ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. মতামত

চাই কার্যকর সংসদ

ইতিহাসের শিক্ষা, বর্তমানের বাস্তবতা ও ভবিষ্যতের পথরেখা

ড. হারুন রশীদ | প্রকাশিত: ১০:০৩ এএম, ০৪ এপ্রিল ২০২৬

একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক যাত্রায় সংসদ কেবল একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার প্রতিফলন। রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দিকনির্দেশনা, আইন প্রণয়ন, নীতিনির্ধারণ এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রধান মঞ্চ হলো সংসদ। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—আমাদের সংসদ কি সত্যিই সেই প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করতে পারছে? দেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে এই প্রশ্নের সৎ উত্তর খুঁজে বের করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার করা এখন সময়ের দাবি।

বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, স্বাধীনতার পরপরই একটি কার্যকর সংসদ গঠনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে একটি প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রথম সংসদে বিতর্ক, মতবিনিময় ও নীতিনির্ধারণের একটি প্রাণবন্ত পরিবেশ ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং পরবর্তীতে একদলীয় শাসনব্যবস্থার প্রবর্তনের ফলে সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে যায়।

পরবর্তী সময়ে সামরিক শাসনের দীর্ঘ অধ্যায় সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও দুর্বল করে তোলে। সংসদ তখন কার্যত একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়, যেখানে প্রকৃত বিতর্ক বা বিরোধী মতের সুযোগ সীমিত ছিল। ১৯৯১ সালে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর সংসদ আবার তার কার্যকারিতা ফিরে পাওয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি।

একটি কার্যকর সংসদ গড়তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা। আইন, কাঠামো বা সংস্কার—সবকিছুই ব্যর্থ হবে যদি নেতৃত্ব আন্তরিক না হয়। ক্ষমতাকে জনসেবার মাধ্যম হিসেবে দেখতে হবে, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের হাতিয়ার হিসেবে নয়। দেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের সংসদকে নতুনভাবে সাজাতে হবে। ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে, দুর্বল সংসদ কখনো শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়তে পারে না। তাই সময় এসেছে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক সংসদ গড়ে তোলার।

১৯৯১-পরবর্তী সংসদগুলোর একটি বড় সমস্যা ছিল বিরোধী দলের সংসদ বর্জন। প্রায় প্রতিটি মেয়াদেই বিরোধী দল দীর্ঘ সময় ধরে সংসদে অনুপস্থিত থেকেছে। ফলে সংসদে কার্যকর বিতর্ক, সমালোচনা ও বিকল্প মতামতের অভাব দেখা দিয়েছে। একতরফা আইন পাস, দ্রুত বিল অনুমোদন এবং সংসদীয় কমিটির দুর্বলতা সংসদের কার্যকারিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

কার্যকর সংসদের অন্যতম শর্ত হলো শক্তিশালী ও সক্রিয় বিরোধী দল। গণতন্ত্রে বিরোধী দল সরকারের প্রতিপক্ষ নয়, বরং গণতান্ত্রিক ভারসাম্যের একটি অপরিহার্য অংশ। তারা সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরে, বিকল্প প্রস্তাব দেয় এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সোচ্চার থাকে। কিন্তু যদি বিরোধী দলকে দমন করা হয় বা তারা নিজেরাই সংসদ থেকে দূরে থাকে, তাহলে সংসদ তার প্রাণশক্তি হারায়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সংসদে বিতর্কের মান। অনেক সময় দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুগুলো নিয়ে গভীর ও তথ্যভিত্তিক আলোচনা হয় না। ব্যক্তিগত আক্রমণ, কটূক্তি এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা সংসদের পরিবেশকে কলুষিত করে। এতে জনগণের কাছে সংসদের গ্রহণযোগ্যতা কমে যায় এবং তরুণ প্রজন্ম রাজনীতির প্রতি আগ্রহ হারায়।

সংসদীয় কমিটিগুলো একটি কার্যকর সংসদের মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচিত। উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে এসব কমিটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং প্রভাবশালী। তারা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজ পর্যবেক্ষণ করে, নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখে এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়। কিন্তু আমাদের দেশে সংসদীয় কমিটিগুলোর কার্যকারিতা এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অনেক ক্ষেত্রে তাদের সুপারিশ বাস্তবায়িত হয় না, যা একটি বড় দুর্বলতা।

আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেও আমাদের সংসদের উন্নতির সুযোগ রয়েছে। অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলো খুব অল্প সময়ের মধ্যে পাস করা হয়, যেখানে পর্যাপ্ত আলোচনা বা জনমত যাচাই করা হয় না। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া হওয়া উচিত স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক এবং গবেষণাভিত্তিক। এতে আইনগুলো বাস্তবসম্মত ও টেকসই হয়।

সংসদ সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আইন প্রণয়ন, অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক—এসব বিষয়ে দক্ষতা অর্জন ছাড়া একজন সংসদ সদস্য তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেন না। এজন্য প্রয়োজন প্রশিক্ষণ, গবেষণা সহায়তা এবং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার।

প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সংসদকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করা সম্ভব। সংসদের কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে জনগণের মতামত গ্রহণ এবং তথ্যপ্রকাশের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা যায়। এতে জনগণ সংসদের প্রতি আস্থা ফিরে পাবে এবং অংশগ্রহণ বাড়বে।

রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ছাড়া কার্যকর সংসদ গঠন সম্ভব নয়। আমাদের দেশে রাজনৈতিক সহনশীলতার অভাব একটি বড় সমস্যা। ভিন্নমতকে সম্মান করা, সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খোঁজা এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। রাজনীতি যদি সংঘাতমুখী হয়, তাহলে সংসদও সেই প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারে না।

আসলে একটি কার্যকর সংসদ গড়তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা। আইন, কাঠামো বা সংস্কার—সবকিছুই ব্যর্থ হবে যদি নেতৃত্ব আন্তরিক না হয়। ক্ষমতাকে জনসেবার মাধ্যম হিসেবে দেখতে হবে, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের হাতিয়ার হিসেবে নয়।

দেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের সংসদকে নতুনভাবে সাজাতে হবে। ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে, দুর্বল সংসদ কখনো শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়তে পারে না। তাই সময় এসেছে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক সংসদ গড়ে তোলার।

একটি শক্তিশালী সংসদ মানেই শক্তিশালী গণতন্ত্র, আর শক্তিশালী গণতন্ত্রই পারে একটি সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। এখন সিদ্ধান্ত আমাদের—আমরা কি সেই পথে হাঁটব, নাকি একই ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটতে দেব?

দুই.
সংসদকে কার্যকর করা কোনো একক পদক্ষেপের বিষয় নয়; এটি একটি ধারাবাহিক সংস্কারপ্রক্রিয়া, যেখানে কাঠামোগত পরিবর্তন, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও জনসম্পৃক্ততা—সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন।

১. সংসদীয় সংস্কার ও কার্যপ্রণালীর আধুনিকীকরণ

সংসদের কার্যপ্রণালী (Rules of Procedure) যুগোপযোগী করা জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পুরোনো বিধিবিধান বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রশ্নোত্তর পর্বকে আরও প্রাণবন্ত ও বাধ্যতামূলক করা, বিল আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করা এবং হঠাৎ করে বিল পাসের প্রবণতা কমানো দরকার। জরুরি আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেও ন্যূনতম বিতর্ক নিশ্চিত করতে হবে।

২. কার্যকর প্রশ্নোত্তর ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ

প্রশ্নোত্তর পর্ব সংসদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি। এখানে সংসদ সদস্যরা সরাসরি মন্ত্রীদের জবাবদিহির আওতায় আনেন। কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়া হয় বা প্রাসঙ্গিক তথ্য দেওয়া হয় না। এজন্য:
• মন্ত্রীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করতে হবে
• সম্পূরক প্রশ্নের সুযোগ বাড়াতে হবে
• অসন্তোষজনক উত্তরের ক্ষেত্রে ফলো-আপ ব্যবস্থার প্রবর্তন করতে হবে

৩. সংসদীয় কমিটিগুলোর শক্তিশালীকরণ

সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোকে কার্যকর না করলে সংসদ কখনোই শক্তিশালী হবে না। এজন্য:
• কমিটির সভাপতির পদে দলীয় ও বিরোধী উভয়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা
• কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক করা
• বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের সম্পৃক্ত করা
• কমিটির শুনানি (hearing) জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা

৪. বিরোধী দলের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা

সংসদে বিরোধী দলের সক্রিয় উপস্থিতি ছাড়া কার্যকর গণতন্ত্র সম্ভব নয়। এজন্য:
• বিরোধী দলের মতামত দেওয়ার যথেষ্ট সময় বরাদ্দ
• গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় পদে (যেমন: পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি) বিরোধী দলের নেতৃত্ব নিশ্চিত করা
• রাজনৈতিক হয়রানি ও দমনমূলক পরিবেশ কমানো

