জঙ্গল সলিমপুরে ইউএনও-পুলিশের ওপর এলাকাবাসীর হামলা, আহত ১০
ফাইল ছবি
ভূমিখেকো ও সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছে এলাকাবাসী ও সন্ত্রাসীরা। এতে পুলিশ ও আনসার সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষে রাবার বুলেটবিদ্ধসহ আহত অবস্থায় বেশ কয়েকজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আনসার সদস্য রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জঙ্গল সলিমপুরের আলী নগরে র্যাবের ক্যাম্প নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণ করতে গেলে অতর্কিত এ হামলার ঘটনা ঘটে।
তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সীতাকুণ্ডের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহাদাত হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে জঙ্গল সলিমপুরের আলী নগরে র্যাবের ক্যাম্প নির্মাণের জন্য স্থান চিহ্নিত করতে যাই। সেখানে কোনো উচ্ছেদ অভিযান ছিল না। কিন্তু প্রশাসনের লোকদের উপস্থিতি টের পেয়ে এলাকাবাসীসহ স্থানীয় সন্ত্রাসীরা ইটপাটকেট ছুড়তে থাকে। পুলিশ বাধা দিলে তাদের ওপর চড়াও হয় গ্রামবাসী। এসময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পুলিশ ও আনসারের চার সদস্য রয়েছেন।
আহতদের মধ্যে আনসার সদস্য বাবুল মন্ডল, স্থানীয় বাসিন্দা আমেনা বেগম (৩০), মো. আলী রাজ হাসান সাগর (২৪), আমেনা বেগম (৫০), মো. বাবুল (৩৫), মো. পারভেজকে (২৩) চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির তদারককারী ও পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাদিকুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, সীতাকুণ্ডের আলী নগরের ছিন্নমূল এলাকা থেকে রাবার বুলেটে আহত অবস্থায় আলী রাজ হাসান সাগর নামের এক যুবককে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে ২৭ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। পরে আহত আরও পাঁচজনকে ২০ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আনসার সদস্য রয়েছেন।
এদিকে জঙ্গল সলিমপুরের পরিবেশ-প্রতিবেশের ভারসাম্যসহ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
প্রায় তিন দশক ধরে জঙ্গল সলিমপুরের পাহাড়ে হাজারো অবৈধ স্থাপনা এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে ওঠে। সম্প্রতি সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। অভিযানে উদ্ধার হয়েছে প্রায় তিন হাজার ১০০ একর খাসজমি।
একসময় জঙ্গল সলিমপুর চট্টগ্রামের এক বিচ্ছিন্ন এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। যেখানে ভূমিখেকো ও সন্ত্রাসীদের দেওয়া পরিচয়পত্র ছাড়া কেউ ঢুকতে পারতেন না। প্রশাসনের কেউ যেন প্রবেশ করতে না পারেন সেজন্য স্থানীয় সন্ত্রাসীদের নজরদারি ছিল। এলাকাটি ছিল সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য। সেখানকার অনেক পাহাড় কেটে প্লট হিসেবে বিক্রি করছিল ভূমিখেকো ও সন্ত্রাসীরা, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে উঠছে।
ইকবাল হোসেন/এমকেআর/জেআইএম