ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

মার্চ ১৭

সরকারি-বেসরকারি ভবনে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ১২:৫৮ এএম, ১৭ মার্চ ২০২৬

স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ২৩ মার্চ ‘পাকিস্তান দিবস’কে ‘প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। এ উপলক্ষে সারাদেশের সরকারি ও বেসরকারি ভবনে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

এদিকে আলোচনার অগ্রগতি সত্ত্বেও লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্রেসিডেন্ট ভবনে বৈঠক শেষে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আলোচনা শেষ হয়ে যায়নি। তবে পরবর্তী বৈঠকের তারিখ এখনো ঠিক হয়নি। লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

বৈঠক সংক্ষিপ্ত হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি মৃদু হাসেন। এক বিদেশি সাংবাদিক সেই হাসি নিয়ে প্রশ্ন তুললে শেখ মুজিবুর রহমান জবাব দেন, ‘আপনার মুখেও তো মৃদু হাসি। আমি জাহান্নামে বসেও হাসতে পারি।’

ইয়াহিয়ার সঙ্গে আলোচনায় সন্তুষ্ট কি না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘নরকে বসেও আমার চিত্তে সুখের অভাব হবে না। আমার চেয়ে বেশি সুখী আর কে আছে? সাত কোটি মানুষ আজ আমার পেছনে পাহাড়ের মতো অটল। আমার জনগণ যা দিয়েছে তার তুলনা নেই।’

এদিকে ১৯২০ সালে এই দিনেই গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন বাঙালির স্বাধীনতার রূপকার শেখ মুজিবুর রহমান। জন্মদিনে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘরোয়া আলাপে তিনি বলেন, ‘আমরা জন্মদিনই কি আর মৃত্যুদিনই কি? আমার জনগণের জন্যই আমার জীবন ও মৃত্যু। আপনারা আমার জনগণের অবস্থা জানেন। অন্যের খেয়ালে যে কোনো মুহূর্তে তাদের মৃত্যু হতে পারে।’

অন্যদিকে, চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বলেন, ‘পূর্ববাংলা এখন স্বাধীন, সাড়ে সাত কোটি বাঙালি স্বাধীনতার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ। আমার ৮৯ বছরের অতীতের সব আন্দোলনের সঙ্গে আমি জড়িত ছিলাম। কিন্তু একটি সার্বজনীন দাবিতে জনগণের মধ্যে বর্তমান সময়ের মতো একতা ও সহযোগিতা আগে কখনো দেখিনি।’

অসহযোগ আন্দোলনের ষোড়শ দিনে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রস্তুতি জোরদার করতে ছাত্রছাত্রীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ময়দানসহ বিভিন্ন এলাকায় কুচকাওয়াজ ও রাইফেল চালানোর প্রশিক্ষণ শুরু করেন।

এদিকে লাহোরে পশ্চিম পাকিস্তানি রাজনীতিকরা পৃথক বিবৃতিতে জুলফিকার আলী ভুট্টোর দুই অংশের দুটি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বলেন, সাধারণ নির্বাচন গোটা দেশের জন্য হয়েছে, দুই অংশের জন্য পৃথক নির্বাচন হয়নি। ফলে জাতীয় পরিষদে একটি মাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠ দল থাকবে—ভুট্টোর প্রস্তাব পাকিস্তানকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছু নয়।

তথ্যসূত্র: রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদীর ‘৭১ এর দশমাস’, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও ১৯৭১ সালে প্রকাশিত সংবাদপত্র

এমএএস/বিএ