লড়াই একটা হবে, দিন তারিখ দিয়ে নয় : দুদু
সরকারবিরোধী আন্দোলন প্রসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, লড়াই একটা হবে, দিন তারিখ দিয়ে নয়। লড়াই হবে ফ্যাসিবাদ ,স্বৈরতান্ত্রিক সরকার, লুটেরা-যারা ব্যাংককে ফাঁকা করেছে, যারা এই দেশের গণতন্ত্রকে বিপণ্ন করেছে তাদের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, এই লড়াই বেগম জিয়া, শহীদ জিয়া, সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লড়াই।
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা এবং গ্যাসের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারা বন্ধের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা বলেন শামসুজ্জামান দুদু।
দুদু বলেন, ‘অপশাসনকে রোধ করতে বেগম জিয়াকে আগে মুক্ত করতে হবে। বেগম খালেদা জিয়াকে জেল থেকে মুক্ত করে আনার অর্থই হচ্ছে অপশাসনকে রোধ করা। তারেক জিয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনার অর্থই হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধকে সম্মানিত করা। এই গোলামির জিঞ্জির ভেঙে ফেলার অর্থ হচ্ছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছে তাদের প্রতি সম্মান করা।’
তিনি বলেন, ‘এজন্য আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই, এই ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটাই। পতন ঘটানোর জন্য প্রথম কাজ বেগম জিয়াকে মুক্ত করা। আর দ্বিতীয় কাজ হচ্ছে অপশাসনকে উচ্ছেদ করা। তাহলে দেশে গণতন্ত্র ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।’
দুদু বলেন, দেশের সর্বক্ষেত্রে হিটলারের ছায়া আমরা লক্ষ্য করছি। দেশে ভোট বলে কিছু নেই। নির্বাচন পদ্ধতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এখন যারা জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন তারা কী অবস্থায় ছিলেন তা তখনকার পত্রপত্রিকা দেখলে বোঝা যায়। এখন উপজেলা নির্বাচন হচ্ছে, কিছুদিন আগে উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হয়েছে। সে নির্বাচনে কী হয়েছে আপনারা দেখেছেন। আপনারা দেখেছেন ডাকসু নির্বাচন। এই ডাকসু ভাষা আন্দোলনের প্রতীক, ৬৯ এবং ৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী। সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষক, ছাত্র এবং সরকার ইসির বুদ্ধিতে যে নির্বাচন করেছে এটি কোনোভাবেই জাতি মেনে নিতে পারে না। এটাও কোনো নির্বাচন হয়নি।’
দুদু বলেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশে একদিন মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। এখন তার লেশমাত্র বাংলাদেশ নেই। সেই গৌরবময় ইতিহাস ফিরিয়ে আনার জন্য এখানে যারা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য দাঁড়িয়ে আছেন, সেই মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে আমরা আছি ছাত্রসমাজ, এ দেশের যুবসমাজ, মেহনতী, শ্রমিক, কৃষক-সকলেই তাদের সঙ্গে আছে।’
আয়োজক সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি হাজি আবুল হোসেনর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত সৈয়দ ইব্রাহিম, বিএনপি'র যুগ্ন মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি ও কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, কাদের সিদ্দিকী প্রমুখ।
কেএইচ/এসআর/এমকেএইচ
আরও পড়ুন
সর্বশেষ - রাজনীতি
- ১ ১৮ বছর রাজপথে যুদ্ধ করেছি, এখন মূল্যায়ন না হলে কষ্ট লাগে
- ২ সংসদের নেতিবাচক সংস্কৃতি মুছে ফেলতে চায় বিএনপি: সালাহউদ্দিন আহমদ
- ৩ এক দলের জায়গায় আরেক দল বসেছে, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি: নাহিদ
- ৪ সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানার বিরুদ্ধে বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জামায়াতের
- ৫ অন্তর্বর্তী সরকার কোনো চুক্তি নিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেনি