ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. রাজনীতি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪

নবীন-প্রবীণের লড়াই, ভোটে ফ্যাক্টর বিএনপির কোন্দল

আবুল হাসনাত মো. রাফি , সালাহ উদ্দিন জসিম | ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে | প্রকাশিত: ০২:৪০ পিএম, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

কসবা ও আখাউড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪। এখান থেকে ১৯৯১ এবং ২০০১ সালে সংসদ সদস্য (এমপি) পাওয়া বিএনপি এখন ফের এ আসনের দখল নিতে চায়। কিন্তু এতে বাদ সেধেছে দলটির মধ্যে থাকা কোন্দল ও প্রবীণ প্রার্থী। এমন অবস্থায় নবীন প্রতিদ্বন্দ্বী নিয়ে ভোটের মাঠে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

স্থানীয় রাজনীতি সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে আশির দশকে ছিল জাতীয় পার্টির রমরমা অবস্থা। তবে নব্বইয়ের পর থেকে অদলবদল করে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের জোয়ার চলে আসছে। যখন যে দল ক্ষমতায় ছিল, তখন তাদের এমপি ছিল এখান থেকে। সর্বশেষ ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা আওয়ামী লীগের দখলে ছিল আসনটি। এখন আওয়ামী লীগহীন মাঠে বিএনপি তা ফিরে পেতে মরিয়া। তবে তাতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে একসময়ে তাদেরই জোটসঙ্গী জামায়াত।

ইদানীং জামায়াত সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। সবার আগে ভোটের মাঠে নেমেছে তারা।একক প্রার্থী নিয়ে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড ও বাড়ি বাড়ি প্রচারণা চালিয়ে অনেকটা এগিয়ে গেছে দলটি। এছাড়া, তাদের প্রার্থী একজন সাবেক ছাত্রনেতা ও বয়সেও তরুণ। বিপরীতে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে ৮৬ বছর বয়সী একজনকে। এ নিয়ে দলে রয়েছে বিভাজন। দলটি থেকে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকায় অন্যদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজমান। ওপর দিয়ে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে থাকলেও ভেতরে ভেতরে জামায়াতকে আশ্রয় দেওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

নবীন-প্রবীণের লড়াই, ভোটে ফ্যাক্টর বিএনপির কোন্দল

বিএনপিতে কোন্দল

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ড. মুশফিকুর রহমানকে মনোনয়ন দেওয়ায় বাকি আগ্রহীরা ক্ষুব্ধ। কারণ তার বয়স বেশি, শারীরিক অবস্থা নাজুক। জামায়াতের তরুণ প্রার্থীর বিপরীতে তিনি ফিট নন। দীর্ঘদিন এলাকার সঙ্গে তার তেমন সংযোগও ছিল না। তার অবর্তমানে আসনটি দেখভাল করেছেন জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহমেদ ভূঞা। দুই উপজেলায় কমিটিও তার অনুসারীদের দিয়ে করা।

এখন মুশফিক এসে মনোনয়ন বাগিয়ে নেওয়ায় অনেকে অবাক হয়েছেন, মেনে নিতে পারেননি। কবিরের অনুসারীরা মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলনও করেছেন। যদিও এক পর্যায়ে দলীয় সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর কবির বলয়ের কয়েকজন মুশফিকের পক্ষে গণসংযোগ করছেন।

তবে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধারণা, যে যাই করুক। প্রকৃতপক্ষে এখানে দলীয় কোন্দলই কাল হবে। যদি খারাপ কিছু হয়, দলীয় অধিকাংশ নেতাকর্মীর নীরবতার কারণেই হবে। অনেকের ধারণা, মুশফিক পাস করলে এখানে কবির বলয়ের ক্ষমতা হ্রাস পাবে।

নবীন-প্রবীণের লড়াই, ভোটে ফ্যাক্টর বিএনপির কোন্দল

এলাকার সমস্যা

সীমান্তবর্তী দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের মূল সমস্যা মাদক ও চোরাচালান। পাশাপাশি সড়ক অবকাঠামোর অবস্থাও খুব বাজে। খোদ বিএনপি প্রার্থীই তার প্রচারণায় বলেছেন, ‘আমাদের এলাকার রাস্তাঘাট গত ১৬ বছরে ভালো হয়নি। সীমান্ত এলাকা দিয়ে সব ফেনসিডিল আসে। মাদকদ্রব্য দিয়ে আমাদের দেশটা শেষ করে দিয়েছে।’

