ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. রাজনীতি

মন্ত্রিসভা গঠনে তারেক রহমানের সামনে ‌‘অভিজ্ঞতার হিসাব-নিকাশ’

খালিদ হোসেন | প্রকাশিত: ০৯:১৮ পিএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

দলীয় নেতাদের একটি অংশ মনে করছে, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার বিতর্কিত ব্যক্তিদের মন্ত্রিসভায় না রাখাই হবে বড় রাজনৈতিক বার্তা। পাশাপাশি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জ থেকে অন্তত দুজন এমপিকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি উঠেছে।

২০০১–২০০৬: অভিজ্ঞতার আলো–ছায়া
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রিসভায় ছিলেন পূর্ণমন্ত্রী ২৮ জন, প্রতিমন্ত্রী ২৮ জন এবং উপমন্ত্রী চারজন— মোট ৬০ সদস্য। ওই সময়ের মন্ত্রিসভার কার্যক্রম নিয়ে এখনো রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।

যে মন্ত্রণালয়গুলো ছিল সমালোচনার কেন্দ্রে

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: আইনশৃঙ্খলা ও জঙ্গিবাদ নিয়ে কঠিন প্রশ্ন
২০০১–২০০৬ সময়কালে চারদলীয় জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছিল সবচেয়ে বেশি সমালোচিত খাতগুলোর একটি। ওই সময়ে একাধিক বড় ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার ঘটনা (২০০৪)
২০০৪ সালের ২ এপ্রিল চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা (সিইউএফএল) জেটিতে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ আটক করা হয়। পরে এটি ‘১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা’ নামে পরিচিতি পায়। তদন্তে উঠে আসে, এসব অস্ত্র বিদেশি উৎস থেকে এনে উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

আরও পড়ুন
মন্ত্রিসভা কেমন হবে, জানালেন মেজর হাফিজ
তারেক রহমানের বগুড়া-৬ আসন শূন্য ঘোষণা

বছরের পর বছর ধরে বিচারপ্রক্রিয়া চলা এবং সংশ্লিষ্টদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ— সব মিলিয়ে ঘটনাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদারকি ও গোয়েন্দা নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

‘বাংলা ভাই’-এর উত্থান
২০০৪-০৫ সালে উত্তরাঞ্চলে জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) তৎপরতা বেড়ে যায়। সংগঠনের এক নেতা, ‘বাংলা ভাই’ নামে পরিচিত সিদ্দিকুল ইসলাম, প্রকাশ্যে সমাবেশ, শাস্তি কার্যকর এবং তথাকথিত জঙ্গিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায়।

প্রথমদিকে সরকার তার অস্তিত্ব অস্বীকার করেছিল— এই অবস্থান পরে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগও আলোচনায় আসে।

একযোগে ৬৩ জেলায় বোমা হামলা (১৭ আগস্ট ২০০৫)
২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারা দেশে প্রায় একই সময়ে ৬৩টি জেলায় পাঁচ শতাধিক স্থানে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। জেএমবি এই হামলার দায় স্বীকার করে। ঘটনাটি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হয়।

এত বিস্তৃত ও সমন্বিত হামলা গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রতিরোধ ব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে নিয়ে আসে।

ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর হামলা (২০০৪)
২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.) মাজার প্রাঙ্গণে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা হয়। এতে কয়েকজন নিহত ও অনেকে আহত হন। আন্তর্জাতিক মহলে এই হামলা গভীর উদ্বেগ তৈরি করে এবং বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা (২০০৪)
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত হন। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। পরবর্তী তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় বহু বছর ধরে রাজনৈতিক বিতর্ক চলেছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যর্থতা, তদন্তের স্বচ্ছতা ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়: লোডশেডিং, নীতি বিতর্ক ও ফুলবাড়ী প্রসঙ্গ

