ইন্টারপোল তারেকের রেড নোটিশ কেন বাতিল করেছে জানে না পুলিশ
বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামে জারি করা ইন্টারপোলের রেড এলার্ট বাতিলের বিষয়টি সন্দেহের চোখে দেখছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, রেড নোটিশ জারির পর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন লবির মাধ্যমে বিকৃত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে রেড নোটিশ বাতিল করিয়েছেন তারেক।
সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দফতর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের এ সন্দেহের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া কেন এ নোটিশ বাতিল করা হয়েছে, ইন্টারপোলের কাছে তা জানতে চেয়ে যে জবাব পাওয়া গেছে, তার পুরোটা বোঝেনি পুলিশ। কারণ ইন্টারপোল বলছে, তারেক ‘প্রোটেকটিভ স্ট্যাটাসে’ আছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিওয়ে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় করা মামলাসহ অন্যান্য ১৩টি মামলার অভিযুক্ত আসামির তালিকায় তারেকের নাম থাকায় ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির জন্য ইন্টারপোলকে অনুরোধ করা হয়। ওই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর রেড নোটিশ জারি করে।
বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির খবরটি গতবছরের এপ্রিলে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে আসে। এরপর চলতি মাসে জানা যায় তা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
পুলিশের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রেড নোটিশটি রিভিউ করার কারণ কী জানতে ইন্টারপোলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানায়, তারেক রহমান প্রটেকটিভ স্ট্যাটাসে আছেন বিধায় তার রেড নোটিশ বাতিল করার সুযোগ আছে। প্রটেকটিভ স্ট্যাটাস বিষয়টি বোধগম্য না হওয়ায় কে বা কোন দেশ তাকে প্রটেকটিভ স্ট্যাটাস দিয়েছে তার সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, ‘ধারণা করা হচ্ছে, রাজনৈতিক আশ্রয়ের মতোই প্রটেকটিভ স্ট্যাটাসও বিদেশে আশ্রয় গ্রহণের মতো অন্য একটি উপায়। তদন্ত চলা কোনো ফৌজদারি মামলায় ও আসামিদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করার বিধান ও দৃষ্টান্ত আছে। তারেক রহমান একাধিক ফৌজদারি মামলার অভিযুক্ত আসামি, যা আদালতে বিচারাধীন। তারপরও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে জারিকৃত রেড নোটিশ কেন প্রত্যাহার হবে, তা বাংলাদেশ পুলিশের কাছে বোধগম্য নয়। বাংলাদেশ পুলিশ এ ব্যাপারে ইন্টারপোলের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
এফএইচ/এনএফ/এবিএস