ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

জাহাজভাঙা শিল্প নিরাপদ করতে কাজ করছে সরকার: পরিবেশ উপমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৯:৫৮ পিএম, ১০ মে ২০২৩

জাহাজভাঙা শিল্পকে নিরাপদ ও পরিবেশসম্মত করতে সরকার নিরলস কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার।

তিনি জানান, জাহাজভাঙার ক্ষেত্রে যেন ক্ষতিকর রাসায়নিক, জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি ও জীববৈচিত্র্যের প্রতি হুমকি রোধ করা যায় তা নিশ্চিতে অন্য মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে কাজ করছি আমরা। এ লক্ষ্যে সরকার প্রণীত বিপদজনক বর্জ্য ও জাহাজভাঙার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০১১; ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য (ই-বর্জ্য) ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০২১, চিকিৎসা-বর্জ্য (ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ) বিধিমালা, ২০০৮ অনুসরণ করা হচ্ছে।

এসব বিধিমালার সঠিক বাস্তবায়নে যে কোনো জাহাজভাঙার ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিয়মিত পরিদর্শন করছেন বলেও জানান হাবিবুন নাহার।

বুধবার (১০ মে) সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে নরওয়ের জলবায়ু ও পরিবেশবিষয়ক উপমন্ত্রী রাগনহিল্ড সজোনার সিরস্টাডের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় অন্যদের মধ্যে ঢাকায় নরওয়ের রাষ্ট্রদূত এসপেন ইকটার-সেভেনডসেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ) সঞ্জয় কুমার ভৌমিক, উপসচিব আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী; নরওয়ে দূতাবাস ডেপুটি হেড অব মিশন সিলজে ফাইনস ওয়ানেবোসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং নরওয়ের জাহাজ মালিক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় রাগনহিল্ড সজোনার সিরস্টাড এবং এসপেন রিক্টর-সভেনডসেন বাংলাদেশ সরকারকে জাহাজের নিরাপদ ও পরিবেশসম্মত পুনর্ব্যবহারের জন্য হংকং আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুমোদনে সহায়তার অনুরোধ জানান।

পরিবেশ উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার বলেন, নরওয়ে সরকারের ক্লাইমেট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড থেকে সহায়তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে। এ সংক্রান্ত থাইল্যান্ডের আঞ্চলিক অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাংলাদেশকে জলবায়ু মোকাবিলায় সহায়তা করা হবে। এছাড়া জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশকে দেওয়া সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে সপ্তম। ফলে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ সম্পদ হারাচ্ছে।

তিনি আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সক্ষমতা বৃদ্ধি, রাসায়নিক বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, সবুজ শিল্প স্থাপনসহ অন্য ক্ষেত্রগুলোতে নরওয়ের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা কামনা করে বলেন, নরওয়েসহ উন্নত বিশ্বের সহায়তা পেলে বাংলাদেশ সরকার প্রণীত জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশকে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব হতে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।

সভায় উভয়পক্ষ সমুদ্রে প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানোসহ জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এছাড়া কপ-২৮ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশ ও নরওয়ের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপরও উভয়পক্ষ ঐক্যমত পোষণ করেন।

আইএইচআর/এমকেআর/এএসএম