‘বাবার চিকিৎসার টাকা জোগাতে’ খুন করে মোটরসাইকেল ছিনতাই
বাঁ থেকে আলমগীর, রহিম, কায়সা
কক্সবাজারের চকোরিয়ায় অপহরণের তিন দিন পর মোবিন (১৬) নামে এক কিশোরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মোবিনকে হত্যা করা হয়েছিল জানিয়ে এ ঘটনার রহস্য উন্মোচন করা হয়েছে বলে দাবি সিআইডির।
এ ঘটনায় গ্রেফতাররা হলেন- কায়সার, রহিম ও আলমগীর। বাবার চিকিৎসার টাকা জোগাতে হাবিব মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেছিল বলে পুলিশকে জানিয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি (চট্টগ্রাম জোন) হাবীবুর রহমান এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, নিহত কিশোর চকোরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের নুরুল আলমের ছেলে। সে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত। গত ১৮ মে রাত বান্দরবানের লামায় যাওয়ার কথা বলে মোবিনের মোটরসাইকেল ভাড়া করে এক যুবক। ওইদিন রাত ১১টার দিকে চারজন মিলে গন্তব্যে রওনা হয়। পরদিন তাকে না পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে খোঁজ নিতে শুরু করেন স্বজনরা।
তিন দিন পর (২১ মে) লামার হলিরকাটা ঝিরির কাছ থেকে মোবিনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ডিআইজি হাবীবুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে সিআইডি তদন্ত শুরু করে। তদন্তে জানা যায়, ভাড়ায় মোটরসাইকেল নিয়ে লামায় যাচ্ছিল তিন যুবক। কল রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে কায়সার ও রহিমকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা মোবিনকে হত্যার কথা স্বীকার করে।
তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও মোবিনের মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। মোটরসাইকেলটি বিক্রি করা হয়েছিল আলমগীর নামে একজনের কাছে। তাকেও গ্রেফতার করে সিআইডি।

হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কায়সার জানিয়েছে, তার বাবা হাসপাতালে ভর্তি। ডাক্তার বলেছে, তার বাবা বাঁচবেন না। এরপরও কায়সার টাকা জোগাড় করে উন্নত চিকিৎসার জন্য চেষ্টা করে। বন্ধুদের পরামর্শে সে মোটরসাইকেল ছিনতাই করে টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করে। এরপর মোবিনের মোটরসাইকেলটি ছিনতাইয়ে নামে। এর আগেও অভিযুক্তরা ওই মোটরসাইকেলে উঠেছিল।
লামায় যাওয়ার পথে হলিরকাটা ঝিরির কাছাকাছি গেলে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়ার কথা বলে তারা থামে। এরপর রহিম মোবিনের দুই পা ও আব্দুল্লাহ দুই হাত চেপে ধরে এবং কায়সার ছুরি দিয়ে গলায় আঘাত করে। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে পেটে আঘাত করা হয়। এরপর তাকে পাহাড়ের নিচে ফেলে দেয়া হয়।
ডিআইজি হাবীবুর রহমানের দাবি, এদের নামে থানায় কোনো মামলা না থাকলেও এলাকায় তারা ছিঁচকে চুরি, ছিনতাই ও ছোটখাটো অপরাধ করতো। তারা কয়েকজন একত্রিত হয়ে সংঘবদ্ধ চক্র তৈরির চেষ্টা করছিল। এদের গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে একটি উঠতি বয়সী অপরাধী চক্রকে নিবারণ করা সম্ভব হলো।
টিটি/এসএস/জেআইএম