ইজতেমায় স্বল্প মূল্যে মিলছে কম্বল ও শীতের পোশাক
টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানের পাশেই দেদারসে বিক্রি হচ্ছে কম্বল ও শীতের পোশাক। এসব দোকানে দেখা যায় ইজতেমায় আগত মুসুল্লিদের উপচে পড়া ভীড়। তীব্র শীত থেকে রক্ষা পেতে মুসুল্লিরা এসব দোকানে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন।
প্রতিবছরই বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণির মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য পাল্টে যায়। এ সময় দেশ-বিদেশের মুসল্লিদের সমাগমে টঙ্গী ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন পণ্যের বেচাকেনা জমে ওঠে। অল্প সময়ে অধিক বিক্রিতে মুনাফাও হয় বেশ। ফলে ইজতেমাস্থলের আশপাশে খাবার দোকান, কম্বল, জায়নামাজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্থায়ী দোকান গড়ে ওঠে।
রোববার উত্তরা বেড়িবাঁধ স্লুইজগেট এলাকায় দেখা যায়, সেখানে প্রায় ৫০টি অস্থায়ী কম্বলের দোকান গড়ে উঠেছে। এর আশপাশে আছে আরও প্রায় শ’ খানেক দোকান। সব দোকানেই কমবেশি ক্রেতা রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ভীড় লক্ষ করা গেছে ।শীতের পোশাক ও কম্বলের দোকানে।
জানা গেছে, এখানে ৪০০-৬০০ টাকার মধ্যে ভাল কম্বল পাওয়া যায়। তবে এর চেয়ে বেশি দামের কম্বলও রয়েছে। অন্যদিকে শিশু ও বড়দের জন্য আলাদা আলাদা শীতের পোশাকের উপস্থিতিও লক্ষণীয়। দামও নাগালের মধ্যেই।
কম্বল বিক্রেতা জাকির হোসেন জানান, ঢাকার বঙ্গবাজারেও তার দোকান আছে। অধিক বিক্রি ও লাভ বেশি হওয়ায় ইজতেমার সময় এ এলাকায় কম্বল বিক্রি করছেন।
আশপাশের অন্যান্য দোকানের মালিকরা নিজেদের পণ্য সরিয়ে কম্বল বিক্রেতাদের কাছে দোকান ভাড়া দিয়েছেন। বিনিময়ে মোটা অংকের ভাড়া পাচ্ছেন তারা। আর ব্যবসায়ীরা বেশি কম্বল বিক্রি করায় লাভের পরিমানটাও হচ্ছে বেশি।
ওই এলাকায় কম্বল বিক্রেতা আবুল কালাম জানান, তিনি ২০ বছর ধরে ইজতেমার সময় সেখানে কম্বল বিক্রি করেন। ঢাকায়ও নিজের দোকান আছে। এখানে দেশ-বিদেশের মুসল্লিরা কেনাকাটা করেন। ২০ দিনে অনেক কম্বল বিক্রি হয়। ফলে লাভও সন্তোষজনক হয়।
ফুটপাতে শীতের জ্যাকেট বিক্রেতা আজমত উল্লাহ জানান, এগুলো এক্সপোর্ট আইটেমের, গার্মেন্ট থেকে বের করে আনা। দাম ৮০০ টাকা। হাতে নিয়ে দেখা গেল, আজমতের কথার সত্যতা আছে। যে কোনো দোকানে এই মানের জ্যাকেট দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার কম হবে না।
অন্যদিকে শীতের পিঠা ও খাবারের দোকানগুলোতেও লোকের অভাব নেই। লাভলু জানান, বেড়িবাঁধ বাজার এলাকায় তার খাবারের একটি দোকান রয়েছে। ইজতেমায় অধিক লোকের সমাগম ও চাহিদা থাকায় বেড়িবাঁধে ভিটি ভাড়া নিয়ে অস্থায়ী খাবার দোকান করেছেন। এতে তিনি বেশ লাভবান হচ্ছেন। একই কারণে বিশ্ব ইজতেমাস্থলের আশপাশে পলিথিন শিট, পাটি, জায়নামাজসহ বিভিন্ন পণ্যের অস্থায়ী দোকান গড়ে উঠেছে।
এমএ/এমএইচএম/এমএমজেড