ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. রাজনীতি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩

দাপুটে বিএনপির সামনে নেই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী

আবুল হাসনাত মো. রাফি , সালাহ উদ্দিন জসিম | ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে | প্রকাশিত: ০৯:৪৮ এএম, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনটি সদর ও বিজয়নগর উপজেলা নিয়ে গঠিত। আশির দশকে এই আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও নব্বইয়ের দশক থেকে টানা চারবার বিএনপি এবং চারবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয় পান। ভোটের হিসাবে দীর্ঘদিন ধরেই এই দুই দলের শক্ত অবস্থান রয়েছে আসনটিতে। তবে আওয়ামী লীগবিহীন এবারের নির্বাচনে এবং ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী তরুণ হওয়ায় ফাঁকা মাঠের সুযোগ কাজে লাগাতে চায় বিএনপি।

এই আসনে প্রার্থী কারা কারা?

এবার আসনটিতে সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার মো. খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, ১১ দলীয় ঐক্য জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আতাউল্লাহ, জাতীয় পার্টির (জাপা) মো. রেজাউল ইসলাম ভূঞা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নিয়াজুল করীম, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আয়েশা আক্তার, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. আবু হানিফ ও স্বতন্ত্র (হরিণ) মো. ওমর ইউসুফ খান। 

দাপুটে বিএনপির সামনে নেই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী

স্থানীয়রা বলছেন, ভোটের মাঠে এখনও দাপুটে বিএনপি। সদর উপজেলার নন্দনপুর, সুহিলপুর, নাটাই, ঘাটুরা এবং পৌর শহরের কাউতলী, জেলা পরিষদ মার্কেট, মুক্ত মঞ্চ, সদর হাসপাতাল রোড এলাকা ঘুরে বিএনপির প্রচারণা বেশি চোখে পড়ে। তবে এনসিপি, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রচারণাও বেশ চাঙা।

jagonews24

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখানে বিএনপির সামনে ভোটের মাঠে প্রতিযোগিতা করার মতো প্রার্থী নেই। জামায়াত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভালো কাজ করলেও জোট শরিক এনসিপিকে আসন ছেড়ে দিয়েছে। এনসিপির প্রার্থী জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে শক্ত প্রতিরোধ গড়ার পরিবর্তে দূরত্ব তৈরি করেছে। জোটের প্রধান শরিক জামায়াতের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ইসিতে করা আপিল থেকে সেই দূরত্বের শুরু। দূরত্ব ঘুঁচিয়ে এখনও দৃশ্যমান ঐক্যবদ্ধ কর্মকাণ্ড চোখে পড়েনি। যার কারণে বিএনপির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান তৈরি হয়নি নবগঠিত দলটির প্রার্থীর। 

দাপুটে বিএনপির সামনে নেই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী

ভোটার-সমর্থকরা কী চান?

এই আসনটির মূল সমস্যা বেহাল রাস্তাঘাট, নাজুক ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও তীব্র যানজট। শহরের রাস্তায় হাঁটারও সুযোগ পাওয়া দুষ্কর। এমনকি জেলা হাসপাতালে জরুরি রোগী নিয়ে গেলেও যানজটে বসে থাকতে হয়। মাদকে সয়লাব, পাশাপাশি কয়েকটি জোনে ছিনতাই হয় প্রায়শই।

স্থানীয়রা প্রত্যাশা করছেন, ক্ষমতায় যেই আসুক সদর হাসপাতালকে এক হাজার শয্যায় উন্নীত এবং জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হোক। 

শহরের মুক্ত মঞ্চে চায়ের আলাপে কথা হয় মধ্যপাড়া বর্ডার বাজারের বাসিন্দা কাদের মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা তো আর ধান-চাল চামু না। আমরা শান্তিতে চলাফেরা করতে চাই। চুরি-ছিনতাই যেন না হয়। রাস্তাঘাট যেন ভালো হয়, এটাই চাই।’ 

দাপুটে বিএনপির সামনে নেই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী

তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে বিএনপির শ্যামলের বাইরে প্রার্থী নাই। এনসিপির প্রার্থীরে কে চিনে? শ্যামল তো দীর্ঘদিন লাইগ্যা আছে। এখানে তার অবস্থা ভালো।’ 

কে ভালো? এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে আক্ষেপের সুরে এই জ্যেষ্ঠ নাগরিক বলেন, ‘আমার ঘরে ১০টা ভোটার। আমি গাড়ি চালক। স্ট্রোক করে অচল। একটা টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড চাইছি, ৫ আগস্টের পরেও দেয় নাই।’  

আরও পড়ুন:

নবীন-প্রবীণের লড়াই, ভোটে ফ্যাক্টর বিএনপির কোন্দল 

শেয়ানে শেয়ানে টক্কর, ‘ইগো’ হবে ভোটের ফ্যাক্টর 

টাঙ্গাইল-৭ আসনে ভোটের আমেজ কম, কেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে শঙ্কা 

একই জায়গায় মধ্যপাড়ার আরেক বাসিন্দা প্রকৌশলী নাঈম বলেন, ‘এখানে এককভাবে শ্যামল সাহেব (বিএনপি) জিতবে। অন্যরা তেমন অ্যাকটিভ না। এনসিপির প্রার্থীর কর্মকাণ্ড নেই। জামায়াতকে দিলেও হয়তো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হইতো।’

তিনি বলেন, ‘নাগরিক হিসেবে জনপ্রতিনিধির কাছে এক্সেস চাই। মানুষের চাহিদা যিনি বুঝতে পারবে এমন নেতা চাই। শহরে রিকশার চাপ। যার কারণে যানজট। ৫ আগস্টের পর শহরে বিশৃঙ্খলা বাড়ছে। বাইরে থেকে নিবন্ধনহীন রিকশা বেশি আসছে।’ 

দাপুটে বিএনপির সামনে নেই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী

সদর হাসপাতালের সামনে কথা হয় নগরের আরেক বাসিন্দা সেলিম আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এই হাসপাতালে আসতে অনেক কষ্ট হয়, যানজট। আমাদের শহরটা রিকশায় ভরে গেছে। শৃঙ্খলা নাই। এটিরই সমাধান চাই।’ 

ভোটের হিসাব

এই আসনে মোট ভোটার ৬ লাখ ২৪ হাজার ৬০১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ২৮ হাজার ১৮২ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৯৬ হাজার ৪১৯ জন।

এসইউজে/এসএনআর/এমএমএআর