ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. রাজনীতি

কুমিল্লা-৩

বিএনপির ঘাঁটিতে জিততে মরিয়া জামায়াত

সালাহ উদ্দিন জসিম , জাহিদ পাটোয়ারী | কুমিল্লা থেকে | প্রকাশিত: ০৯:১৫ এএম, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

কুমিল্লার সবচেয়ে বড় উপজেলা মুরাদনগর। গোমতী নদীর তীরে মুরাদনগর নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে স্বাধীনতার পর থেকে জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি রাজত্ব করেছে। চার দলীয় জোটের আড়ালে জামায়াতে ইসলামী থাকলেও ততটা দাপুটে ছিল না এতদিন। তাদের সাংগঠনিকে শক্তিও লোকচক্ষুর আড়ালে ছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পর অবিস্মরণীয় উত্থান ঘটেছে দলটির। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে এক সময়ের মিত্র জামায়াত এখন বিএনপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী এই আসনে।

ভোটার-সমর্থকরা যা বলছেন

নির্বাচনি হালচাল জানতে কোম্পানীগঞ্জ বাজারের একটি চায়ের দোকানে কথা হয় ফল ব্যবসায়ী মনির হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি ব্যবসা করি। কোনো দলের সঙ্গে নেই। ভোটের সময় যারে ইচ্ছা ভোট দিমু। তবে এখানে বিএনপি-জামায়াত উভয়পক্ষের শক্ত অবস্থান আছে। কেউ কাউকে ফেলে দিতে পারবে না। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।’

বিএনপির ঘাঁটিতে জিততে মরিয়া জামায়াত

আরেক তরুণ ভোটার আমির হোসেন বলেন, ‘আমাদের এখানে রাজনৈতিক হানাহানি নাই। আওয়ামী লীগের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। অন্য দলের সঙ্গে তেমন হানাহানি হয় নাই। তবে, এখন বিএনপি ও জামায়াত নিজেরা নিজেরা প্রতিদ্বন্দ্বী। একটা জায়গায় হাল্কা সমস্যা হইছে। এর বাইরে এখনও কিছু হয় নাই। আশা করা যায়, সংঘাতহীন ভোট হবে। দুজন প্রার্থীই ভালো। মানুষ যাকে পছন্দ করে ভোট দিবে। এতে কোনো বাধা নাই।’

একই বাজারের আরেক দোকানি খাইরুল ইসলাম মনির বলেন, ‘আমাদের এখানে কায়কোবাদের অবস্থা ভালো। সারাদেশে বিএনপির কিছু বদনাম আছে। সেটার প্রভাব পড়বে কি না বুঝতেছি না। তবে এখানে অতোটা বদনাম নাই বিএনপির। জামায়াতেরও লোক আছে অনেক। দেখা যাক কী হয়!’

আরও পড়ুন:

বিএনপির রাজ্যে হাসনাতের পথ আটকাতে মাঠে ট্রাক 

দলীয় কোন্দলে দুর্বল বিএনপির ঘাঁটি, শক্ত অবস্থানে জামায়াত 

আসন পুনরুদ্ধার চাইবে বিএনপি, জামায়াতের সামনেও প্রথম সুযোগ 

মুরাদনগরবাসীর সবচেয়ে বড় কী, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সমস্যা তো মাদকের, নিরাপত্তাহীনতার। আসলে মূল সমস্যা আমাদের মানসিকতায়। আমরা কারে মাইরা কে বড়লোক হবো, এই চেষ্টায় থাকি।’

বিএনপির ঘাঁটিতে জিততে মরিয়া জামায়াত

কুমিল্লা-৩ এ ভোটের হিসাব-নিকাশ

দুইটি থানা ও ২২টি ইউনিয়ন নিয়ে মুরাদনগর উপজেলা। এই উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা-৩ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯১ হাজার ২২৮ জন। পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৯ হাজার ৯৯৮ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৪১ হাজার ২২৬ জন। পোস্টাল ভোটার ৯ হাজার ৮৯৮ জন।

এই আসনে প্রার্থী কারা কারা

এই আসনে ভোটকেন্দ্র ১৫৯টি, তন্মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ১৫৯টি। মোট প্রার্থী ৯ জন। তারা হলেন, বিএনপির কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মো. ইউসুফ সোহেল (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আহমদ আব্দুল কাইয়ুম, আম জনতা পার্টির রকিবুল হক, বাংলাদেশ রিপাবলিক পার্টির মোহাম্মদ এমদাদুল হক, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. খোরশেদ আলম, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের শরীফ উদ্দীন সরকার, এনডিএম এর রিয়াজ মোহাম্মদ শরীফ।  

বিএনপির ঘাঁটিতে জিততে মরিয়া জামায়াত

বিগত নির্বাচনের হালচাল

বিগত সালের ভোটের তথ্য বলছে, ১৯৮৬ সালের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ ৬৯ হাজার ২৬৫ ভোট পেয়ে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলম সরকার পান ৫৮ হাজার ৪৮৪ ভোট।

১৯৮৮ সালের অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ অংশ নিয়ে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫২ ভোট পেয়ে ২য় বার নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ফ্রিডম পার্টির আহমেদ মির্জা খবির পান ৫ হাজার ১১৮ ভোট।

১৯৯৬ সালে ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় পার্টি এবং পরে বিএনপি থেকে টিকিট নিয়ে ৫৩ হাজার ৮৯২ ভোট পেয়ে ৪র্থ বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন কায়কোবাদ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন। তিনি পান ৫০ হাজার ৬৩ ভোট।

বিএনপির ঘাঁটিতে জিততে মরিয়া জামায়াত

২০০১ সালের বিএনপির টিকিটে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ১ লাখ ৭ হাজার ৫১১ ভোট পেয়ে পঞ্চম বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন কায়কোবাদ। ২০০৮ সালেও বিএনপি থেকে নমিনেশন নিয়ে ১ লাখ ২৪ হাজার ৩৮৬ ভোট পেয়ে ৬ষ্ঠ বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

এবার তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের তরুণ নেতা ইউসুফ হাকিম (সোহেল) জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবারই প্রথম হলেও এর আগে আওয়ামী লীগের সময়ে বৈরি পরিবেশে মুরাদনগরের উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।

এসইউজে/এসএনআর