ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. রাজনীতি

তালিকা করে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০১:৩৬ পিএম, ০৪ মার্চ ২০২৬

তালিকা করে চাঁদাবাজদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার (৪ মার্চ) ডিএমপি সদর দপ্তরে সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মহানগর পুলিশকে দুইটা বিষয়ে অনুশাসন দিয়েছি। আমরা খুব শিগগির বিশেষ করে ঢাকা থেকে শুরু করবো। চাঁদাবাজদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। দ্বিতীয়ত যারা সন্ত্রাসী, দাগি আসামি এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে, তাদের একটি তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করা এবং জনমনে স্বস্তি প্রদান করা। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভূমিকা অগ্রগণ্য। দেশে বিগত সময়ে ফ্যাসিবাদী একটা সরকার ব্যবস্থা ছিল, সেই সময় অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠানের মতো পুলিশ বিভাগও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই জায়গা থেকে আমরা আবারও আস্থাটা সৃষ্টি করতে পারি যে, পুলিশের যে ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল, সেই ভূমিকায় আমরা আবার ফিরেছি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা মনে করি পুলিশ সত্যিকারভাবে জনগণের বন্ধু। তাদের প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাদের কপালে যে অতীতে কালিমা লেপন করে দেওয়া হয়েছিল, সেজন্য তারা নিজেরা দায়ী নয়। একটা ফ্যাসিবাদী রেজিমের কারণে কিছু সংখ্যক দুষ্টুলোক সেই কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। যার দোষটা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানের ওপর এসে পড়েছে, সেজন্য প্রতিষ্ঠান দায়ী নয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠান এমনভাবে আমাদের দাঁড় করাতে হবে যেন প্রাতিষ্ঠানিক সিস্টেমে সবাই কাজ করে। এখানে যেন কোনো ব্যক্তি সিস্টেম গড়ে না ওঠে। রুল অব ল’ আমরা প্রতিষ্ঠা করবো এবং পুলিশ আইনগতভাবেই চলবে। এখানে কোনো ব্যক্তির স্বৈরতান্ত্রিক নির্দেশ পালিত হবে না। আইন যেভাবে বলে সেভাবেই হবে। জনগণের পক্ষে বর্তমান সরকারের যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি, আমি তাদের (পুলিশ) সেগুলো অনুসরণ করতে বলবো। তাদের কাছে আমি আশা করি, তারা জনগণের পক্ষে, দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে কাজ চালিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা থাকবে যেন দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয় এবং জনগণ স্বস্তিতে থাকে।

পুলিশের ডিপার্টমেন্টাল বিভিন্ন ইকুইপমেন্টের সমস্যা আছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

জনবান্ধব পুলিশ নিশ্চিত করতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, দেশে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য বিশ্বস্বীকৃত নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুতরাং আগের সঙ্গে তুলনা চলবে না। দ্বিতীয়ত, আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, আমি প্রথম দিনেই মন্ত্রণালয়ে যোগদান করার পর বলেছি, চেইন অব কমান্ডে
পেশাদারত্ব থাকতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, আপনি প্রশ্ন তুললেন যে একজন ওসি সরাসরি মন্ত্রীকে ফোন করবেন কি না, সেটা আমরা এলাও করিনি। তবে মন্ত্রী যদি প্রয়োজন মনে করেন, যেকোনো লেভেলে যোগাযোগ করতে চাইলে সেটা করবেন। কিন্তু নিম্নপদস্থ কর্মকর্তারা তার উপরস্থ কর্মকর্তাদের ডিঙিয়ে চেইন অব কমান্ড যেন ব্রেক করে সেই সিস্টেমটা আমরা চালু করেছি। এরই মধ্যে সেটা চালু হয়েছে। এই মেসেজ আমাদের ডিপার্টমেন্টের সবার কাছে গেছে। তবে পুলিশ কমিশনার বা আইজিপি যদি মনে করেন, যেকোনো লেভেলে যোগাযোগ করবেন, কাজের প্রয়োজনে সেটা পারবেন।

ঢাকার সড়কে যানজট ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা এরই মধ্যে একটা সেল গঠন করে দিয়েছি। ডিএমপি কমিশনারকে আমরা অনুরোধ করেছি, আমাদের যে ট্রাফিক ডিপার্টমেন্ট আছে তাদের সঙ্গে বসে আমরা কীভাবে যানজট কমাতে পারি। ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা সীমাহীন হয়ে গেছে। ভিআইপি সড়কসহ প্রধান সড়কে নন-মোটরাইজড ভেহিকেল চলার কথা না, সেই জায়গায় অসংখ্য এই ব্যাটারিচালিত গাড়ি চলে, এটা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সে বিষয়ে পরিকল্পনা নিতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, আজ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে উত্তরা থেকে সচিবালয় পর্যন্ত যে সড়কটি রয়েছে, এটি আমরা ভিআইপি রোড হিসেবে জানি, এখানে প্রাথমিকভাবে আমরা এই যানবাহন চলাচলগুলো সীমিত করবো, নিয়ন্ত্রণ করবো। তারপর পরীক্ষামূলকভাবে আরেকটাতে যাবো। গ্র্যাজুয়েলি এভাবে আমরা সড়কে যানচলাচল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবো। আমরা নিজেরাই ট্রাফিক সিগন্যাল মানি না। বামের লেনটা উন্মুক্ত থাকার কথা। বামের লাইনে গিয়ে গাড়ি দিয়ে বন্ধ করে রাখি। আমরা সিটিজেন হিসেবেও যানজটের জন্য অনেকটা দায়ী। 

কেআর/ইএ