চারদলীয় জোট সরকারের সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় ছিল জনদুর্ভোগ ও নীতিগত বিতর্কের অন্যতম কেন্দ্র। একদিকে উৎপাদন ঘাটতি ও দীর্ঘ লোডশেডিং, অন্যদিকে জ্বালানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক— সব মিলিয়ে খাতটি তীব্র আলোচনায় ছিল।

দীর্ঘ লোডশেডিং ও উৎপাদন ঘাটতি
২০০৪–২০০৬ সময়ে দেশজুড়ে ঘনঘন লোডশেডিং জনজীবন ও শিল্প খাতে প্রভাব ফেলে। শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, সেচ মৌসুমে কৃষিতে সমস্যা এবং নগরজীবনে দুর্ভোগ— এসব নিয়ে সমালোচনা বাড়তে থাকে।

আরও পড়ুন
বিপুল জনসমর্থনে তারেক রহমানের ম্যান্ডেটকে ‘ইতিবাচকভাবে’ দেখছে ভারত
নতুন সরকারের সামনে যত কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ

তৎকালীন সরকারের ভাষ্য ছিল, পূর্ববর্তী সরকারের সময় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন না হওয়া এবং গ্যাস সরবরাহ সংকটের কারণে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। নতুন কেন্দ্র স্থাপন ও বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।

গ্যাস রপ্তানি বিতর্ক
দেশের প্রাকৃতিক গ্যাস বিদেশে রপ্তানি করা হবে কি না— এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় বিতর্ক দেখা দেয়। বিরোধী দল ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন দাবি করে, দেশীয় চাহিদা পূরণ না করে গ্যাস রপ্তানি জাতীয় স্বার্থবিরোধী হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সম্ভাব্য রপ্তানি চুক্তির আগে মজুত ও ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনা করা হবে। তবে বিষয়টি জাতীয়তাবাদী আবেগ ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার টানাপোড়েন সৃষ্টি করে।

ফুলবাড়ী কয়লা খনি আন্দোলন (২০০৬)
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ২০০৬ সালে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা পরিবেশ ও বসতভিটা হারানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

২৬ আগস্ট পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, যা জাতীয় পর্যায়ে আলোড়ন তোলে। সরকার পরে প্রকল্প বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জ্বালানি নীতি, বিদেশি বিনিয়োগ চুক্তি ও জনসম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

বিদ্যুৎ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ ও চুক্তি
স্বল্পমেয়াদি রেন্টাল বা দ্রুত বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ, কিছু বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি এবং দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীরা স্বচ্ছতার প্রশ্ন তোলে। যদিও সরকার দাবি করে, দ্রুত উৎপাদন বাড়াতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়: কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও বাজার অস্থিরতা
২০০১–২০০৬ সময়কালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও ঘটনার কারণে আলোচনায় ছিল। আন্তর্জাতিক কূটনীতি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার— বিভিন্ন ইস্যুতে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল এই মন্ত্রণালয়কে।

তাইওয়ান কাউন্সিলর অফিস বিতর্ক (২০০৪)
২০০৪ সালে ঢাকায় ‘তাইপে ইকোনমিক অ্যান্ড কালচারাল অফিস’ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন তোলে।

চীন ‘এক চীন নীতি’র প্রশ্নে আপত্তি জানায়। পরে সরকারের অবস্থান ও কূটনৈতিক সমন্বয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিরোধীরা অভিযোগ তোলে, বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ যথাযথ কূটনৈতিক বিবেচনা ছাড়া নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন
ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে নতুন রাষ্ট্রনায়কের সামনে যত চ্যালেঞ্জ
সংস্কারের পর যমুনায় উঠবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এটি পূর্ণাঙ্গ দূতাবাস নয়, বরং অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের একটি দপ্তর। তবে বিষয়টি কিছু সময়ের জন্য ঢাকা–বেইজিং সম্পর্কের আলোচনায় প্রভাব ফেলেছিল।

