স্বাধীনতা দিবসে এত আয়োজন অনেকে দেখেনি আগে
২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি দিনটিতে বিরাজ করে উৎসবের আমেজ। ৪৬তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে শনিবার যত উৎসবের আয়োজন ছিল, অনেকের দৃষ্টিতেই তা অভূতপূর্ব। স্বাধীনতা দিবসে এত উৎসব আগে কখনো দেখেননি তারা।
চৈত্রের মাঝামাঝিতে মোটামুটি উষ্ণ দিনেই দিবসটি পালিত হয়েছে। তবে তাপমাত্রা কোনো বাধ সাধতে পারেনি উৎসাহ-উদ্দীপনায়। রাজধানীবাসী যে যার অবস্থান থেকে উপভোগ করেছেন গর্বের এ দিবসটি।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আগের রাতেই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়। অবশ্য দিনের আলোতে কম উৎসব হয়নি সেসব স্থাপনায়।
জাতীয় পর্যায়ে সাভারে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মূলত রাজধানীতে অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, প্রধান বিরোধী শক্তি বিএনপি, বিরোধী দল জাতীয় পার্টি এমনকি জামায়াতে ইসলামীও দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে।
সরকারি ছুটির এই দিনটিতে ধর্মীয় উপাসনালয়েও বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। অফিস-আদালত বন্ধ থাকায় ঢাকাবাসী পরিবার-পরিজন নিয়ে এ দিন ভিড় জমিয়েছেন বিনোদন কেন্দ্রগুলোতেও। ঢাকার সড়ক গুলোতেও আনন্দের কমতি ছিল না।
হাতিরঝিলে ঘুরতে আসা সোহানা সাব্বির দম্পতি জাগো নিউজকে জানান, স্বাধীনতা দিবসটি সবসময় ভিন্নভাবে উদযাপন করার চেষ্টা করেন তারা। সকালে সাভারের স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দিনভর আনন্দ উল্লাসে সময় পার করেছেন তারা।
দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শোভাযাত্রা, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
সকল সরকারি-আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাসমূহ আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে।
দিবসটি উপলক্ষে হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রমসহ এ ধরনের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে।
এমএম/এসকেডি/এনএফ/এমএস