ভোট দিয়ে আমিনুল বললেন, ‘তরুণদের বাংলাদেশ গড়তে চাই’
বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক বলেছেন, ‘আগামীর যে বাংলাদেশ, সেই বাংলাদেশে তরুণদের ভূমিকা অনেক বেশি এবং আমরা তরুণদের সকল চিন্তাভাবনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে চাই।’
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ৫ মিনিটে রাজধানীর পল্লবীর ইস্টার্ন হাউজিং আহছানিয়া মিশন কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেয়ার পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্রীড়াবিদ তথা সাবেক খেলোয়াড়দের মধ্যে যে ক'জন প্রার্থী হয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক। ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী তিনি।
আহছানিয়া মিশন কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন তিনি। ভোট দেওয়ার পাশাপাশি আশপাশের কেন্দ্রগুলোও ঘুরে দেখেন। ভোটারদের, ভোটিং কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। এরপর মুখোমুখি হন মিডিয়ার।
বিজয়ের ব্যাপারে আপনি কতটুকু আত্মবিশ্বাসী? জানতে চাইলে আমিনুল হক বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, প্রায় দীর্ঘ ১৭ বছর পর আজ সবাই স্বাধীনভাবে ভোট দিচ্ছে। সকাল থেকে দেখছি, স্বতঃস্ফূর্তভাবে সবাই ভোট প্রদান করছে এবং ভোটারদেরও ব্যাপক উপস্থিতি খেয়াল করলাম। সকাল সাড়ে সাতটা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ এখন পর্যন্ত ভোট গ্রহণ সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে।’
বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনভাবে তাদের মতামত প্রকাশ করছে, এমন দাবি করে আমিনুল বলেন, ‘আমরা আশা করি দীর্ঘ ১৭ বছর পর বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনভাবে তাদের মতামতটি প্রদান করছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই স্বাধীন মতামতের মাধ্যমে আমরা একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারব। সেই জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা বিশ্বাস করি, দীর্ঘদিন ধরে আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য, দেশের জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য যে লড়াই করেছি, আজ সেই দিনটি আমাদের সাথে উপস্থিত। আশা করছি ইনশাআল্লাহ, সব ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করে আমরা আজ সুন্দরভাবে শেষ করতে পারবো।’
জামায়াতের প্রার্থীর বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ তোলেন আমিনুল। তিনি বলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন, গতকাল রাত থেকে জামাতের লোকজন বিভিন্ন কেন্দ্রে টাকা নিয়ে অনেকেই ধরা পড়েছে এবং অনেকেই জামাতের কেন্দ্র দখল করতে গিয়ে এরেস্ট হয়েছে। আমার এই নির্বাচনী এলাকায় শহীদ স্মৃতিতে দুজন জামাত-শিবির কর্মীসহ ধরা পড়েছে। তাদেরকে দুই বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে এবং অস্ত্রসহ আমাদের টপ ব্লকে একজনকে অ্যারেস্ট করা হয়েছে। এভাবে জামাত বিক্ষিপ্তভাবে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করেছে।’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অত্যন্ত দৃঢ় হাতে সব মোকাবেলা করছে এবং নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত সতর্কতার মাধ্যমে আমরা জামাতের কোনো ষড়যন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত হতে দেইনি। এখন পর্যন্ত আমরা বিশ্বাস করি, জামাতের জনসমর্থন নেই। তারা শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বট বাহিনী দ্বারা জনসমর্থন অর্জন করার চেষ্টা করেছে; কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তাদের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।’
তরুণ ভোটাররা অনেক উৎসাহ নিয়ে ভোট দিতে আসে। নারী যারা ভোটার আছে তারাও বেশ স্বতঃস্ফূর্ত ছিল। এই যে ১৭ বছর পরে তারা ভোটটা দিতে আসছে, মানে নিজের স্বাধীনতা বাক্য কায়েম করছে- এটাকে কি বাংলাদেশের নতুন স্বাধীনতা মনে করেন?
আমিনুলের জবাব, ‘অবশ্যই। কারণ দীর্ঘ ১৭ বছরের আমাদের যে আন্দোলন-সংগ্রাম, এই আন্দোলন সংগ্রামের ফল পাচ্ছি আমরা। বাংলাদেশে একটি অবাধ-সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য গত ১৭ বছরের আন্দোলনে আমাদের বহু ভাইদেরকে গুম করা হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে আমরা স্বৈরাচার মুক্ত একটি বাংলাদেশ পেয়েছি এবং স্বাধীন বাংলাদেশে আজকে সাধারণ মানুষ সবাই স্বাধীন। তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট কেন্দ্রে এসে ভোট প্রদান করছে।’
তরুণ ভোটারদের উদ্দেশ্য আমিনুল বলেন, ‘আমাদের যারা তরুণ ভোটার রয়েছে তাদের কাছে আহ্বান করব, আগামীর যে বাংলাদেশ, সেই বাংলাদেশে তরুণদের ভূমিকা অনেক বেশি এবং আমরা তরুণদের সকল চিন্তাভাবনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে চাই।’
আইএইচএস/এমএমআর