‘চিৎকার করে বলি, মা আমাকে বাঁচাও এরপর আর কিছু মনে নেই’
মো. জিসান শিকদার/ছবি: সংগৃহীত
চারদিকে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিল। প্রাণ বাঁচাতে সবাই যে যার মতো করে খুঁজছিল বের হওয়ার পথ। কিন্তু ফ্যাক্টরির প্রধান ফটকে তখন তালা মারা। কোনো উপায় না পেয়ে উঁচু দেওয়াল টপকে কোনোরকমে বাইরে বের হয়ে আসি। বাইরে এসে মাকে সামনে পেয়ে চিৎকার করে বলি- মা, আমাকে বাঁচাও। এরপর আর কিছু মনে নেই।
শনিবার রাজধানীর উপকণ্ঠ কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে গ্যাস লাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আহত হয়ে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ফ্যাক্টরি সুপারভাইজার মো. জিসান শিকদারের মুখে শোনা এই কথাগুলো যেন আগুনের বিভীষিকাময় মুহূর্তকে আবারও সামনে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় জিসানের শরীরের ২২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
আগুন লাগার পর থেকে বাইরে বের হওয়া পর্যন্ত সময়ের এই বর্ণনা জিসানের কাছ থেকে শুনে সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন তার বাবা জসিম শিকদার।
রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে বার্ন ইনস্টিটিউটে কথা বলতে গিয়ে জসিম শিকদার জানান, তাদের বাড়ি মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে জিসান সবার বড়। জীবিকার তাগিদে তিনি কেরানীগঞ্জের কদমতলী খালপাড় এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন। পেশায় তিনি ভ্যানচালক।

তিনি বলেন, সংসারের হাল ধরতেই ছেলে জিসান স্থানীয় ওই কারখানায় চাকরি নেয়। একই এলাকার তার দুই বন্ধু আসিফ (১৫) ও নিরব (১৬) তারাও সেখানে কাজ শুরু করে। জিসান মাসিক ১১ হাজার টাকা বেতনে সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন, আর তার বন্ধুরা শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো। জিসানের পরিবার তার সঙ্গে থাকলেও আসিফ ও নিরব কারখানায়ই থাকতো।
জসিম শিকদার আরও জানান, চলতি মাসেই জিসানের পদোন্নতির কথা ছিল। কিন্তু অগ্নিকাণ্ডে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় এখন পুরো পরিবার দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে।
তিনি বলেন, জিসান, আসিফ আর নিরব- তিনজন একসঙ্গেই ছিল। জিসান দেওয়াল টপকে বের হয়ে আসার সময় আসিফও বের হতে পেরেছে। কিন্তু নিরবের এখনো কোনো খোঁজ পাইনি।
বর্তমানে জিসানের সঙ্গে আসিফও বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, জিসানের শরীরের ২২ শতাংশ এবং আসিফের ১৫ শতাংশ ফ্লেম বার্ন হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলছে।

এদিকে, শনিবারের অগ্নিকাণ্ডে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের অপারেশনস অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স বিভাগের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এই অগ্নিকাণ্ড শুধু একটি শিল্পকারখানার দুর্ঘটনা নয়- এটি একাধিক পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে দেওয়ার নির্মম গল্প। তালাবদ্ধ ফটক, নিরাপত্তাহীন কর্মপরিবেশ আর জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নেওয়া তরুণদের এ করুণ বাস্তবতা আবারও সামনে নিয়ে এলো কেরানীগঞ্জের এই ট্র্যাজেডি।
এমইউ/এএমএ
সর্বশেষ - জাতীয়
- ১ সংবিধান সংস্কার হয় না বরং স্থগিত বা সংশোধন হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ২ ঢাকায় অবৈধ নাইট কোচ কাউন্টার অপসারণে ৭ দিনের আলটিমেটাম
- ৩ বিলুপ্ত হতে যাওয়া অধ্যাদেশগুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা চান বিরোধীদলীয় নেতা
- ৪ শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অসদাচরণে কর্মচারীদের বরখাস্তের বিধান রেখে সংসদে বিল পাস
- ৫ চৈত্র সংক্রান্তিতে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে সাধারণ ছুটি