এলাকার মানুষ এ সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান চান। এজন্য তারা বেছে নিতে চান যোগ্য নেতৃত্বকে। কিন্তু বেশির ভাগ দলের নেতৃত্বের মধ্যেই এসব সমস্যার সঙ্গে জড়িত লোক আছেন। তাদের কারণে সমাধান হয় না। এবার জনতা এর একটা বিহিত করে নেবেন বলছেন।

ভোটারদের ভাবনা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপির ড. মুশফিকুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর আতাউর রহমান সরকার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জসিম, জাতীয় পার্টির জহিরুল হক খান, গণঅধিকার পরিষদের জহিরুল হক চৌধুরী, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের রফিউদ্দিন ও এনপিপির শাহীন খান। 

তবে এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। স্থানীয় কুটি চৌমুহনী বাজার, খাড়েরা, দারগা বাড়ি, মনকাশাইর, সৈয়দাবাদ মোড়, তিনলাখ পীর, তন্তর ও ধরখার এলাকা ঘুরেও তাদের প্রচারণা বেশি চোখে পড়েছে। মাঝেমধ্যে জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের কিছুটা উপস্থিতি টের পাওয়া গেছে।

কুটি চৌমুহনী বাজারে চায়ের আলাপে কথা হয় একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে। ইকবাল খন্দকার নামের একজন বলেন, ‘এবার যে-ই আসুক, আমরা সমস্যা সমাধানে জোর দেব। মাদক আমাদের যুব সমাজকে শেষ করে দিয়েছে। এটা বন্ধ করতেই হবে।’

ষাটোর্ধ্ব তৈয়্যব আলী বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগ করেছি। তারপরও ভোট দিতে পারিনি গত তিন নির্বাচনে। আমার দল যেহেতু দোষ করছে, এবার জামায়াতরে ভোট দিয়া দেখমু তারা কী করে।’

নবীন-প্রবীণের লড়াই, ভোটে ফ্যাক্টর বিএনপির কোন্দল

গাড়ি পরিষ্কারের কাজ করা শিশু মিয়া চা পান করতে করতে বলেন, ‘এহানো বিএনপি ও আওয়ামী লীগ এক হইয়া গেছে গা। ভোটে আগ্যাইয়া রইছে হেরা। তয় জামায়াতের অবস্থাও অহন ভালা।’

বুগির গ্রামের বাসিন্দা জাহিদ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় সেমিস্টারে পড়ছেন। ছুটিতে বাড়ি এসেছেন। দোকানে আলাপের ফাঁকে তিনি বলেন, ‘কে বা কারা প্রার্থী জানি না। আজই ঢাকা থেকে আসছি। খোঁজখবর নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব। অবশ্য ভোটকেন্দ্রে দীর্ঘ সিরিয়ালের জন্য ভোট দেওয়ার আগ্রহও তেমন নাই।’ 

দোকানে বসেই চোখে পড়ে দাঁড়িপাল্লার প্রচারণার গাড়ির। সেখান থেকে দেওয়া একটি প্রচারপত্র নেন লেশিয়ারা গ্রামের বাসিন্দা সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক আবুল হোসেন। ভোট নিয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলে তিনি হাসিমুখে উত্তর দেন, ‘ভাই হগলতেরে (সবাইকে) দেখছি। এইডা দেহনের বাকি। এইবার দাঁড়িপাল্লায় ভোটটা দিয়াম।’

নবীন-প্রবীণের লড়াই, ভোটে ফ্যাক্টর বিএনপির কোন্দল

ভোটার ও প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৯০৯ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৬৪৭ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ১৩ হাজার ২৫৬ জন। হিজড়া ভোটার ছয়জন।

এখানে সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপির ড. মুশফিকুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর আতাউর রহমান সরকার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জসিম, জাতীয় পার্টির জহিরুল হক খান, গণঅধিকার পরিষদের জহিরুল হক চৌধুরী, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের রফিউদ্দিন ও এনপিপির শাহীন খান।

এসইউজে/একিউএফ/এমএমএআর

আরও পড়ুন