাহিনী পরিচালনার দায়িত্ব একজন বাঙালি জেনারেলের হাতে হস্তান্তর এবং বেঙ্গল রেজিমেন্টের সব ব্যাটালিয়নের নিয়ন্ত্রণ বাঙালি অফিসারদের হাতে দেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত পাকিস্তানি সৈন্য প্রত্যাহারের দাবি জানান।

তথ্যসূত্র: রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদীর ‘৭১ এর দশমাস’, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও ১৯৭১ সালে প্রকাশিত সংবাদপত্র

এমএএস/এমকেআর