EN
  1. Home/
  2. জাতীয়

দ্রুত জাতীয় তামাক কর নীতি প্রণয়নের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৮:৩৫ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০২০

বহু স্তরভিত্তিক দুর্বল কর কাঠামো এবং তামাকজাত দ্রব্যের বিচিত্রতার কারণে এর দাম বাড়লেও বিকল্প বেছে নেয়ার সুযোগ থাকা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়, যা কার্যকর তামাক নিয়ন্ত্রণের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় রেখে সময়োপযোগী তামাক কর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন, সে লক্ষ্য পূরণের জন্য একটি বিস্তৃত তামাক কর নীতি গ্রহণের কথা বলেছেন। তাই প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি পূরণে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতীয় তামাক কর নীতি প্রণয়ন করতে হবে। যার মধ্যে করারোপসহ, কর আদায় পদ্ধতি ও পর্যবেক্ষণ, ট্রাকিং ও ট্রেসিং, কর ফাঁকি বন্ধ, আমদানি-রফতানি, তামাক কর সংক্রান্ত প্রশাসনিক বিষয়াদিসহ তামাক কর সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়াদি যুক্ত রাখতে হবে।

বুধবার (২৫ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি), বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা) ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এফসিটিসি নলেজ হাব অন টোব্যাকো ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ইলিসিট ট্রেড আয়োজিত ‘দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তামাক করের প্রবণতা, বিশেষত বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

ওয়েবিনারে ‘সাউথ-ইস্ট এশিয়া : ট্রেন্ডস ইন টোব্যাকো ট্যাক্সেশন’ শিরোনামে তথ্য উপস্থাপন করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এফসিটিসি নলেজ হাব অন টোব্যাকো ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ইলিসিট ট্রেডের রিসার্চ অফিসার ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার স্যাম ফিলবি। ‘টোব্যাকো ট্যাক্সেশন ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে তথ্য উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসের (বিএনটিটিপি) টেকনিক্যাল কমিটির কনভেনর ড. রুমানা হক। বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক সংস্থা দ্য ইউনিয়নের টোব্যাকো কন্ট্রোলের ডেপুটি ডিরেক্টর আশীষ পাণ্ডে। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এফসিটিসি নলেজ হাব অন টোব্যাকো ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ইলিসিট ট্রেডের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর তৌহিদা জ্যাকব এবং সঞ্চালনা করেন আন্তর্জাতিক সংস্থা দ্য ইউনিয়নের কারিগরি পরামর্শক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর ও সাশ্রয়ী পদ্ধতি হলো দাম বাড়িয়ে একে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে আনা। এতে একইসঙ্গে তামাকের ব্যবহার কমে এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পায়। কিন্তু বাংলাদেশে জটিল ও ত্রুটিপূর্ণ তামাক কর কাঠামোর জন্য তা তামাক নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে না। বাংলাদেশে কার্যকর তামাক কর ব্যবস্থার জন্য ‘জাতীয় তামাক কর নীতি’ প্রণয়ন জরুরি।

বাংলাদেশে মূল্যের ওপর শতাংশ হারে করারোপের ফলে তা তামাক নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব বৃদ্ধিতে কোনো অবদান রাখছে না, বরং তা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে তামাক কোস্পানির মুনাফা বৃদ্ধি করছে। বিগত ১০ বছরে তামাকজাত দ্রব্যের উৎপাদন দ্বিগুণ বাড়লেও কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে পাঁচ গুণ। এই অবস্থার পরিবর্তনে মূল্যের ওপর শতাংশ হারে করারোপের পাশাপাশি সকল প্রকার তামাকজাত দ্রব্যের ওপর সুনির্দিষ্ট করারোপের দাবি করেন বক্তারা।

ওয়েবিনারে বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, কলম্বিয়া ও শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিবিদ, তামাক কর বিশেষজ্ঞ ও তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মীরা অংশ নেন।

পিডি/এসএইচএস/এমএস