ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. রাজনীতি

ক্ষমতা বদলের জন্য জুলাই বিপ্লব হয়নি: এটিএম আজহার

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৮:৩৯ পিএম, ০৪ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের কারণেই আজ আমি সংসদে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। এ বিপ্লব আমাদের নতুন জীবন দিয়েছে। তাই এটিকে অস্বীকার করা মানে সেই নতুন জীবনকেই অস্বীকার করা।

তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব কোনো এক দলকে সরিয়ে অন্য দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য হয়নি। বরং এটি ছিল পুরোনো ব্যবস্থা ভেঙে নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। এ বিপ্লবের লক্ষ্য ছিল ক্ষমতা কিছু ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত না রেখে জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া।

শনিবার (৪ এপ্রিল) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজনে গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারি দলের অবস্থানের প্রতিবাদ এবং গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।

এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, আজ গণভোট অস্বীকার করা মানে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণের রায় অস্বীকার করা। এর মাধ্যমে আবারও ক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত করার চেষ্টা চলছে, যা অতীতে দীর্ঘ সময় ধরে দেশের মানুষ ভোগ করেছে। আমরা দীর্ঘ ১৬ বছরে এক ব্যক্তির শাসন দেখেছি। আমাদের হাজার হাজার ভাইকে জীবন দিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং সব সময়ই জনগণের পক্ষে। আমরা সব সময় জনগণের পাশে থাকি। একজন ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে জোরপূর্বক ক্ষমতায় টিকে থাকার স্বপ্ন দেখলে তা হবে বোকার স্বর্গে বাস করছেন। মনে করেন কেয়ারটেকার সরকারের আন্দোলনের কথা। কেয়ারটেকার নাকি পাগল ছাগল ছাড়া কেউ বোঝে না।

আপনারা অস্বীকার করলেন, আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করলেন, শেষ পর্যন্ত মানলেন- এমনভাবে মানলেন কেয়ারটেকার হলো, আপনারা ক্ষমতায় আসতে পারলেন না। জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন না। আমাদের রাজপথে আসতে বাধ্য করবেন না। সময় থাকতে গণভোটের রায় মেনে নেন। জনগণ আপনাদের ভালোবাসবে, শ্রদ্ধা করবে। আর যদি অবজ্ঞা করেন সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় তবে পরিণতি ভালো হবে না।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বিএনপির হয়েছে সুবিধাবাদের রোগ। অন্তর্বর্তী সরকারের যে অধ্যাদেশগুলো ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করে সেগুলো বিএনপির খুব পছন্দনীয় আর যেগুলো জনগণের জন্য ভালো সেগুলো অপছন্দনীয়। বিএনপির এখন সুবিধাবাদের রোগ হয়েছে। বিএনপি সারাদেশে না এর পক্ষে ভোট চেয়েছে আর প্রকাশ্যে হ্যাঁ এর পক্ষে বাধ্য হয়ে ভোট চেয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ মোনাফিকের রাজনীতি পছন্দ করে না। এ দেশের জনরায়কে যদি হাইকোর্ট দেখান, জনগণ রাজপথে আপনাদের মোকাবিলা করবে। জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান রাখেন। তা নাহলে সংসদে এবং রাজপথে আমরা আপনাদের প্রতিহত করবো ইনশাল্লাহ।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, জনগণের ভোটে সরকার গঠন করা বৈধ আর জনগণের ভোটে সংস্কার হবে সেটা অবৈধ? এমন দ্বিচারিতা দেশের মানুষ সহ্য করবে না। আমরা সংস্কার পরিষদের কথা বলছি। এটা নতুন কোনো কথা নয়। ঐকমত্য কমিশনে ৩০টির মতো রাজনৈতিক দল একমত হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, ভোটের আগে পর্যন্ত তারা আনুষ্ঠানিকভাবে গণভোটের বিপক্ষে বলেনি। কিন্তু ভোটের পরে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় জনগণের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর সাহস করছে। জনগণ গণভোটের মধ্যদিয়ে রাষ্ট্র কাঠামোতে যে পরিবর্তন চেয়েছে, আজ সেটা অমান্য করার পাঁয়তারা করছে।

তিনি বলেন, তারা সংবিধানের কথা বলছে, আমরা বলি, দেশ পরিচালনা করতে সংবিধান লাগবে কিন্তু সেই সংবিধান ৭২ এর মুজিববাদী সংবিধান না, শেখ হাসিনার সংবিধান না, কোনো দল বিএনপির সংবিধান না। দেশ পরিচালনার জন্য সংবিধান হতে হবে জনগণের সংবিধান। আর সেই সংবিধানে জনগণের কথা থাকবে।

আমরা তো বুঝি, আপনারা সংস্কার চান না, গণভোট চান না- কারণ আপনারা রাষ্ট্রক্ষমতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো একব্যক্তির করায়ত্ত করে রাখতে চান। গণভোট মেনে নিলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ স্বচ্ছ হবে, আপনাদের কর্তৃত্ব এককভাবে থাকবে না। সে কারণে আপনারা গণভোট মেনে নিতে চান না। গণভোট মেনে নিলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো আসবে আপনারা সেটা চান না। গণভোট কার্যকর হলে উচ্চকক্ষ হবে ভোটের পিআর অনুযায়ী আপনারা সেটা চান না। আপনারা মৌলিক কাঠামোর পরিবর্তন চান না। এ কারণেই গণভোট চান না। আমরা বলতে চাই, সংসদে আপনাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকতে পারে। কিন্তু দেশের জনগণ ৭০ শতাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজপথে আছে। এ জনগণকে কোনোভাবেই অমান্য করে আপনারা টিকে থাকতে পারবেন না। আপনাদের পতন নয়, আপনাদের সুন্দর পদক্ষেপের অপেক্ষায়। জাতিকে সঙ্গে নিয়ে আমরা অপেক্ষা করছি। সংসদে রাজপথে কথা হবে সংস্কারের জন্য।

এসময় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমাদ আব্দুল কাদের, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির মোখলেসুর রহমান কাসেমী, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. ওমর ফারুক, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম প্রমুখ।

আরএএস/এমএএইচ/