ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

বৈশাখী শোভাযাত্রায় মুখোশ পরে অংশ নেওয়া যাবে না: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৪:৪৪ পিএম, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদ্‌যাপন শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, বৈশাখী শোভাযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিতে এতে অংশগ্রহণকারীরা মুখোশ পরতে পারবেন না। মুখোশ হাতে বহন করা যাবে। প্রদর্শনীর জন্য তৈরি মুখোশ এমনভাবে প্রদর্শন করা যাবে না যাতে মুখ ঢেকে থাকে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত একটি কার্যপত্র জারি করে এ তথ্য জানানো হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের শোভাযাত্রা শুরুর পর যাতে আর কেউ এতে প্রবেশ না করেন। শোভাযাত্রায় ইংরেজি বা ভিন্ন ভাষার বা ভিন্ন উদ্দেশ্যে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করা যাবে না। এতে অংশ নেওয়া বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।

এছাড়া, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আয়োজিত সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। সেই সঙ্গে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে নববর্ষের সব অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা দিতে বলা হয়েছে।

কার্যপত্রে বলা হয়, আসন্ন বাংলা নববর্ষ এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নববর্ষ উৎসব উপলক্ষে দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী- র‍্যাব, পুলিশ, এসবি ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও কোস্টগার্ডের নৌ টহল থাকবে। ইভটিজিং, পকেটমার ও উশৃঙ্খলতা রোধে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। ভিড়ে কেউ হারিয়ে গেলে সহায়তার জন্য রমনা পার্কে একটি ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে এবং মাইকিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবরে যেসব অনুষ্ঠান হবে, সেখানে বিকেল ৫টার পর জনসাধারণকে প্রবেশ করানো যাবে না। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে আবশ্যিকভাবে সব অনুষ্ঠান শেষ করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশব্যাপী আয়োজিত সব অনুষ্ঠান আবশ্যিকভাবে এই সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। এ বিষয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর, পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কার্যপত্রে জানানো হয়, অনুষ্ঠানস্থলে আগত জনসাধারণের সুবিধার্থে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং নির্ধারিত রুট ব্যবহার করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকার ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না।

এছাড়া, বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের সব সিনেমা হলসহ জনসমাগম স্থলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হবে। কূটনৈতিক এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও স্থাপনার প্রতিও বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে দেশব্যাপী ফানুস ও গ্যাস বেলুন ওড়ানো, আতশবাজি ফোটানো এবং ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো নিষিদ্ধ থাকবে। সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক জরুরি প্রয়োজনে যে কোনো সহয়তা করার জন্য হেলিকপ্টার ও সিএমএইচ প্রস্তুত রাখতে হবে।

কার্যপত্রে আরও নির্দেশ দেওয়া হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলা নববর্ষ সম্পর্কে অপপ্রচার রোধে পুলিশ সদর দপ্তর, র‍্যাব, এসবি ও সিআইডিকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতে হবে। ৩০০ ফিট এলাকায় কার ও মোটরসাইকেল রেসিং বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

চৈত্র সংক্রান্তির অনুষ্ঠান রাত ১০টার মধ্যে শেষ করার কথাও বলা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের কার্যপত্রে।

টিটি/একিউএফ