কুমিল্লা-২
প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে কর্মীদের সঙ্গে ইসিতে কাঁদলেন আবদুল মজিদ
নির্বাচন কমিশনে (ইসি) যাচাই-বাছাইয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরে ত্রুটি। এ অবস্থায় মনোনয়ন ফিরে পেতে যারা আপিল করেছেন তাদের বেশিরভাগই স্বতন্ত্র প্রার্থী। তাদেরই একজন কুমিল্লা-২ (মেঘনা-হোমনা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মজিদ।
সোমবার (১১ ডিসেম্বর) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে ইসির দ্বিতীয় দিনের আপিল শুনানিতে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন আবদুল মজিদ। প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার খবরে কমিশন চত্বরে উপস্থিত তার কর্মী-সমর্থকেরা খুশি আর আবেগে কেঁদে ফেলেন। এসময় তাদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি নিজেও চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।
আবদুল মজিদ যখন গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছিলেন তখন তার পাশেই অঝোরে কাঁদছিলেন দুই নারী। তাদের মধ্যে একজন শিউলি আক্তার সোমা, অন্যজন হাওয়া বেগম।

এসময় কথা হয় হাওয়া বেগমের সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, আমরা খুশিতে কান্না করছি। আমাদের এ কান্না আনন্দের, আবেগের। আমাদের স্যার (আবদুল মজিদ) প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। স্যার কুমিল্লা-২ আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন। প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে আমরা এতোটাই খুশি তা বলে বোঝানো যাবে না।
একই সময়ে বারবার চোখ মুছতে মুছতে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় প্রার্থী আবদুল মজিদকে।
তিনি বলেন, আমি সবার কাছে দোয়া চাই। আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। কমিশনকে অসংখ্য ধন্যবাদ, আমার প্রার্থিতা ফিরিয়ে দিয়েছে। আমি আশা করি বিপুল ভোটে কুমিল্লা-২ আসনের জনগণ আমাকে বিজয়ী করবেন।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাদ পড়া প্রার্থীদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে দ্বিতীয় দিনের মতো আপিল আবেদনের ওপর শুনানি চলছে। সোমবার সকাল ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে শুনানি শুরু হয়। যা চলবে আগামী ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ছয়দিনের এই শুনানিতে প্রতিদিন ১১০ জন করে প্রার্থীর আপিল শুনানি করবে ইসি।

এরমধ্যে গতকাল রোববার প্রথম দিনে প্রার্থিতা বাতিল হওয়া ৯৪ জনের আপিল আবেদনের শুনানি করে ইসি। যেখানে ৫৬ জন তাদের প্রার্থিতা ফেরত পান।
এদিকে, ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিলের কারণে যাদের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছিল তারা আপিল শুনানিতে নিজেদের সমর্থকদের নিয়ে ইসিতে হাজির হচ্ছেন।
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ২৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে দুই হাজার ৭১২ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাছাইয়ে বাদ পড়ে ৭৩১ জন প্রার্থীর মনোনয়ন। তার মধ্যে ৫৬১ জন প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আবেদন করেন। প্রথম দিনে ৫৬ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন ফিরে পেয়েছেন। তবে দ্বিতীয় দিনে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার থেকে বাতিলের হার বেশি।
ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রতীক বরাদ্দ করবেন ১৮ ডিসেম্বর। নির্বাচনী প্রচারণা চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ হবে ৭ জানুয়ারি।
এমওএস/এমকেআর/জেআইএম