৫. আইন প্রণয়নে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি

আইন জনগণের জন্য, তাই আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ থাকা উচিত। এজন্য:
• গুরুত্বপূর্ণ বিলের ক্ষেত্রে গণশুনানি আয়োজন
• খসড়া বিল অনলাইনে প্রকাশ করে জনমত আহ্বান
• সুশীল সমাজ, পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞদের মতামত অন্তর্ভুক্ত করা

৬. গবেষণা ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ

সংসদ সদস্যদের জন্য একটি শক্তিশালী গবেষণা সহায়তা ব্যবস্থা থাকা জরুরি। উন্নত দেশগুলোতে সংসদের নিজস্ব গবেষণা বিভাগ থাকে, যা সদস্যদের তথ্য সরবরাহ করে। বাংলাদেশেও:
• সংসদীয় গবেষণা সেল গড়ে তোলা
• ডাটা অ্যানালাইসিস ও নীতি বিশ্লেষণের সুযোগ সৃষ্টি
• বিশ্ববিদ্যালয় ও থিঙ্ক ট্যাঙ্কের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি

৭. সংসদ সদস্যদের দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ

অনেক সংসদ সদস্য আইন প্রণয়ন বা অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে প্রশিক্ষিত নন। এজন্য:
• নবনির্বাচিত সদস্যদের জন্য ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম
• নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মশালা
• আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ

৮. উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা

সংসদ সদস্যদের অনুপস্থিতি একটি বড় সমস্যা। অনেক গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনেও আসন ফাঁকা থাকে। এজন্য:
• উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা
• অনুপস্থিতির জন্য জবাবদিহিতা নির্ধারণ
• সক্রিয় অংশগ্রহণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন ব্যবস্থা

৯. রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও সহনশীলতা গড়ে তোলা

কার্যকর সংসদের জন্য সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি অপরিহার্য। এজন্য:
• ব্যক্তিগত আক্রমণ পরিহার
• যুক্তিভিত্তিক ও শালীন বিতর্ক উৎসাহিত করা
• দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্য গড়ে তোলা

১০. প্রযুক্তির ব্যবহার ও ডিজিটাল সংসদ

ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে সংসদের কার্যকারিতা অনেক বাড়ানো সম্ভব। যেমন:
• সংসদের কার্যক্রম লাইভ সম্প্রচার
• ই-পার্লামেন্ট ব্যবস্থা চালু
• অনলাইন ভোটিং ও ডকুমেন্ট ম্যানেজমেন্ট
• নাগরিকদের জন্য ওপেন ডাটা প্ল্যাটফর্ম

১১. বাজেট প্রক্রিয়ায় গভীর পর্যালোচনা

বাজেট সংসদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কিন্তু অনেক সময় তা পর্যাপ্ত আলোচনার সুযোগ পায় না। এজন্য:
• বাজেটের খাতভিত্তিক বিশ্লেষণ
• কমিটির মাধ্যমে বিস্তারিত পর্যালোচনা
• বিকল্প বাজেট প্রস্তাবের সুযোগ সৃষ্টি

১২. নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা

সংসদ সদস্যদের নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য:
• আচরণবিধি (Code of Conduct) কঠোরভাবে প্রয়োগ
• সম্পদের বিবরণী প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা
• স্বার্থের সংঘাত (conflict of interest) নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা

১৩. মিডিয়া ও জনগণের সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধি

সংসদের কার্যক্রম জনগণের কাছে বোধগম্য ও গ্রহণযোগ্য করতে:
• সংসদীয় কার্যক্রম সহজ ভাষায় প্রকাশ
• মিডিয়ার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা
• নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ

১৪. বিচার বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভারসাম্য

সংসদকে শক্তিশালী করতে হলে অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। ক্ষমতার পৃথকীকরণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো প্রতিষ্ঠান এককভাবে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে।

সব মিলিয়ে, কার্যকর সংসদ গঠন একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যা কেবল আইন বা কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা, এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ।

যদি আমরা সত্যিই একটি উন্নত, ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই রাষ্ট্র গড়তে চাই, তাহলে সংসদকে শুধু আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং গণতন্ত্রের কার্যকর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলতেই হবে।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট। ডেপুটি এডিটর, জাগো নিউজ।
[email protected]

এইচআর/এএসএম

আরও পড়ুন