ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. রাজনীতি

অনেক কথা হয়েছে, এবার দেশ গঠনের কাজে নামতে হবে: তারেক রহমান

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৫:৫১ পিএম, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

অনেক কথা হয়েছে, এবার সব কথা বন্ধ করে দেশ গঠনের কাজে নামতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাসাবো বালুর মাঠে অনুষ্ঠিত ঢাকা-৯ আসনের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, এই নির্বাচন শুধু ভোট দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি বাংলাদেশ পুনর্গঠনের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও অসংখ্য ত্যাগের মধ্যদিয়ে জনগণ যে ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে, তা ব্যবহার করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

তিনি বলেন, ৫ আগস্ট স্বৈরাচারের বিদায়ের মধ্যদিয়ে জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়েছে। ১২ তারিখের নির্বাচন শুধু প্রতিনিধি বাছাইয়ের দিন নয়—এটি বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার দিন।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, গত ১৬ বছরে মেগা প্রকল্পের নামে ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাট চালিয়েছে বিগত স্বৈরাচারী সরকার। ফলে জনগণের স্বাস্থ্যসেবা, রাস্তাঘাট ও মৌলিক অবকাঠামোর প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি। তিনি দাবি করেন, এ সময়ে দেশ থেকে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, অথচ হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি।

আরও পড়ুন
ধানের শীষ স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতীক

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সারাদেশে ভাঙাচোরা সড়ক, জলাবদ্ধতা ও ড্রেনেজ সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হবে। সরকার গঠনের পরপরই এসব বিষয়ে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ঢাকা-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিবকে ‘এলাকার সন্তান’ আখ্যা দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, এলাকার উন্নয়ন করতে হলে এমন একজন প্রতিনিধিই প্রয়োজন, যিনি এই এলাকার মানুষের দুঃখ-কষ্ট বোঝেন। যার বেড়ে ওঠা এই এলাকায়, মানুষের সঙ্গে যার প্রতিদিনের সম্পর্ক—একমাত্র তার পক্ষেই এই এলাকার প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব।

তিনি বলেন, এলাকায় খেলার মাঠের অভাব রয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করলে জনগণের চাহিদা অনুযায়ী খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে হাসপাতাল সম্প্রসারণ ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, শক্তিশালী আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বিএনপির সফল অভিজ্ঞতা ও রেকর্ড রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচিত হলে পরদিন অর্থাৎ ১৩ তারিখ থেকেই ঢাকা-৯ আসনে উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করা হবে। এ এলাকায় একটি খেলার মাঠ নির্মাণ, হাসপাতাল সুবিধা বৃদ্ধি, রাস্তাঘাট উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজ হাতে নেওয়া হবে।

এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকা-৯ আসনে যেসব বাঁশের সেতু রয়েছে, সেগুলো ধাপে ধাপে পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দুর্নীতি দমন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার শাসনামলে দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করেছিলেন এবং প্রতিষ্ঠানটিকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিয়েছিলেন। সে কারণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার অভিজ্ঞতা বিএনপির রয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে একমাত্র বিএনপিই সক্ষম।

খালেদা জিয়ার উন্নয়নমুখী দৃষ্টিভঙ্গি ও আপসহীন নেতৃত্বের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশ যদি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে, তাহলে বাংলাদেশ কেন পারবে না—এই প্রশ্ন রেখে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

জনসভায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও বিপুলসংখ্যক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। জনসভা শেষে তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে হাবিবুর রশিদ হাবিবের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেন। তিনি বলেন, এই এলাকার মানুষের পাশে যিনি সবসময় ছিলেন, তাকেই আপনারা নির্বাচিত করুন। ১২ তারিখে ধানের শীষে ভোট দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করুন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হবে, চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

কেএইচ/ইএ