ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হিসাবরক্ষক পরিচয়ে প্রতারণা, হাতিয়েছেন ২৫ লাখ

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০১:১৫ পিএম, ২৭ জুলাই ২০২৩

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হিসাবরক্ষক পরিচয় দিয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করেছেন এমন ব্যক্তিদের ফোন করতেন একটি প্রতারক চক্র। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাছে ৭৫ হাজার টাকা পাওনা রয়েছেন বলে জানানো হতো জানানো তাদের। এরপর তাদের ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের তথ্য সংগ্রহ করে অর্থ আত্মসাৎ করতো ওই চক্র। এ পর্যন্ত চক্রটি হাজ পালনকারীদের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে।

এ চক্রের মূলহোতাসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির সিটি সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন। বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) ফরিদপুর সদরের চর কমলাপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন- চক্রের মূলহোতা সিরাজুল ইসলাম ওরফে শুভ (২৯) ও তার সহযোগী শরিফুল ইসলাম (২৯)। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড জব্দ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন>> ভিডিওকলে পর্নো চালিয়ে মন্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা, গ্রেফতার ২

সিটি সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আরিফুল হোসেইন তুহিন জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থানায় যারা হজ পালনে গিয়েছিলেন তাদের মোবাইল নম্বরসহ তালিকা সরকারি একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। প্রতারক চক্রটি ওয়েবসাইটের তালিকার তথ্য ব্যবহার করে বিভিন্ন মোবাইল ফোন নম্বরের মাধ্যমে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হিসাবরক্ষক পরিচয় দেয়। একপর্যায়ে হজের খরচ থেকে উদ্বৃত টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে তাদের ব্যাংকের ডেবিট, ক্রেডিট (মাস্টার/ভিসা) কার্ড নম্বর এবং সিভিসি/সিভিভি নম্বর সুকৌশলে সংগ্রহ করে চক্রটি।

পরে চক্রটি এসব কার্ডের নম্বর ব্যবহার করে অবৈধ ট্রানজেকশন করতে চাইলে রিয়েল টাইমে ব্যাংকের সার্ভার থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওটিপি গ্রাহকের মোবাইলে চলে আসে। এ পর্যায়ে চক্রটি গ্রাহকের সঙ্গে ফোনে কথা বলে জানায়, ‘ব্যাংক থেকে আপনার কাছে আপনার আবেদন করা সিরিয়াল নম্বর পাঠানো হয়েছে। ওই নম্বরটি আমাদের জানান।’

আসলে ওই নম্বরটিই ট্রানজেকশনের স্বয়ংক্রিয় ওটিপি, যা ব্যবহার করে প্রতারকরা ওই গ্রাহকের ডেবিট, ক্রেডিট (মাস্টারকার্ড/ভিসা) কার্ডের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিয়ে লেনদেন সম্পন্ন করে থাকে।

এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে সিটিটিসি সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনে একটি অভিযোগ আসে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ছায়া তদন্তে নেমে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়।

আরও পড়ুন>> পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের নামে ১২ লাখ টাকা আত্মসাৎ

আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে সিটি সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের পুলিশ পরিদর্শক মতলুবর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, চক্রের মূল হোতা সিরাজুল ইসলাম ওরফে শুভ তার অন্য সহযোগীদের যোগসাজশে চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থানায় হজ পালন করে এসেছেন এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে। এছাড়া আগেও চক্রটি গত ১০ বছরের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক প্রতারণার সঙ্গে জড়িত।

তিনি বলেন, তারা মূলত সরকারি বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে সরকারি সেবা গ্রহীতাদের তথ্য সংগ্রহ করে প্রতারণার জাল বিস্তার করে। বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, উপবৃত্তি, সরকারি বিভিন্ন কল্যাণ ভাতা থেকে অনুদানসহ সরকার ঘোষিত সুবিধাপ্রাপ্তদের টার্গেট করেই বছরের পর বছর একের পর এক প্রতারণা করেছে। এর মধ্যে শরীফুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে এবং ৩ মাস আগেই সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের কল্যাণ অনুদানের সুবিধাভোগীদের অর্থ আত্মসাৎ করার মামলায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে শরীফুলকে গ্রেফতার হয়।

এক মাস আগে জামিনে বের হয়ে শরীফুল আবারও প্রতারণা শুরু করেন। তবে এক দশকের বেশি সময় ধরে অপরাধ করেও গ্রেফতার এড়িয়ে চলতে পেরেছিলেন চক্রের মূল হোতা সিরাজুল ইসলাম ওরফে শুভ।

গ্রেফতাদের পল্টন থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান সিটিটিসির এ কর্মকর্তা।

টিটি/ইএ/এএসএম