আমাদের আরেকবার যুবক হয়ে লড়তে হবে: জামায়াত আমির
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জামায়াত আগামীর বাংলাদেশকে কীভাবে গড়তে চায়-দেখতে চায় তার একটা আংশিক রিফ্লেকশন ছিল আজ। বাংলাদেশ ভালো না থাকলে কেউ ভালো থাকবে না। শৈশবে আমরা যে দেশ পেয়েছিলাম, বিশ্বের অন্যান্য দেশ যেভাবে এগিয়ে গেছে, সেখানে আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি। পরবর্তী প্রজন্মকে আমরা কীভাবে রেখে যাব, তাই আমি বলতে চাই আমাদের আরেকবার যুবক হয়ে লড়তে হবে।’
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জামায়াতের পলিসি সামিট-২০২৬ অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘অতীতে আমাদের দেশকে খেয়ে-দেয়ে, লুটপাট করে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা একটা কঙ্কাল পেয়েছি। আর এটা নিয়ে আমরা এগিয়ে যাব। এ কঙ্কালকে জীবন্ত বাংলাদেশ বানাব।’
তিনি বলেন, ‘তোমাদের কাজ শেষ হয়নি। কাজ মাত্র শুরু হয়েছে। তোমরা একটা স্বৈরাচার তাড়িয়েছ, কিন্তু স্বৈরাচারী মানসিকতা এখনো দেশ থেকে যায়নি। এটাকে নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত লড়াই অব্যাহত থাকবে। এ জন্য আমরা তোমাদের সঙ্গে এবং পাশে থাকব।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘দুটি গোল ঠিক করতে হবে। প্রথমত, আমাদের কাজ শুরু করতে হবে প্রাইমারি লেভেলের শিক্ষা থেকে। আমরা ওই সমস্ত থিয়োরেটিক্যাল শিক্ষা এ দেশের জন্য চাচ্ছি না। ওটাকে বিদায় করে দিব। দ্বিতীয়ত, সোশ্যাল জাস্টিস ঠিক করতে হবে। এ দুই জায়গায় কোনো ছাড় নাই। ন্যায়বিচার কায়েম করতে হবে, এতে যদি আমার মাথা উড়ে যায়, যাক। সবার জন্য সুবিচার ও সমান বিচার করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘৩৬ জুলাইয়ের পর একটি মজলুম সংগঠনকে আপনারা বুকে তুলে নিয়েছেন। আমরা আপনাদের কাছে চিরজীবনের জন্য ঋণী। প্রিয় দেশব্যাপী আমরা আপনাদের কাছে চিরজীবনের জন্য ঋণী। আমাদের এমন একটা সময় ছিল, আমরা ঠিকানা খুঁজে পেতাম না। সে সময় আপনারা আমাদের আশ্রয় দিয়েছেন। যারা গত ১৫ বছর আমাদের আশ্রয় দিয়েছেন, হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, সান্ত্বনা দিয়েছেন, আল্লাহ সাক্ষী আপনাদের ঋণ পরিশোধের কোনো শক্তি আমাদের নাই। প্রভুর কাছে দোয়া করি, আল্লাহ যেন জান্নাতেও আপনাদের আশ্রয় দেন।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা ঘোষণা করেছি। যদি সেবার সুযোগ পাই, রাষ্ট্রের বৈধ সব সুযোগ আমরা গ্রহণ করব না। যা না করলেই নয়, শুধু তা গ্রহণ করব। আমরা রাজনীতিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করি নাই, আমরা রাজনীতিকে কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করেছি। সম্পদ ফুলানোর জন্য আমরা রাজনীতি করি না। আমাদের রাজনীতি তখনি সার্থক হবে, যখন জনগণের চোখের পানি থেমে গিয়ে ঠোঁটের কোনায় সামান্য একটু হাসি ফুটে উঠে। এটাই হবে আমাদের রাজনীতি।’
আরএএস/আরএইচ