ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে যা বলছেন দেশি-বিদেশি বিশ্লেষকরা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট/ছবি: জাগো নিউজ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশি-বিদেশি বিশ্লেষকদের প্রতিক্রিয়ায় উঠে এসেছে এক দ্বৈত চিত্র। একদিকে সহিংসতামুক্ত ও শান্তিপূর্ণ ভোটের স্বীকৃতি, অন্যদিকে ভোটার উপস্থিতি ও অংশগ্রহণের মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
ভারতের কলকাতা থেকে আনন্দবাজার পত্রিকার সাংবাদিক সুদীপ্তা চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া ভোট মোটামুটি শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলেই আমার মনে হয়। তবে ভোটের হার তুলনামূলকভাবে কম ছিল। অনেকেই ভোট দিতে আসেননি—এর সুনির্দিষ্ট কারণ অবশ্য জানা নেই। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিক থেকে দেখলে, জামায়াতের বদলে বিএনপি ক্ষমতায় আসা ইতিবাচক বলেই মনে হচ্ছে।’
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রাজনীতি বিশ্লেষক মোবাশ্বের হোসেন টুটুল এ নির্বাচনের রাজনৈতিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, বড় দলের অনুপস্থিতিতে ভোট হয়েছে মূলত ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিপরীতে উদার মধ্যপন্থী রাজনীতির প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে।
তার বিশ্লেষণে, ভারত কিংবা মিশরের অভিজ্ঞতার তুলনায় বাংলাদেশের ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে দেখিয়েছেন—দেশটি একটি উদার, গণতান্ত্রিক ও মুসলিম-প্রধান রাষ্ট্র। ভোটারদের সচেতনতাকে তিনি ‘প্রশংসনীয়’ আখ্যা দেন।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) উপাচার্য ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, অতীতের সহিংস নির্বাচনের অভিজ্ঞতার বিপরীতে এবারের ভোট ছিল সহিংসতামুক্ত। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে, শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ হয়েছে এবং ফলাফলেও তার প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকাকে ধন্যবাদ জানান।
মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ প্রাণ খুলে ভোট দিয়ে তাদের পছন্দের দল, নেতা এবং প্রার্থী নির্বাচন করেছেন। মানুষের এই অগাধ ম্যান্ডেটের (জনসমর্থন) জন্য জানাই গভীর কৃতজ্ঞতা ও পরম শ্রদ্ধা। এই বিজয়ের আনন্দ আমরা ভাগ করে নিতে চাই বিজয়ী ও বিজিতের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার চর্চার মধ্য দিয়ে, যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ইতোমধ্যেই ফুটে উঠতে শুরু করেছে।
তিনি বলেন, আমার ব্যক্তিগত কোনো অভিলাষ নেই। পছন্দ কিংবা ভালোবাসা থেকে আমাকে নানা জায়গায় দেখতে চেয়ে যারা আকাঙ্খার প্রকাশ ঘটাচ্ছেন, এমন প্রচারণা থেকে বিরত থাকার আন্তরিক অনুরোধ জানাই।
মুশফিকুল ফজল আনসারী আরও বলেন, বাংলাদেশ তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য যোগ্যতম নেতৃত্ব খুঁজে পেয়েছে, এটাই আমার সবচেয়ে বড় তৃপ্তি ও আনন্দ। গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সারথি হয়ে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ হয়ে উঠুক একটি আধুনিক, স্বনির্ভর এবং মর্যাদাশালী রাষ্ট্র।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, কিছু ছোটখাটো বিচ্ছিন্ন ঘটনা বাদ দিলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। সংঘাত হয়নি, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। তার মতে, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা যদি ভবিষ্যতেও সংঘাতে রূপ না নেয়, তবে এ নির্বাচন একটি উদাহরণ হয়ে থাকতে পারে।
দীর্ঘদিনের নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক আবেদ আলী জাগো নিউজকে বলেন, ২০০১ সাল থেকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতায় এবারের ভোট শান্তিপূর্ণ ছিল। তার দাবি, হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে।
কেএইচ/এমএমকে