ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. রাজনীতি

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যর্থ হলে জনগণ বসে থাকবে না: জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৩:০৮ এএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে জনগণ বসে থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো যদি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণ বসে থাকবে না। জনগণ তাদের দায়িত্ব ঠিকই পালন করবে এবং সুষ্ঠু ভোট আদায় করে ছাড়বে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন। সেই সঙ্গে তিনি নির্বাচনে শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনীগুলোকে তাদের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান।

বৈঠকে শফিকুর রহমানসহ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ ঐক্যর সব দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা কারও আনুকূল্য চাই না। আবার অন্য কাউকে আনুকূল্য দেখানো হোক সেটাও দেখতে চাই না। অতীতের মতো আর কাউকে দেখতে চাই না যে সরকারি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী-কর্মকর্তা হয়ে কেউ নির্দিষ্ট কারও পক্ষ নেবেন। এটা আমরা একেবারেই দেখতে চাচ্ছি না। আমরা চাই সবাই নিরপেক্ষতার সঙ্গে যার যার জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করবেন।’

বৈঠকের বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আজ আমরা জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের শীর্ষ দায়িত্বশীলরা একসঙ্গে বসেছিলাম। আমরা দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা করেছি। আগামী ১২ তারিখ ইনশাআল্লাহ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একই দিনে দুটি ভোট। একটি গণভোট, দ্বিতীয়টি হচ্ছে সরকার গঠনের জন্য ভোট।’

গণভোটে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সারাদেশে সর্বত্র আমাদের প্রচারণার শুরু থেকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’, এই মোটিভেশন নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি এবং আমরা আশাবাদী ইনশাআল্লাহ বিপুল ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হবে। ‘হ্যাঁ’ যদি বিজয়ী হয় তাহলে বাংলাদেশ জিতে যাবে। ‘হ্যাঁ’ যদি বিজয়ী হয় তাহলে ইনশাআল্লাহ জুলাই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হওয়ার পথ খুলে যাবে। ‘হ্যাঁ’ যদি বিজয়ী হয় তাহলে অতীতের নির্যাতন-নিপীড়নের অবসান ঘটবে এবং তার যৌক্তিক ন্যায়সংগত বিচার হবে। ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে আবরার ফাহাদ থেকে শুরু করে আমাদের বিপ্লবী শরিফ ওসমান হাদি পর্যন্ত সবার বিচারটা তাদের পরিবার পাবে। এই যে ১৪০০ শহীদ, যারা জীবন দিয়ে জাতিকে জীবন এনে দিল, তাদের প্রতি আমরা গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি এবং সেই সঙ্গে সব জুলাই যোদ্ধার প্রতি।’

দল ও জোটের অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল দাবি করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা জোটের দলগুলা সবসময় সংস্কারের পক্ষে ছিলাম। আমরা পরিবর্তনের পক্ষে ছিলাম। জাতি অতীতের রাজনীতির ভুক্তভোগী এবং এই জাতির অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। ৫৪ বছরে এই জাতি বহুদূর এগিয়ে যেতে পারতো। দুর্নীতি-দুঃশাসনের কারণে জাতি এগুতে পারেনি। আমাদের অঙ্গীকার হচ্ছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থা এবং আমরা সমাজে সুশাসন বা গুড গভর্নেন্স দেখতে চাই। এর সঙ্গে সঙ্গে আমরা সমাজের সর্বত্র ন্যায়বিচার কায়েম করতে চাই। এই দুটি জিনিস যদি নিশ্চিত করা যায় তাহলে আমাদের সমাজ যেভাবে পশ্চাৎপদ হয়ে পড়ে আছে এ অবস্থা থেকে উত্তরণ হবে।’

যুবকদের আকাঙ্ক্ষা ছিল তারা হাতে কাজ নিয়ে দেশ গড়তে চায়, তারা কোনো ভাতা বা কারও কোনো দয়া দেখতে চায় না উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘যুবকরা নিজেই এই বাংলাদেশ গড়ার গর্বিত অংশীদার হতে চায়। এক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। তাদের হাতে ভাতা নয়, বরং তাদের উপযুক্ততা অনুযায়ী কাজ তুলে দিয়ে বলতে চাই, এবার তোমরাই বাংলাদেশটা গড়ো।’

‘আমরা আসলে তরুণদের হাতেই বাংলাদেশ তুলে দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। পরপর চারটি নির্বাচনে মানুষ তাদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী ভোট দিতে পারেনি। ২০০৮ সালের নির্বাচন থেকে শুরু করে গণরায়ের কোনো প্রতিফলন হয়নি। এবারের নির্বাচনে আমরা স্পষ্টতই দেখতে পাচ্ছি যে মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। যাদের ভোট গ্রামে আছে তারা দলে দলে অনেকটা ঈদের উচ্ছ্বাস এবং আনন্দের মতো নাড়ির টানে গ্রামে ফিরে যাচ্ছে। সেখানে তারা ভোট দিতে চায় এবং তারা তাদের মনের মতো সরকারও দেখতে চায়,’ যোগ করেন তিনি।

আশাবাদ ব্যক্ত করে জামায়াত আমির জানান, গণরায় প্রতিফলিত হলে বাংলাদেশ ইনশাআল্লাহ নতুন রাজনীতির দিকে আগাবে এবং নতুন সে বাংলাদেশে জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হবে।

