ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

শিপন কুমার রবিদাস

নাগরিক অধিকার নিয়ে বাঁচতে চাই, করুণা বা ভিক্ষা চাই না

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৩:০২ পিএম, ২৯ মার্চ ২০২৬

করুণা বা ভিক্ষা নয়, নিজেদের নাগরিক অধিকার নিয়ে বাঁচতে চান বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলনের (বিডিইআরএম) সাধারণ সম্পাদক শিপন কুমার রবিদাস।

রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ কথা জানান তিনি।

বৈষম্য নিরসনে অবিলম্বে ‘বৈষম্য বিলোপ আইন’ প্রণয়নের দাবিও জানিয়েছেন বিডিইআরএমের নেতারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বাংলাদেশকে একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘বৈষম্য বিলোপ আইন’ দ্রুত প্রণয়ন হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে জানান। প্রস্তাবিত আইন দ্রুত প্রণয়নের লক্ষ্যে নাগরিক সংগঠনসমূহের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ‘বৈষম্যবিরোধী বিল-২০২২’ পর্যালোচনার মাধ্যমে দ্রুত ‘বৈষম্য বিলোপ আইন’ প্রণয়নে সরকারের প্রতি দাবি জানান তারা।

বিডিইআরএমের সাধারণ সম্পাদক শিপন কুমার রবিদাস বলেন, আমরা আমাদের নাগরিক অধিকার নিয়ে বাঁচতে চাই। করুণা বা ভিক্ষা চাই না। সরকারের প্রতি আহ্বান থাকবে আমাদের ৮ দফা দাবি যেন মেনে নেয়।

শ্রম অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক আবুল হোসেন বলেন, দলিত জনগোষ্ঠী তাদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করছে। আমরা বেশি অধিকার চাই না, আমরা বাংলাদেশের নাগরিক, আমার মর্যাদা চাই, আমাদের অধিকার চাই। আমাদের জন্মের সময় বৈষম্য ছিল না, মৃত্যুর সময়ও থাকবে না। মাঝখানে এই বৈষম্য তৈরি করেছেন সমাজের অধিপতিরা। আমরা আমাদের অধিকার চাই। আমাদের আন্দোলনে আমরা রাজনৈতিক সহযোগিতা চাই।

দলিত জনগোষ্ঠীর ৮ দফা দাবি

• জাতীয় সংসদে সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনে দলিত জনগোষ্ঠীর সংখ্যানুপাতে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

• জাত-পাত ও পেশাভিত্তিক বৈষম্য প্রতিরোধে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত বৈষম্যবিরোধী বিল-২০২২ অবিলম্বে পাস করতে হবে।

• জাতীয় বাজেটে দলিত জনগোষ্ঠীর জন্য সুনির্দিষ্টভাবে ‘সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি’র আওতায় বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

• সব মহানগরী ও পৌরসভায় দলিত জনগোষ্ঠীর জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং খাসজমি বরাদ্দের মাধ্যমে গ্রামীণ দলিতদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

• পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকি বিশেষ বিবেচনায় এনে তাদের জন্য সুরক্ষার সব উপকরণ সরবরাহ করতে হবে।

• সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলিত শিক্ষার্থীদের ‘ভর্তি কোটা’ প্রবর্তন করতে হবে।

• সব ধরনের সরকারি চাকরিতে দলিত জনগোষ্ঠীর জন্য ‘কোটাব্যবস্থা’ প্রবর্তন করতে হবে।

• দলিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ঝরেপড়া রোধকল্পে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ এবং বিশেষ উপবৃত্তির পরিমাণ বৃদ্ধি করতে হবে।

এনএস/ইএ