ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

ঈদের কেনাকাটা: সাধ্যের মধ্যে সবই মেলে মোহাম্মদপুরের যে মার্কেটে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৪:২৮ পিএম, ১৩ মার্চ ২০২৬

ঈদুল ফিতরের বাকি আর মাত্র কয়েকদিন। এই সপ্তাহ থেকে শুরু হচ্ছে ছুটিও। রাজধানীজুড়ে মার্কেটগুলোতে চলছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের কেনাবেচার ঘুম, চলছে দর-কষাকষি। বিশেষ করে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটে উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্তরাও কেনাকাটা করছেন ধুমছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষি মার্কেটের ফুটপাত ও স্থায়ী দোকানগুলোতে ক্রেতার সমাগম অনেক বেশি। ক্রেতাদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠেছে মার্কেট। বেলা বাড়ার সঙ্গে ক্রেতাদের উপস্থিতি আরও বাড়ে। বিক্রেতাদের হাঁকডাক ও ক্রেতাদের কেনাকাটা—সব মিলিয়ে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটে।

jagonews24.comকৃষি মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা মানুষের ভিড়/ছবি: জাগো নিউজ

কৃষি মার্কেটে দেখা যায়, শিশুদের জন্য বাহারি রঙের পোশাক ও জুতার পসরা সাজিয়েছেন মার্কেট ব্যবসায়ীরা। অপরদিকে, নারী ও তরুণীদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় শাড়ি, বোরকা, থ্রি-পিস, টু-পিস এবং জুতার পসরা রয়েছে। মার্কেটের ফুটপাতে টু-পিস ও ওয়ান-পিসগুলো সর্বোচ্চ ৩০০ থেকে ১,২০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। আর থ্রি-পিস ৫০০ থেকে ২,০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। বোরকা মিলছে হাজার টাকার মধ্যে। তবে মার্কেটের দোকানগুলোতে এসব পণ্যের দাম কোথাও দ্বিগুণের বেশি।

আর ছেলেদের পাঞ্জাবি, পায়জামা, শার্ট, টি শার্ট, জিন্সসহ সব ধরনের প্যান্ট পাওয়া যাচ্ছে এসব দোকানে। সবখানেই রয়েছে ক্রেতাদের ভিড়। অপরদিকে, অতি দামের কারণে বিক্রিতে পিছিয়ে রয়েছে জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত কয়েক বছর রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যবসা খুব একটা ভালো যায়নি। ফলে এবার ঈদকে ঘিরে তাদের অনেক প্রত্যাশা। যদিও এখনো প্রত্যাশা অনুযায়ী বিক্রি হয়নি, তবে এখন থেকে বিক্রি জমে উঠবে বলে আশাবাদী তারা।

jagonews24.comছবি: জাগো নিউজ

ছোটদের জিনিসপত্রের জন্য বেশ জনপ্রিয় কৃষি মার্কেট। মাত্র ১০০ থেকে ২০০ টাকায় এখানে কেনা যায় ছোটদের পোশাক। এমনকি মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়ও পাওয়া যায় বড়দের টি-শার্ট। এছাড়া ২০০-৩০০ টাকা দিয়ে বৈচিত্র্যময় সুন্দর ফ্রক, টপ, প্যান্ট-গেঞ্জির সেটও কিনছেন ক্রেতারা।

কৃষি মার্কেটে শিশুদের পোশাক নিয়ে বসেছেন কবির হোসেন নামের একজন ব্যবসায়ী। কয়েক বছর ধরে ফুটপাতে ব্যবসা করছেন। তিনি বলেন, গত দুই বছর রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ব্যবসা অনেকটা খারাপ গেছে। এবার ঈদে একটু ভালো বিক্রির আশা করছি। মানুষ আসতেছে, বিক্রি হচ্ছে ভালোই।

বাসাবাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে বড় করছেন। বড় ছেলের জন্য ৪০০ টাকায় একটি পাঞ্জাবি কেনেন। তিনি বলেন, মার্কেট গিয়ে অত দামে পাঞ্জাবি কেনার ক্ষমতা নাই। ছেলেপেলে আছে তারারে কিইন্যা দেওন লাগবতো।

ফুটপাতে শিশুদের শার্ট বিক্রি করছিলেন সুমন মিয়া। তিনি বলেন, গতবারের চেয়ে এবার বেচাকেনার চাপ বেশি। আগে ১৫-২০টা শার্ট বিক্রি করলেও এখন দিনে ৩০-৪০টা শার্ট বিক্রি করছি। মানুষ ৩০০ টাকায় শার্ট কিনছে। এখানে গরিব-দুঃখী মানুষ আসে, বড়লোকেরাও আসে।

jagonews24.comছবি: জাগো নিউজ

পুরুষদের পাঞ্জাবির ক্ষেত্রে সাধারণ কটন ও হালকা এমব্রয়ডারির পাঞ্জাবিই বেশি জনপ্রিয়। মূল দামের পরিসর ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে।

রাজধানীর ঢাকা উদ্যান থেকে চার বছরের শিশু বাবার সঙ্গে এসেছে ঈদের কেনাকাটা করতে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটের বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরে শিশুটি কিনেছে একটি জামা, একজোড়া জুতা আর কিছু কসমেটিকস। শিশুটির বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। তিনি বলেন, বড় বড় মার্কেটে দাম অনেক। কৃষি মার্কেটে এসে দামাদামি করে সন্তানের জন্য কিছু কেনাকাটা করলাম।

থ্রিপিস কিনতে শ্যামলী থেকে কৃষি মার্কেটে আসা তাসনুভা আঞ্জুম বলেন, মেয়েকে নিয়ে জামা কিনতে এসেছি। মার্কেট ঘুরে দেখতেছি, দাম যাচাই করছি। পছন্দ হলে নিয়ে নেব।

ফুটপাতে থ্রিপিস বিক্রেতা বাচ্চু মিয়া বলেন, যেটাই নেবে এক দাম। প্রতি পিস ৯৫০ টাকা।

সকাল থেকে ক্রেতা ভালো জানিয়ে ফুটপাতে টু-পিস বিক্রেতা জাকির হোসেন বলেন, আমার এখানে ৭০০ থেকে দেড় হাজার টাকা দামের টু-পিস আছে। বিক্রি ভালো হচ্ছে।

টিটি/এমএমকে