জনগণের সচেতনতা এবং ক্ষেত্রবিশেষে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধেই সব অপতৎপরতার উপযুক্ত জবাব হতে পারে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি আমাদের যুবসমাজ ঘুমিয়ে পড়েনি। তাদের অসমাপ্ত দায়িত্ব পালন করার জন্য তারা এই নির্বাচনকে সফল করে তুলবে ইনশআল্লাহ যে কোনো মূল্যের বিনিময়ে। কেউ অন্য কিছু করতে চাইলে আমরা অনুরোধ করবো, জনগণ যেন নিজের অধিকারের পক্ষে মজবুত হয়ে দাঁড়িয়ে যায় এবং স্পষ্ট জবাব দিয়ে দেয়। আমরা আশা করছি জনতারই বিজয় হবে শেষ পর্যন্ত।’

পেছন পথে কেউ এসে কিছু করে সফল হতে পারবেন বলে মনে করেন না জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত আছেন, নির্বাচন কমিশন; তারপর নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে যারা নিয়োজিত এবং যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত, শৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত, তাদের সবার প্রতি আমাদের অনুরোধ- প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে এ দেশ আপনাদেরও, আপনারা ন্যায়নিষ্ঠভাবে, নিরপেক্ষভাবে, সুষ্ঠুভাবে আপনাদের দায়িত্ব পালন করবেন। তাহলে জনগণের ভালোবাসা পাবেন, সমর্থন পাবেন এবং জনগণ এই কাজের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে অবশ্যই আপনাদের মূল্যায়ন করবে।’

নির্বাচনের দিন বহু ধরনের গুজব ছড়ানো হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘১১ দলের পক্ষ থেকে জনগণকে আহ্বান জানাবো, কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য না পাওয়া পর্যন্ত কোনো বিভ্রান্তিমূলক কথায় মোটেই কান দেবেন না। যারা পরাজয়ের ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত, যে কোনো পক্ষ এই ধরনের যে কোন কাজ করতে পারে। মিথ্যা অপবাদ ছড়াতে পারে। ভয়ভীতি সৃষ্টির জন্য, আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য। কিন্তু না, সবকিছুকে জয় করেই ইনশাআল্লাহ আপনারা সেদিন আপনাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন এবং ভোটের রেজাল্ট হাতে না নিয়ে আপনারা কেউ ফিরবেন না। কারণ আপনি ভোট দেওয়ার পরও আপনার ভোট নয়ছয় হয়ে যেতে পারে। আবার ভোট দেওয়ার আগেও বিভিন্ন ধরনের সমস্যা, কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে পারে। এই সবকিছুকে আমরা বিশ্বাস করি, এই বীর জাতি মোকাবিলা করেই ইনশাআল্লাহ ১২ তারিখের নির্বাচনকে সফল করে তুলবে। সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠিত হবে।’

তিনি বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নতুন সরকার হবে জনআকাঙ্ক্ষার সরকার। এই সরকার হবে কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি জনতাসহ মাঝি, মজুর সবার সরকার। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সরকার। নারী-পুরুষের সরকার। শিশু, আবাল, বৃদ্ধ, বনিতার সরকার। এই সরকার কোনো দলের হবে না। এই সরকার কোনো গোষ্ঠীর হবে না। এই সরকার কোনো পরিবারের হবে না। সরকার হবে জনগণের সরকার, ইনশাআল্লাহ। আমরা সেই জনগণের বিজয়টার দিকেই মুখিয়ে আছি। আমরা জাতিকে এই বার্তাই দিচ্ছি- একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সর্ব সহযোগিতায় ১১ দল প্রস্তুত।’

দেশের কিছু কিছু জায়গায় বিশৃঙ্খলা, হামলা ও হামলার চেষ্টার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ভাবনা জানতে চাইলে জামায়াত আমির বলেন, ‘এই ধরনের বিক্ষিপ্ত-বিচ্ছিন্ন ঘটনা অতীতেও ঘটেছে, নতুন না। এগুলো মোকাবিলা করেই অতীতে জনগণ তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। আর এবারের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশের শতকরা ৪০ ভাগ ভোটার জীবনে একটা ভোটও দিতে পারে নাই। তারা এই ভোটের মাঠ নষ্ট করবে না, এটা আমরা বিশ্বাস করি। তারা বরদাস্ত করবে না। ভোটাররাই এর জবাব দেবে এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তবে আমরা চাই, শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব যে বাহিনীগুলার আছে তারা যেন তাদের দায়িত্বটা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে। তাহলে জনগণকে আর কিছু করা লাগবে না। কিন্তু কেউ যদি ব্যর্থ হয় জনগণ বসে থাকবে না। জনগণ তার দায়িত্ব ঠিকই পালন করবে এবং সুষ্ঠু ভোট আদায় করে ছাড়বে।’

নির্বাচন সুষ্ঠু ধরে ফলাফল মেনে নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। আমরা বললেই এটা সুষ্ঠু হবে না, আর সুষ্ঠু হয়নি বললেও এটা ওইরকম হবে না। যখন জনগণ বলবে যে না এটা সুষ্ঠু হয়েছে, আমরা এটা শ্রদ্ধার সঙ্গে মেনে নেব। আমরা বিজয়ী হই অথবা বিরোধী দলে বসি, এটা কোনো বিষয় না। আমরা জনগণের ওপর খুবই আস্থা রাখি। গভীর আস্থাশীল এবং আমরা বিশ্বাস করি জনগণ সঠিক রায়টি দেবে।’

‘আমরা হাতে হাত মিলিয়ে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটা সুন্দর দেশ গড়তে চাই। আগামী প্রজন্মের জন্য, নারী সমাজের জন্য, শিশুর জন্য একটা নিরাপদ স্বপ্নের দেশ গড়তে চাই,’ যোগ করেন তিনি।

আরএএস/একিউএফ