নাহিদ ইসলাম
খামেনি হত্যা ও ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের বার্তা ‘অত্যন্ত নতজানু’
সোমবার চট্টগ্রামে এনসিপির ইফতার মাহফিলে বক্তব্য রাখেন নাহিদ ইসলাম/ছবি: জাগো নিউজ
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত এবং দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া বার্তাকে ‘অত্যন্ত নতজানু’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম। বাংলাদেশ আবার কোনো নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কবলে পড়লো কি না—এমন সংশয়ও প্রকাশ করেছেন তিনি।
সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে চট্টগ্রামের দি কিং অব চিটাগং কনভেনশন সেন্টারে এনসিপি চট্টগ্রাম বিভাগ আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হওয়া উচিত আত্মমর্যাদাপূর্ণ ও জাতীয় স্বার্থনির্ভর। আমরা দেখেছি, মুসলিম বিশ্বের এক নেতার শাহাদাতের ঘটনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস রিলিজে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা অত্যন্ত নতজানু। এতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, কোনো পরাশক্তির স্বার্থরক্ষায় এমন অবস্থান নেওয়া হচ্ছে কি না।
তিনি বলেন, আমাদের রাজনৈতিক সংগ্রাম শুধু ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে নয়; বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি যে কোনো পরাশক্তির আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধেও। বাংলাদেশ কারও তাবেদার রাষ্ট্র হবে না।
বর্তমান সরকারের একজন উপদেষ্টাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। বলেন, কোনো পরাশক্তির স্বার্থরক্ষা বা ‘নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পুরস্কার’ হিসেবে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কি না, তা জনগণের কাছে পরিষ্কার নয়। এ বিষয়ে সরকারের ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি।
আরও পড়ুন
বাংলাদেশের বিবৃতি ঘিরে সমালোচনা, সরকার বলছে ‘ব্যালেন্সিং কূটনীতি’
মধ্যপ্রাচ্যে হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত, আহত ৭
এনসিপির এই নেতা বলেন, নতুন বাংলাদেশে এনসিপি ও ‘পতিত ফ্যাসিস্ট’ আওয়ামী লীগ একসঙ্গে থাকতে পারে না। দুর্নীতি ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এখনো শেষ হয়নি।
৫ আগস্টের পর তরুণদের শক্তিকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, জনগণের সমর্থনে এনসিপি জাতীয় সংসদে ছয়টি আসন পেয়েছে। রাজপথের আন্দোলন সংসদেও অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ বলেন, জাতীয় নির্বাচনে ১১ দলের পাওয়া সব ভোট ধরে রাখা যায়নি। সেই জনসমর্থন পুনরুদ্ধারে এখন থেকেই সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াতে হবে।
‘জুলাই সনদ’ ও গণভোটের রায় নিয়ে আদালতে রিট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আদালতকে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হলে তার পরিণতি ভালো হবে না। দ্রুত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।
চট্টগ্রামকে পীর-আউলিয়ার নগরী উল্লেখ করে দখলদারত্ব ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানান এনসিপি আহ্বায়ক। তিনি বলেন, যেসব এলাকায় এনসিপির কার্যক্রম থাকবে, সেখানে নিষিদ্ধ সংগঠন (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) হিসেবে আখ্যায়িত আওয়ামী লীগের কোনো কার্যালয় বা কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না।
অনুষ্ঠানে এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। বিএনপি ও ১১ দলীয় জোটের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। শেষে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিয়ে চট্টগ্রামকে এনসিপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেন নাহিদ।
এমআরএএইচ/এমকেআর
সর্বশেষ - রাজনীতি
- ১ মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি হতাহতের ঘটনায় জামায়াত আমিরের শোক
- ২ শহীদ পরিবারকে উপেক্ষা করলে গণতন্ত্রের লড়াই সার্থক হবে না: রিজভী
- ৩ গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: সালাম
- ৪ শিশু-কিশোরদের সামনে সঠিক সংস্কৃতি ও ইতিহাস তুলে ধরতে হবে: সালাম
- ৫ খামেনি হত্যা ও ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের বার্তা ‘অত্যন্ত নতজানু’