নিত্যপণ্যের বাজার অস্থিরতা
২০০৪–২০০৬ সময়ে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল ও চিনি— এসব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্বাভাবিক ওঠানামা দেখা যায়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি ও আমদানি নির্ভরতার কারণে দেশে মূল্যস্ফীতি চাপ তৈরি করে।

ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট, আমদানি অনুমোদন ও শুল্কনীতির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করে, বাজার নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি।

তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে; বাজার মনিটরিং ও টাস্কফোর্স গঠনের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

ডব্লিউটিও ও আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি
এই সময়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) আলোচনায় বাংলাদেশ সক্রিয় থাকলেও রপ্তানি বহুমুখীকরণে অগ্রগতি সীমিত ছিল— এমন মন্তব্য করেন কিছু অর্থনীতিবিদ। তৈরি পোশাক খাত কোটা সুবিধা–পরবর্তী যুগে (২০০৫) প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে।

রপ্তানি প্রণোদনা, নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা—এসব ক্ষেত্রে নীতিগত ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল।

আমদানি নীতি ও দরপত্র প্রক্রিয়া
কিছু বড় আমদানি চুক্তি ও টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্ন ওঠে। বিরোধী রাজনৈতিক মহল দাবি করে, নির্দিষ্ট ব্যবসায়ী গোষ্ঠী সুবিধা পেয়েছে। যদিও এসব অভিযোগ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করে।

যে খাতগুলো পেয়েছিল প্রশংসা
সমালোচনার পাশাপাশি কিছু মন্ত্রণালয় কার্যক্রমের জন্য ইতিবাচক মূল্যায়নও পেয়েছিল।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়: নকল রোধে গণ সচেতনতা তৈরি, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় সম্প্রসারণ, গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, ভোকেশনাল ও আইসিটি শিক্ষার প্রসার।

অর্থ মন্ত্রণালয়: বাজেট বাস্তবায়ন, রাজস্ব সংগ্রহ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ।

পরিকল্পনা ও স্থানীয় সরকার: গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, রাস্তা–সেচ–পানীয় জল প্রকল্প এবং স্থানীয় সরকার কাঠামোতে অংশগ্রহণমূলক বাজেটের প্রসার।

নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে প্রত্যাশা
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান তাজ বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু এবার ত্রয়োদশ নির্বাচনে ওই অঞ্চলের মানুষ ধানের শীষ ও তারেক রহমানের প্রতি আস্থা দেখিয়েছে।

তার মতে, এই আস্থার মূল্যায়ন করে গোপালগঞ্জের দুই জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ— এসএম জিলানী ও সেলিমুজ্জামান সেলিমকে মন্ত্রিসভায় রাখা হলে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ভিত্তি আরও শক্ত হবে। গোপালগঞ্জে এখনই নৌকার দুর্গ ভাঙার উৎকৃষ্ট সময়।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির দপ্তর সম্পাদক সাইদুর রহমান মিন্টু বলেন, মন্ত্রিসভায় এমন চেহারা দেখতে চান যারা দায়িত্ববান এবং অতীতে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, অভিজ্ঞ ও তরুণদের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা গঠন হবে।

রাজনীতি বিশ্লেষক মহিউদ্দিন খান মোহন মনে করেন, প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। সুতরাং তার মন্ত্রিসভা হতে হবে ‘ক্লিন ইমেজের’। অভিজ্ঞদের পাশাপাশি তরুণ নেতৃত্বের অন্তর্ভুক্তি জরুরি।  

তিনি বলেন, গত সরকারের সময় যারা সমালোচিত ছিলেন, তাদের পুনরায় দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়।

তার ভাষ্য, মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে পূর্ব-পশ্চিম বা বাম-ডান সমীকরণ নয়, জনগণের আস্থা অর্জনই হওয়া উচিত প্রধান বিবেচ্য। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে জিয়াউর রহমান–এর নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করা যেতে পারে— পিতা হিসেবে নয়, নেতা হিসেবে।

কেএইচ/এমএএইচ/