ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. রাজনীতি

কক্সবাজার-৩ আসনে ১৬৯ কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ দাবি ধানের শীষ প্রার্থীর

জেলা প্রতিনিধি | কক্সবাজার | প্রকাশিত: ০৮:২৬ এএম, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৩ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল তার নির্বাচনী এলাকার ১৬৯টি ভোট কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ দাবি করে সুষ্ঠু ও অবাধ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তার দাবি, তফসিল ঘোষণা ও নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর মিথ্যা মামলা ও হামলার মাধ্যমে ঐক্যফ্রন্ট সমর্থিত নেতাকর্মীদের এলাকা ছাড়া করা হয়েছে। এখন ভোটকেন্দ্র পাহারা দেয়ার মতো এজেন্ট পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। সম্ভাব্য এজেন্ট ও প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ২৬টি মামলায় আড়াই হাজার নেতাকর্মীকে আসামি ও জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দেড়শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ফলে নারী-পুরুষ সব ধরনের ভোটাররা এখন ভোটকেন্দ্রে যেতে ভয় পাচ্ছে। এরপরও আন্দোলনের অংশ হিসাবে আমরা নির্বাচন করে যাচ্ছি। তাই ৩০ ডিসেম্বর সকল ভোটারকে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসার আকুতি জানান তিনি।

লুৎফুর রহমান কাজল শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের কলাতলী সড়কস্থ তার নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিপন্ন গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কক্সবাজার-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়েছি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে পুলিশের গায়েবি মামলা ও গ্রেফতার এবং নির্বাচনী প্রচারণায় নৌকা প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের হামলাও শুরু হয়। কক্সবাজার সদর-রামু তে প্রায় আড়াই হাজার নেতা-কর্মী, সমর্থককে মিথ্যা অভিযোগে আসামি করে ২৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ধানের শীষের প্রার্থী বলেন, এসব মামলায় ইতোমধ্যে কক্সবাজার জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মমতাজুল ইসলাম, ঈদগাঁও সাংগঠনিক উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শওকত আলম, কক্সবাজার পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল কাশেম, রামু উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান, ঈদগাঁও সাংগঠনিক উপজেলা যুবদলের সভাপতি আজমগীর, জেলা যুবদল নেতা জাহেদুল ইসলাম জাহেদ, সৌদি আরব মক্কা প্রবাসী বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস শুক্কুরসহ দেড়শতাধিক ব্যাক্তি গ্রেফতার হয়ে জেলে রয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে কেন্দ্রের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ এবং সম্ভাব্য পোলিং এজেন্ট, সক্রিয় অন্যান্য দায়িত্বশীলদের সনাক্ত করে করে আসামি করা হয়। যাতে নির্বাচনে প্রচারণা চালাতে সঙ্কটে পড়ি। পুলিশের ভয়ে কক্সবাজার-৩ আসনের ১৬৯টি ভোটকেন্দ্র এলাকায় এখন ২৩দলীয় জোট তথা ধানের শীষ প্রতীকের কোনো সক্রিয় নেতা-কর্মী নেই বললেই চলে।

লুৎফুর রহমান বলেন, গত ১০ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর দিন থেকে ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধাদান, কর্মী-সমর্থকদের ওপর সশস্ত্র হামলা, ঘর-বাড়ি, দোকানপাট, নির্বাচনী গাড়ি ও অফিস ভাঙচুর, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা ছিল প্রতিদিনের ঘটনা। গত ১০ ডিসেম্বর রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইউনুছ ভুট্টোর নেতৃত্বে ধানের শীষের কর্মী-সমর্থকদের ওপর সশস্ত্র হামলায় রামু উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আনচারুল হকসহ ৭-৮ জন কর্মী গুরুতর আহত হন।

তিনি বলেন, গত ১২ ডিসেম্বর একই উপজেলার ধেচুয়াপালং রাবেতা হাসপাতালের সামনে খুনিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মাবুদের নেতৃত্বে সশস্ত্র হামলায় ধানের শীষের ১২-১৩ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। একই দিন কাউয়ারখোপ বাজার এলাকায় নৌকার প্রার্থী সাইমুম সরওয়ার কমলের উপস্থিতিতে ৩০-৩৫জনের সশস্ত্র দুর্বৃত্ত ধানের শীষের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করে। এ হামলায় রামু উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আব্দুল্লাহ আল-মামুনসহ ১০-১২জন নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হন।

ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী আরও বলেন, একই দিন রাত ৮টার দিকে ফতেখারকুল ইউনিয়নে নৌকার সশস্ত্র সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা হামলা করে রামু উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেরাজ আহমদ মাহিনসহ ১৭-১৮জনকে আহত করে। হামলাকারীরা রামু চৌমুহনীতে স্থাপিত ধানের শীষের নির্বাচনী কার্যালয়টি ভাঙচুর করে। ১৩ ডিসেম্বর গভীর রাতে রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নে ধানের শীষের নির্বাচনী অফিসটি নৌকা প্রতীকের সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা ভাঙচুর করে ও অফিসের মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় এলাকায় ব্যাপক ত্রাস সৃষ্টি করে। গত ২১ ডিসেম্বর বিকালে কক্সবাজার শহরের ঝাউতলা গাড়ির মাঠের ধানের শীষের নির্বাচনী অফিসে এসে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা ভাঙচুর ও লুটপাট করে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, ধানের শীষের অফিস ভাঙচুর করে নৌকা প্রতীকের সমর্থকেরা নিয়ে গেলেও ধানের শীষের ২১৯জন নেতা-কর্মীকে আসামি করে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। একইভাবে প্রত্যেক দিন কক্সবাজার এবং রামুতে নৌকা প্রতীকের দুর্বৃত্তরা ধানের শীষের নিরীহ নেতা-কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়ে ধানের শীষের প্রচারণাকে প্রতিনিয়ত বিঘ্নিত করার চেষ্টা করেছে।

লুৎফুর রহমান দাবি করেন, এতে ভোটারদের মনে ভীতির সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে নারী ভোটারেরা চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। নৌকা প্রতীকের সমর্থকদের উদ্দেশ্য হলো- ৩০ডিসেম্বর নির্বাচনের দিন কোনো ভোটার যাতে ভোট কেন্দ্রে না আসে। ভোটকেন্দ্র ভোটার শূন্য থাকলে সেই সুযোগে নৌকা প্রতিকের লোকজন বিনা বাঁধায় ভোটডাকাতি করে নিতে পারবে। আমার ধারণা, এটা ভোট ডাকাতির জন্য তাদের পূর্ব পরিকল্পনার অংশ। এজন্য আসনের ১৬৯টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাান। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদনও করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, যেকো নোন্রতিকুল পরিবেশ উপেক্ষা করে ভোট কেন্দ্রে ভোট প্রয়োগ করেই বাড়ী ফিরবেন। সর্বস্থরের নেতা-কর্মীসহ ধানের শীষ প্রতীকের সক্রিয় সমর্থকদের সু-সংগঠিত থেকে ২৯ ডিসেম্বর বিকাল থেকেই পালাক্রমে নিজ নিজ ভোট কেন্দ্রে সমন্বিত দায়িত্ব পালন করে কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষরিত ভোটের ফলাফল হাতে না আসা পর্যন্ত সবাইকে নিজ নিজ ভোট কেন্দ্রে অবস্থান করারও আহ্বান জানান তিনি।

মাঠ প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, আনসার, সেনাবাহিনী, ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ও জুডিসিয়্যাল বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটসহ নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট সবাই জাতির গর্ব ও দেশের সম্পদ উল্লেখ করে নির্বাচনে তাদের নিরপেক্ষ ও ইতিবাচক ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি।

তিনি সুষ্ঠু ভোটানুষ্ঠানে সহযোগিতা করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতিও আহ্বান জানান।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন বলেন, সব কেন্দ্রেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ভোটাররা যেন নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পারে সে উদ্যোগ নেয়া আছে। কোনোনেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ করে রাখা হয়নি।

সায়ীদ আলমগীর/এমবিআর/এমকেএইচ

আরও পড়ুন