ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. রাজনীতি

খালিদুজ্জামানকে রিজভী

আপনার কি নিজের নাম নেই, নাকি পরিচয়ই- আপনি তারেক রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৪:১৮ পিএম, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী এস.এম. খালিদুজ্জামান সম্প্রতি ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় অস্ত্র ও গানম্যান নিয়ে প্রবেশের সময় সেনাসদস্যদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান। এসময় তিনি বারবার নিজেকে ওই আসনের বিএনপির প্রার্থী তারেক রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী বলে পরিচয় দিচ্ছিলেন। এনিয়ে খালিদুজ্জামানের তীব্র সমালোচনা করে ক্ষোভ ঝেড়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
 
ওই জামায়াত প্রার্থীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনার কি নিজের নাম নেই। সেনাসদস্যদের সঙ্গে অশোভন আচরণের সময় বারবার তারেক রহমানের নাম বলেছেন। জিভ দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করার কথা কেউ বলতে পারে? এটা তো আনপার্লামেন্টারি শব্দ। আপনি ১৫ থেকে ২০ বার তারেক রহমানের নাম উচ্চারণ করেছেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর লেকশোর হোটেলে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
 
সেনাসদস্যদের সঙ্গে জামায়াত প্রার্থীর বাগবিতণ্ডার ৭ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও গতকাল মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, জামায়াত প্রার্থী খালিদুজ্জামান ক্যান্টনমেন্টে অস্ত্র ও গানম্যান নিয়ে প্রবেশ করতে গেলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনাসদস্যরা তাকে আটকে দেন। প্রার্থীর সঙ্গে থাকা একজন ব্যক্তি তখন সেনাসদস্যদের জানান, খালিদুজ্জামান ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াতের প্রার্থী। এসময় নিরাপত্তার স্বার্থে গানম্যান বা অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ না করার জন্য সেনাসদস্যরা তাকে অনুরোধ করেন।

আরও পড়ুন
সেনাসদস্যদের সঙ্গে জামায়াত প্রার্থী খালিদের বাগবিতণ্ডার ভিডিও ভাইরাল
ক্ষমা না চাইলে ক্যান্টনমেন্টে খালিদুজ্জামানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি

একপর্যায়ে জামায়াতের ওই প্রার্থী নিজেকে তারেক রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী উল্লেখ করে সেনাসদস্যদের সঙ্গে ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অশোভন’ আচরণ করেন। তিনি ৫ আগস্ট পরবর্তীসময়ের প্রসঙ্গ টেনে ‘কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর’ মন্তব্য করেন।

এ প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ক্যান্টনমেন্টের গেটে একটি দলের (যারা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে) একজন প্রার্থী নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যের সঙ্গে যে আচরণ করেছেন সেটা ভাষায় ব্যাখ্যা করা অত্যন্ত কঠিন। উনি কে, উনার নাম কী, উনি তা একবারও বলেননি। উনি বারবার বলেছেন, ‘আমি তারেক রহমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি’। কী অদ্ভূত ব্যাপার! সেনাসদস্যদের সঙ্গে এমন আচরণে আমরা বিস্মিত হয়েছি, হতভাগ হয়েছি।

জামায়াত প্রার্থী খালিদুজ্জামানের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, তার এসব কথা ও আচরণের মধ্যেই তো এক ধরনের ফ্যাসিবাদী এবং হিংসাশ্রয়ী আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। আপনি কে, আপনি তারেক রহমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কেন, আপনার কি নিজের নাম নাই? আমরা এমন ফ্যাসিবাদী আচরণ চাই না।

বিএনপির এ অন্যতম মুখপাত্র বলেন, আমরা বিশেষ করে নিরাপত্তা বাহিনী সম্পর্কে কোনো কথা বলি না। এই প্রতিষ্ঠানকে মর্যাদা ও সম্মানের জায়গায় রাখতে হবে। তারাই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে কাজ করে। এই প্রতিষ্ঠানকে কখনো অপমানিত হতে দেওয়া যায় না, কখনো অসম্মান করা যায় না।

তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে আমরা অনেকভাবে অত্যাচারিত হয়েছি, কিন্তু সেনাবাহিনীকে সব সমালোচনার বাইরে রেখেছি। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে এই প্রতিষ্ঠানকে আমাদের মর্যাদা দিয়ে রক্ষা করতে হবে।
 
জামায়াতের প্রার্থীর আচরণ ‘অশোভন’ দাবি করে রিজভী বলেন, উনার আচরণে যে বিকৃত মানসিকতা দেখা গেছে সেটা আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। ফ্যাসিবাদ কি আবার নতুনভাবে নতুন কায়দায় ধর্মের নাম নিয়ে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে? সেটা তো আরও ভয়াবহ ও ভয়ঙ্কর মনে হয়।

তিনি বলেন, ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতি করে আসছি, ইউনিভার্সিটিতে প্রতিনিধিত্ব করেছি, ছাত্র সংগঠনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছি। বিভিন্ন সময় আন্দোলনে পুলিশের সঙ্গে আমাদের কথা কাটাকাটি হয়েছে, ঝগড়া হয়েছে। কিন্তু এ ধরনের আনপার্লামেন্টারি ওয়ার্ড কোনোদিন আমরা ব্যবহার করিনি।
 
জামায়াত নারীদের অপমান করছে দাবি করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আজকে নারীরা অপমানজনক কথার শিকার হচ্ছে। পৃথিবীর সব দেশে একটা গণতান্ত্রিক স্ট্যান্ডার্ড আছে। সেই স্ট্যান্ডার্ডগুলোকেও আজকে নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১২ তারিখ আমার মনে হয় জনগণ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। কারণ, গণতন্ত্র মানে হচ্ছে সভ্য মানুষদের শাসন। 

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন প্রমুখ।

এমওএস/এমকেআর