ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

সংস্কার কার্যক্রম সংবিধানের কাঠামোর ভেতরে প্রচলিত হবে: আইনমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ১০:৪৮ পিএম, ৩১ মার্চ ২০২৬

দেশের সব ধরনের সংস্কার কার্যক্রম সংবিধানের কাঠামোর ভেতরে প্রচলিত হবে এবং জুলাই সনদ সেই প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। 

বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিরোধী দলের অনেক সদস্য একদিকে ১৯৭২ সালের সংবিধান অস্বীকার করছেন, অন্যদিকে একই সংবিধানের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন, যা একটি সাংঘর্ষিক অবস্থান। সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহ্বানসহ বর্তমান কার্যক্রম সম্পূর্ণ সাংবিধানিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৬২ ধারায় জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রস্তাবটি সংসদে উত্থাপন করেন বিরোধীদলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান (ঢাকা-১৫)।

আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়নের কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। তাই সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে নয়, বরং সেটিকে সামনে রেখেই পরিবর্তন আনতে হবে। তার ভাষায়, সংসদে উত্থাপিত প্রায় প্রতিটি প্রশ্নই সংবিধান সংস্কারের সঙ্গে সম্পর্কিত।

বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা জুলাই সনদের কথা বললেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটায়নি। নারী প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে সনদের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তা মানা হয়নি এবং ডেপুটি স্পিকার পদ গ্রহণের প্রস্তাবও তারা প্রত্যাখ্যান করেছে। এতে তাদের অবস্থানের অসংগতি স্পষ্ট হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অধ্যাদেশ ও আইনের বৈধতা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জারি করা অধ্যাদেশ আইনের মর্যাদা পায়। ১৮৯৭ সালের জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্টের উল্লেখ করে তিনি বলেন, যথাযথ আইনি ক্ষমতার ভিত্তিতে জারি করা আদেশ ও অধ্যাদেশ বৈধ হিসেবে গণ্য হয়, তবে সাংবিধানিক ভিত্তি ছাড়া কোনো আদেশ আইনের মর্যাদা পেতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এটি দেশের সর্বোচ্চ সামাজিক চুক্তি, যার ভিত্তিতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে।

আইনমন্ত্রী সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, সব দলের অংশগ্রহণে আলোচনা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা সম্ভব হবে। বিরোধীদলীয় নেতাও পরোক্ষভাবে এই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন বলে উল্লেখ করে তিনি স্পিকারকে দ্রুত কমিটি গঠনের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সংবিধানই রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি এবং জুলাই সনদের আলোকে প্রয়োজনীয় সংস্কার অবশ্যই সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই সম্পন্ন হবে।

কেএইচ/এমএসএম