অস্ত্রসহ ক্যান্টনমেন্টে

সেনাসদস্যদের সঙ্গে জামায়াত প্রার্থী খালিদের বাগবিতণ্ডার ভিডিও ভাইরাল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৩৪ পিএম, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সেনাসদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান জামায়াত প্রার্থী এস.এম. খালিদুজ্জামান/ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী এস.এম. খালিদুজ্জামান সম্প্রতি ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় প্রবেশের সময় সেনাসদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন। এ ঘটনার ৭ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, জামায়াত প্রার্থী খালিদুজ্জামান ক্যান্টনমেন্টে অস্ত্র বা গানম্যান নিয়ে প্রবেশ করতে গেলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনাসদস্যরা তাকে আটকে দেন। প্রার্থীর সঙ্গে থাকা একজন ব্যক্তি তখন সেনাসদস্যদের জানান, খালিদুজ্জামান ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াতের প্রার্থী। এসময় নিরাপত্তার স্বার্থে গানম্যান বা অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ না করার জন্য সেনাসদস্যরা তাকে অনুরোধ করেন।

কিন্তু সেই অনুরোধে কর্ণপাত না করে উত্তেজিত হয়ে খালিদুজ্জামান সেনাসদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘তারেক জিয়ার ক্ষেত্রে তো আপনারা রাস্তা পরিষ্কার করছেন, আমরা কেন পারবো না?’ সেনাসদস্যদের উদ্দেশ্য করে তিনি অভিযোগ করেন, ‘আপনারা দেশটাকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছেন। ব্যক্তিস্বার্থে সরকার ও প্রশাসনকে বিতর্কিত করছেন।’

একপর্যায়ে দাঁড়িপাল্লার এই প্রার্থী সেনাপ্রধানের সঙ্গে কথা বলতে চান এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, জামায়াত প্রার্থী খালিদুজ্জামান তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের বলেন, ‘ভিডিও করো যে আমাদের গাড়ি যেতে দিচ্ছে না।’ সেনাসদস্যরা তাকে আশ্বস্ত করেন যে ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে তিনি নিরাপদ। তবু ওই প্রার্থী অভিযোগ করেন, তার গাড়ি ও দলকে অন্য দলের মাধ্যমে আক্রান্ত করা হতে পারে।

মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

এরপর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ নিয়ে একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করেন জামায়াত প্রার্থী এস.এম. খালিদুজ্জামান।

সেখানে তিনি ওই ঘটনাকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বেশকিছু দিন আগে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় প্রবেশকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের গর্ব ও অহংকার, সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী সেনাবাহিনীর দায়িত্বরত সদস্যদের সঙ্গে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম নেয়। বিষয়টি ইতোমধ্যে সমাধান হওয়া সত্ত্বেও দুঃখজনকভাবে একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই সমাধানকৃত ইস্যুকে কেন্দ্র করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।

পোস্টে তিনি আরও বলেন, ওই ঘটনার বিষয়ে আমি দুঃখপ্রকাশ করছি এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ভুল বোঝাবুঝি আর না হয় সে ব্যাপারে আমি সচেষ্ট থাকবো, ইনশাআল্লাহ্।

এ ঘটনার বিষয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা সেনাবাহিনী থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

কেএইচ/এমকেআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।